kalerkantho


যে গান ফিরে ফিরে গাই

এমন কিছু গান থাকে, যেগুলো প্রায় প্রতিটি স্টেজ শোতেই গাইতে হয়। কিন্তু কেন? কী জাদু আছে গানগুলোতে! স্টেজে সবচেয়ে বেশি গাওয়া গান নিয়ে কথা বলেছেন সাবিনা ইয়াসমিন, আইয়ুব বাচ্চু, সামিনা চৌধুরী ও বাপ্পা মজুমদার। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যে গান ফিরে ফিরে গাই

সাবিনা ইয়াসমিন

সাত বছর বয়স থেকে স্টেজে গান করছি। জীবনে এত এত গান গেয়েছি যে স্টেজে গাইতে গিয়ে বাছাইয়ের সময় চিন্তায় পড়তে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি গাওয়া হয়েছে ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ নাম’ এবং ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’। স্টেজে উঠে আমি কী গাইব, শ্রোতারা আগ থেকে গানগুলোর জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। কখনো কখনো একটি গান গাওয়ার পর আবারও অনুরোধ আসে। মানুষের এই ভালো লাগাকে আমি গুরুত্ব দিই। আর তাই তাদের খুশি করার জন্যই গানগুলো গাই। নিজেও এনজয় করি। গানগুলো আমার নিজেরও অনেক প্রিয়। এর বাইরেও অনেক গান মানুষ শুনতে চায়। কিন্তু সব তো আর গাওয়া সম্ভব নয়। কিছু গান আছে আমার নিজের পছন্দের। সময়-সুযোগ বুঝে হয়তো সেগুলো করি। তখন শ্রোতাদের আগেই বলে নিই।


আইয়ুব বাচ্চু

এখানে-ওখানে যেখানেই গান করতে যাই, সবচেয়ে বেশি গাইতে হয় ‘চলো বদলে যাই’। ‘সুখ’ অ্যালবামের গান এটি। অ্যালবামটি বের হওয়ার পর থেকে এমন কোনো শো নেই, যেখানে গানটি করিনি। গানটি এখন আমার চেয়ে শ্রোতাদের বেশি হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে একটি শোতে গাইছিলাম। মেয়েরা আমার সঙ্গে গলা মিলিয়ে এত জোরে গাইছিল যে আমার গলাই শোনা যাচ্ছিল না। কলকাতায় গিয়েও সেদিন একই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে গানটিকে শ্রোতারা কত আপন করে নিয়েছে। গানটি শ্রোতারা বেশি ভালোবাসে, পছন্দ করে; আর তাই স্টেজে অনুরোধও আসে বেশি। বলা যায়, এটা সব গানপাগল মানুষের গান। স্টেজে উঠলেই গানটি গাওয়ার জন্য সবাই চিৎকার করতে থাকে। এই চিৎকারের মধ্যে অন্য রকম এক আনন্দ আছে। এরপর যে গানটি বেশি করা হয় সেটি হলো ‘ফেরারী এ মন’।


সামিনা চৌধুরী

পরিবেশ ও অবস্থা ভেদে স্টেজে গান করতে হয়। কোন গানটি স্টেজে সবচেয়ে বেশি গেয়েছি এটা আলাদা করে বলা খুব কঠিন। ‘ফুল ফোটে ফুল ঝরে’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘ঝিনুক ফোটা সাগর বেলায়’ গাইতেই হয়। ‘ফুল ফোটে ফুল ঝরে’ গানের সুরের মধ্যে একটা মায়া আছে। কথার মধ্যে স্যাডনেস আছে। কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের মনের কথা হয়ে গেছে। ‘কবিতা পড়ার প্রহর’-এর সুরটা এত সুন্দর। সংগীতায়োজনও চমৎকার। ‘আমায় ডেকো না’, ‘ঝিনুক ফোটা সাগর বেলায়’ গানগুলোও মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। আর তাই স্টেজে গেলেই গানগুলো করার জন্য অনুরোধ আসে। যার ফলে আমাকেও গাইতে হয়। গানগুলো গাইতে গিয়ে অন্য রকম একটা তৃপ্তি পাই, যা হয়তো মুখে বলে বোঝানো যাবে না।


বাপ্পা মজুমদার

স্টেজে যে গানটি আমার সবচেয়ে বেশি করা হয় সেটি হলো ‘আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে’ (পরী)। ২০০১ সাল থেকে প্রতিটি স্টেজ শোতেই গানটি করছি। স্টেজে ওঠার আগ থেকেই শ্রোতারা গানটির জন্য অনুরোধ করতে থাকে। প্রকাশের পরপরই গানটি জনপ্রিয়তা পায়। গানটির কথা, সুর-সংগীত হয়তো সবাইকে আকর্ষণ করে। শ্রোতারা সম্ভবত এর সঙ্গে নিজেকে কানেক্ট করতে পারে। গানটি গাইতে গেলে নিজের মধ্যেও অদ্ভুত একটা ভালো লাগা কাজ করে। মিউজিক বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যখন সবাই গাওয়া শুরু করে, তখন মনে খুব শান্তি লাগে। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। এর বাইরে ‘দিন বাড়ি যায়’, ‘গাড়ি চলে না’ও স্টেজে অনেক বেশি গাওয়া হয়।


মন্তব্য