kalerkantho


তারকাসন্তান বিতর্ক

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তারকাসন্তান বিতর্ক

অনেকেই এড়িয়ে চলেন আমাদের

বাপ্পারাজ

সেলিব্রিটি সন্তানের সুবিধা কম, অসুবিধা হাজারটা। শুরুতেই বাবার সঙ্গে ছেলের তুলনা করে ফেলে দর্শক। তারপর যে সমস্যাটা হয়, আমি রাজ্জাক সাহেবের ছেলে, অনেকে আমার সঙ্গে মিশতেও সাহস পান না। অনেকেই ভাবেন, এই ছবির প্রস্তাব নিয়ে যাব, তাঁর বাবা যদি শোনেন, কী বলবেন! পরিচালক অন্যদের বেলায় চাহিদামাফিক অভিনয় করাতে পারেন। কিন্তু আমাদের কিছু বলতে দুইবার ভাবেন। আব্বা আমাকে সিনেমায় এনেছেন সত্যি; কিন্তু কেউ বলতে পারবেন না, তিনি কাউকে বলছেন আমাকে নেওয়ার জন্য। বললে হয়তো আরো ২০টা সিনেমা আমার ক্যারিয়ারে যোগ হতো।

আমি সুবিধা পেয়েছি

দেবাশীষ বিশ্বাস

বাবার ক্ষেত্র সিনেমা। কিন্তু উপস্থাপনায় সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতায় আমি তারকা হয়েছি। ১৬-১৭ বছর ধরে নিজের দক্ষতাতেই জায়গা তৈরি করেছি। এখানে আমার কোনো সমস্যা হয়নি, সুবিধাও হয়নি। সিনেমায় আমার কাছে এক্সপেকটেশন অনেক বেশি দর্শকের, দীলিপ বিশ্বাসের ছেলে বলে কথা! হ্যাঁ, এখানে আমি সুবিধা পেয়েছি। বাবা যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন তাঁদের কাছে কিছু চাইলে ফিরিয়ে দেননি। অসুবিধা হলো তুলনার বিষয়টা। যেমন বাবা শতভাগ সফল পরিচালক, আমি ততটা নই। চারটি সিনেমা বানিয়েছি—দুটি ভালো গেছে, দুটি খারাপ। তবে দিন শেষে যে যত বড় সেলিব্রিটি সন্তানই হোক, প্রতিভা থাকতে হবে। প্রতিভা না থাকলে একটা পর্যায়ে থেমে যেতেই হবে।

জায়গাটা নিজেকেই করে নিতে হবে

আঁখি আলমগীর

সুবিধা একটাই, মিডিয়ার মানুষ আমাকে আগে থেকেই চিনতেন। অসুবিধার মধ্যে প্রথমটি হলো বিখ্যাত মা-বাবার সন্তানের কাছে অডিয়েন্সের চাওয়া অনেক বেশি। ভাবে এসেই হয়তো মা-বাবার মতো ওরকম একটা কিছু করে ফেলবে। একজন আলমগীর হওয়া তো মুখের কথা নয়! আমি গান শুরুর আগে অভিনয় করেছিলাম। শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। আমার পরিচিতিটা কিন্তু তখন থেকেই। সবার ধারণা ছিল, আমি অভিনেত্রী হব। সেই ধারণা ভেঙে গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং এত দিন দাপটের সঙ্গে কাজ করা—এটা যুদ্ধ জয়ের মতোই। আমার মা-বাবা যেমন পার্সোনালিটি বা হাইটের মানুষ, তাঁরা কখনো কোনো কাজের জন্য কারো কাছে রিকোয়েস্ট করবেন, সেটা আমি কল্পনাও করিনি। বাবা আমাকে বলে দিয়েছেন, শোবিজে আসো সমস্যা নেই; কিন্তু জায়গাটা নিজেকেই করে নিতে হবে। আমি শখে গান করি। জনপ্রিয় হয়েছি বলেই নিয়মিত হতে পেরেছি।

