kalerkantho


বিশ্বজিতের প্রিয় পাঁচ গান

শুধু শ্রোতাদের পছন্দে নয়, গেয়ে নিজেও তৃপ্তি পেয়েছেন এমন পাঁচটি গানের গল্প শুনিয়েছেন কুমার বিশ্বজিত্। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বিশ্বজিতের প্রিয় পাঁচ গান

তুমি ভুল করে এসেছিলে কিনা জানি না

কথা : ড. সালাউদ্দীন জাকি

সুর : লাকী আখন্দ্

বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গে এখন গানে সঞ্চারী ব্যবহার করা হয় না। শুধু অন্তরাই থাকে।

এই গানে সঞ্চারী ছিল। এটি একটি লক্ষণীয় বিষয়। গানটি নিয়ে লাকী ভাইয়ের কাছে যাই। অনেক দিন ধরে কিছু হচ্ছিল না। তিনি একরকম আমাকে বলেই দিলেন, ‘সুর আসতেছে না। কিছু হবে না মনে হয়। ’ একদিন রাঙামাটি গেলেন উনি। পাহাড়ের ওপর উঠে উনি ফোন দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ব, গানটার সুর করে ফেলেছি। ’ অসাধারণ একটা সুর। এটা আমার একটা স্মরণীয় স্মৃতিও।

যেখানে সীমান্ত তোমার

কথা : কাওসার আহমেদ চৌধুরী

সুর : লাকী আখন্দ্

এটা তো আসলে একটা মাইলস্টোন গান। গানটা করার কথা ছিল টেলিভিশনের সন্ধ্যাকালীন অনুষ্ঠানের জন্য, যেটার প্রযোজক ছিলেন মুসা আহমেদ। উনি বললেন, বিটিভির স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড করব, বাইরের মতো খরচ করার সামর্থ্য নেই। স্টুডিওতে আমাদের ঢোকার কথা ছিল সন্ধ্যায়। এমন সময় আলাউদ্দীন আলী ভাই এসে বললেন, ‘আমার ফিল্ম শুটিংয়ে যাবে কক্সবাজারে। তুমি কয়েক ঘণ্টার জন্য স্টুডিওটা আমার জন্য ছাড়ো। গানটা করলেই শুটিংটা হবে। ’ আমরা সেদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত স্টুডিওর বাইরে বসে ছিলাম। ভোর ৫টায় গানটির ভয়েস দিয়েছিলাম। এটা এমন একটা গান, সারা জীবন এটার জন্য মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা পাব।

কোনো কোনো রাত খুব বড় মনে হয়

কথা : ড. গোলাম মোস্তফা

সুর : কুমার বিশ্বজিত্

গানটার কম্পোজিশন আমার হূদয় ছুঁয়ে যায়। জীবনে যত গান গেয়েছি ওয়ান অব দ্য বেস্ট কম্পোজিশন এটার। সুর করেছি নিজেই। কিবোর্ড বাজিয়েছে মানাম আহমেদ। ও আমাকে বলল, সুরটা কিবোর্ডে তুলতে পারছি না; যদিও ও যা-ই বাজাচ্ছিল আমার ভালো লাগছিল। কিন্তু ওর ভালো লাগছে না। মানামের এটা কখনোই হয়নি, আমি অন্তত শুনিনি। তখন তো স্টুডিও পাওয়া খুব টাফ ছিল। একটা শিফট ও এমন করল। তারপর ওভাবে রেখেই চলে গেল। এক সপ্তাহ কোনো খবর নেই। তার পর একদিন জানাল, মামা, এখন শিফট নিতে পারিস। গানটার একটা প্রপার স্ট্রাকচার তৈরি করতে পেরেছি। তারপর গানটা করলাম।

যদি তোমার আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাই 

কথা ও সুর : আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

আমার স্ত্রী তখন দেশের বাইরে। আইডিয়াটা এলো সেখান থেকেই। বুলবুল ভাইয়ের সঙ্গে একটা অ্যালবাম করছিলাম তখন। তাঁকে বললাম, আমরা তো পৃথিবী ছেড়ে একদিন সবাই চলে যাব, প্রিয়জনদের জন্য যদি এমন কিছু গান রেখে যেতে পারি...! তখন এ গানটা করলেন তিনি। গানটা করার পর আমার মনে আছে যারাই সেদিন স্টুডিওতে ছিল সবার চোখে পানি এসে গেছে। মানাম ছিল কিবোর্ডে, রিদমে লিটন ডি-কস্টা। সবার চোখে পানি দেখেছি। এটা আমার জন্য একটা বড় পাওয়া। অনেক গানে ওরা বাজিয়েছে। এ ধরনের ইমোশন বা পরিবেশ কখনো তৈরি হয়নি।

মনেরই রাগ অনুরাগ

কথা : লিটন অধিকারী রিন্টু

সুর : ফরিদ আহমেদ

ফরিদ আহমেদকে আমি মামা ডাকি। তাঁর সঙ্গে আমার জনপ্রিয় কিছু গান রয়েছে। কিন্তু এ গানটার কথা আলাদা, কারণ সুরটা আমার মনে অনেক বেশি লেগেছে।


মন্তব্য