kalerkantho


চার দশক পেরিয়ে ফিডব্যাক

আনুষ্ঠানিক যাত্রার ৪০ বছর পেরিয়ে এলো ব্যান্ড ফিডব্যাক। চার দশকের এই ব্যান্ড নিয়ে লিখেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ভোকালিস্ট ফোয়াদ নাসের বাবু

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চার দশক পেরিয়ে ফিডব্যাক

[বাঁ থেকে] রায়হান আল হাসান, এনাম এলাহী টন্টি, ফোয়াদ নাসের বাবু, লাবু রহমান, শাহানুর রহমান লুমিন ও মোহাম্মদ দানেশ

শুরুর গল্প

১৯৭৮ সাল, ব্যান্ড ‘আলট্রাসোনিকস’-এর কয়েক সদস্যের সঙ্গে আমরা কয়েকজন মিলে গড়লাম ‘ফিডব্যাক’। শুরুতে নাম ছিল ‘ফিডব্যাক টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি’। সদস্য ছিলেন এরশাদ মঈনুদ্দিন পপ্সি [ড্রামস], মুরাদ রহমান [বেজ গিটার], সেলিম হায়দার [লিড গিটার], কিংসলে রিক্টার [রিদম ও ভোকাল], স্যান্ড্রা হফ [ভোকাল], জাকিউর রহমান [গিটার ও ভোকাল] আর আমি কিবোর্ডিস্ট। ম্যানেজার ছিলেন হাফিজুর রহমান।

এগিয়ে চলার দিনগুলো

শুরুর দিনগুলোতে বেশ এক্সাইটেড ছিলাম। তখনকার বিভিন্ন জনপ্রিয় গান গাইতাম। ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে শুরু করে। ডাক আসে তত্কালীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল থেকে। সেখানে সপ্তাহে তিন দিন পারফর্ম করার সুযোগ পাই। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত টানা পারফরম করেছি। এর মাঝে কয়েকজন সদস্য বিদেশ চলে যান। যুক্ত হন পিয়ারু খান ও মাকসুদুল হক। এ সময় ব্যান্ডের নাম থেকে ‘টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি’ বাদ দেওয়া হয়।

প্রথম কনসার্ট ও রেকর্ড

ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাফল্যের পর সিদ্ধান্ত নিই, সাধারণ মানুষের সামনেও হাজির হব। ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ লিও ক্লাবের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথম পাবলিক কনসার্ট। দারুণ সাড়া ফেলল। ১৯৮১ সালে বিটিভির একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের জন্য প্রথম গান রেকর্ড করি—‘এই দিন চিরদিন’।

যত অ্যালবাম

১৯৮৫ সালে সারগাম থেকে বের হয় প্রথম অ্যালবাম ‘ফিডব্যাক’। দুই বছর পর একই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ‘উল্লাস’। ১৯৯০ সালে তৃতীয় অ্যালবাম ‘মেলা’। অ্যালবামটি শ্রোতারা খুব ভালোভাবে গ্রহণ করে। মনে আছে, ওই সময় এক শ্রোতা বলেছিলেন, ‘মেলা’ এতবার শুনেছেন যে শুনতে শুনতে ক্যাসেটের ফিতা ছিঁড়ে গিয়েছিল! ১৯৯২ সালে কলকাতার এইচএমভি থেকে প্রকাশ হয় চতুর্থ অ্যালবাম ‘জোয়ার’। এটিই ছিল এইচএমভি থেকে কোনো বাংলাদেশি ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম। এরপর একে একে মুক্তি পায় ‘বঙ্গাব্দ ১৪০০’ [১৯৯৪], ‘দেহঘড়ি’ [১৯৯৫], ‘বাউলিয়ানা’ [১৯৯৬], ‘আনন্দ’ [১৯৯৯], ‘এই শতাব্দীর ফিডব্যাক’ [২০০০], ‘শূন্য’ [২০০২] ও ‘এখন’ [২০১৫]।

বর্তমান লাইনআপ

চার দশকের দীর্ঘ যাত্রায় ফিডব্যাকের সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হয়েছেন, চলেও গেছেন। অনেকের ভালোবাসায় মিশে আছে ‘ফিডব্যাক’। তাঁদের মধ্যে আছেন মুরাদ হোসেন, মাকসুদুল হক, ওমর খালেদ রুমি, মুসা রহমান, রেশাদ মাহমুদ, হাফিজুর রহমান প্রমুখ। বর্তমানে আমাদের লাইনআপে আছেন—লাবু রহমান [গিটার ও ভোকাল], শাহানুর রহমান লুমিন [ভোকাল], এনাম এলাহী টন্টি [ড্রামস ও পারকাশন], রায়হান আল হাসান [ভোকাল ও অ্যাক্যুস্টিক গিটার], ফোয়াদ নাসের বাবু [কিবোর্ডস] ও মোহাম্মদ দানেশ [বেজ গিটার]।

অর্জন

শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমাদের বড় অর্জন। তাদের ভালোবাসাই আমাদের বেশ কিছু পুরস্কার এনে দিয়েছে—১৯৯৫ সালে ‘যায়যায়দিন বেস্ট ব্যান্ড অ্যাওয়ার্ড’ ও ২০১৭ সালে ‘আরটিভি বেস্ট ব্যান্ড অ্যাওয়ার্ড’।

আগামীর চিন্তা

খুব বেশি চিন্তাভাবনা করে আমরা এতদূর আসিনি। যখন যা ভালো লেগেছে সেটাই করার চেষ্টা করেছে ‘ফিডব্যাক’। বাংলা রক গানের স্বর্ণসময় দেখে এসেছি। এখনো সোনালি সময়টা পিছু ডাকে। কিন্তু পিছুটান থাকলে তো চলবে না। ১০ বছর পর ৫০ পূর্তি হবে ফিডব্যাকের। তবে আমাদের চোখ ৪৫-কে ঘিরে। সে উদ্দেশ্যে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হতে চাই শ্রোতাদের সামনে।

জনপ্রিয় যত গান

আমার মতে ফিডব্যাকের শ্রোতাপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘মৌসুমী’, ‘চিঠি’, ‘আমার নতুন আকাশে’, ‘মেলা’, ‘ফিরো এসো’, ‘ময়ূরী আকাশ’, ‘মাঝি’, ‘করি মানা’, ‘জনম দুঃখী’, ‘আদম হাওয়া’, ‘মন আজ আমার’, ‘কেমন আছি’, ‘ফসলের গান’, ‘প্রতারণা’, ‘এক আকাশ’, ‘হূদয়ে হূদয়ে’ ও ‘উড়ু উড়ু মনটা’।


অনুলিখন : আতিফ আতাউর



মন্তব্য