kalerkantho

বাংলাদেশি গানে...

বলিউড কাঁপানো আরমান মালিক প্রথমবারের মতো কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশি গানে। ‘তোর কারণে’ শিরোনামের গানটি এ দেশের শ্রোতারা গ্রহণও করছে বেশ। এই শিল্পীকে নিয়ে লিখেছেন নুসরাত জাহান নিশা

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশি গানে...

নাম শুনে যাঁরা কিঞ্চিত্ ভ্রু কুঁচকেছিলেন, তাঁদের ধারণা সঠিক! বলিউডি মিউজিকে মালিক বংশের সর্বশেষ বাতি এই আরমান মালিক! দাদা সরদার মালিক, বাবা দেবু মালিক আর চাচা আনু মালিক। সামনে-পেছনে সবাই মিউজিক ডিরেক্টর।

বড় ভাই আমাল মালিকের কথাই বা বাদ যাবে কেন! কিন্তু অন্যদের মতো আড়ালের কারিগর না হয়ে আরমান গলা বাড়িয়ে দিয়েছেন। গাইতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য তাঁর। বংশের নাম রেখেছেন সম্প্রতি আইফা জিতে। ‘আমার জন্য পুরস্কার জিনিসটা বিশাল। শুধু জিতলে নয়, নমিনেশন পেলেও নিজেকে ধন্য মনে হয়। বিজয়ী হিসেবে নিজের নামটা শোনার অনুভূতিটা অলৌকিক’— কদিন আগে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন আরমান। পুরস্কারটা পেয়েছিলেন ‘এম এস ধোনি : দি আনটোল্ড স্টোরি’ সিনেমার ‘বেসাবরিয়াঁ’র জন্য।
বাংলাদেশেও ভক্ত তৈরি হয়েছে আরমানের! এবার গাইলেন তাদের জন্য। ‘তোর কারণে’ শিরোনামের এই গানটির কথা লেখার পাশাপাশি ভিডিও নির্মাণ করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ। সুর ও সংগীতায়োজনে ব্যান্ড অ্যাপিরাস। মুম্বাইয়ের অডিও গ্যারেজ স্টুডিওতে গানটিতে ভয়েস দেন আরমান। রেকর্ডিংয়ের সময় অ্যাপিরাসের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। গানটি নিয়ে অ্যাপিরাস সদস্যদের কাছে নিজের ভালোলাগার কথাও জানান আরমান। ঈগল মিউজিক থেকে প্রকাশিত গানটির ভিডিওতে মডেল সৌমিক আহমেদ ও বৃষ্টি ইসলাম। এরই মধ্যে ইউটিউবে আট লাখের বেশি ভিউয়ার হয়েছে।
বয়স মোটে ২২। এরই মধ্যে তকমা জুটেছে তিনখানা—গায়ক, কম্পোজার ও গীতিকার। ইউনিভার্সাল মিউজিক ইন্ডিয়ার পর টি-সিরিজের সঙ্গেও সাইন করা সারা। সারেগামা লি’ল চ্যাম্পের ফাইনালিস্ট ছিলেন। তবে ট্যালেন্ট হান্ট শো কিংবা পরিবারের হাত ধরে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া গায়ক নন আরমান। ১২ বছর বয়স থেকেই চর্চা করে আসছেন ধ্রুপদি গানের। এ পর্যন্ত এক শরও বেশি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল গেয়েছেন, কণ্ঠ দিয়েছেন ১৬টি সিনেমায়। এর মধ্যে আছে ‘জয় হো’, ‘ভূতনাথ’, ‘রক্ত চরিত্র’, ‘হিরো’। ডাক পড়ে ডাবিংয়েও।
শুধু গেয়েই যাচ্ছেন না, গলার যত্নেও অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা আরমান। কনসার্ট মাতিয়ে রাতারাতি ধনী হওয়ার চেয়ে গলা ঠিক রাখা বেশি জরুরি মনে করেন। হিন্দুস্তান টাইমসকে বললেন, ‘স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের কাজ থাকলে তার দু-তিন দিন আগে কনসার্টে গাইতে যাই না। ফাটা গলা নিয়ে তো আর স্টুডিওর গান গাওয়া যায় না। সামনে একগাদা দর্শক-শ্রোতা থাকলে অনেক সময় গায়কও তাদের সঙ্গে চিত্কার শুরু করে দেন। আর এ সময় তিনি বুঝতেও পারেন না যে নিজের গলার কতটা বারোটা বাজাচ্ছেন তিনি। ’ পরিবারের হাত যে খুব একটা ধরতে হয়নি, সেটাও প্রমাণ করা সহজ। কারণ এত দিন এত এত গান গাইলেও কখনো বাবা-চাচাদের গানে গলা দেননি। নিজের আলাদা তারকাখ্যাতি হওয়ার পরই ঠিক করেছেন, এবার চাইলে পণ ভাঙা যায়। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, আর কদিন পরই প্রথমবারের মতো বাবার করা সুরে গাইতে যাচ্ছেন।


মন্তব্য