খারাপ করলে তির্যক বাণী শুনতে হয় বেশি

ইরেশ যাকের

তারকাসন্তান হওয়ার সুবিধাটাই বেশি। কিন্তু সেই সুবিধার একটা লাইফটাইম আছে। আমার মতো একজন প্রতিভাবান ছেলেকে বেশি সময় দিতে হয়েছে নিজেকে প্রমাণ করার। 

আর অসুবিধা হলো, ভালো করলে যতটা না প্রশংসা পাই খারাপ করলে তার চেয়ে বেশি তির্যক বাণী শুনতে হয়। ভালো করলে বলে, তুমি তো ভালো করবেই। অভিনয় তো তোমার রক্তে। প্রতিটি জেনারেশন কিন্তু প্রতিটি জেনারেশনকে নিজেদের মতো তুলনা করে। একটি জেনারেশন মা-বাবার সঙ্গে তুলনা করেছে। কারণ তারা মা-বাবার কাজের সঙ্গে অনেক বেশি পরিচিত ছিল। কিন্তু এই জেনারেশনের দর্শক মা-বাবার কাজের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত নয়। তারা আমার কাজ দেখছে। সেভাবেই আমার সমসাময়িকদের সঙ্গে তুলনা করছে। প্রমাণ দিয়েই টিকে থাকতে হবে। সারা বিশ্বে এমন অনেক উদাহরণ আছে, বাবাকে ছাড়িয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে সন্তান। আবার বাবা অনেক জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও ছেলে তাঁর ধারেকাছে ভিড়তে পারেনি।

অনুলিখন : ইসমাত মুমু

তাঁরা কী ভাবছেন?



আমাদের জড়তা থাকে ওদের থাকে না

আব্দুন নূর সজল

আমরা যারা বাইরে থেকে এসেছি, শুরুতে আমাদের জড়তা ছিল। সেটা হয়তো তারকাসন্তানদের থাকে না। আমি যদি রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে অভিনয় করতে যাই, আমার মধ্যে জড়তা আসবেই। তেমনি রাজ্জাক সাহেবের ছেলে যদি সোহেল রানা সাহেবের সঙ্গে অভিনয় করতে যায়, তখন কিন্তু তার এই ফিলটা আসবে না। কারণ ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরকে চেনেন। তাঁর কোলেও হয়তো কত চড়েছে! একজন তারকাসন্তান নিজেকে প্রমাণের একাধিক সুযোগ পায়, নতুন একটা ছেলে সেটা পায় না। তবে শেষ পর্যন্ত পরিশ্রম আর মেধারই জয় হয়।

তারকাসন্তানদের সুযোগও আসে বেশি

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব

শোবিজে যোগ্যরাই টিকে থাকে। যে তারকাসন্তানরা এখন মিডিয়ায় টিকে আছে তারা যোগ্যতাবলেই টিকে আছে। তারকাসন্তান হলে হয়তো প্রাথমিক সুবিধা পাওয়া যায়। তাদের ওপর সবার বাড়তি নজর থাকে। অমুকের ছেলে বা মেয়ে এলো, কী করছে দেখি! কাজের সুযোগও আসে বেশি। প্রাথমিক সেই সুযোগ পর্ব শেষ হলে পরে নিজের লড়াইটা লড়তে হয়।

কখনো প্লাস, কখনো মাইনাস

আফরান নিশো

তারকাসন্তানরা শুরু থেকেই প্রেসারে থাকে। যেমন রাজ্জাক সাহেবের ছেলে। এই পরিচয়টা তার একটা লিমিটেশন। বাবার সঙ্গে তাকে মেলানো শুরু করে দর্শক। আবার সুবিধাও আছে। রাজ্জাক সাহেবের ছেলে কোনো জায়গায় গেলে যে অ্যাটেনশন পাবে, অন্যরা তা পাবে না। এটা কখনো প্লাস, কখনো মাইনাস। তারকাসন্তান হলেই একের পর এক কাজ পেয়ে যাবে, এটা ভাবা ভুল।
 



মন্তব্য