kalerkantho


দেখো রে চিত্তকমলে

রবীন্দ্রনাথের গান শুনে শুনেই বড় হয়েছেন। এখন পুরোদস্তুর রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। শিক্ষকতা করছেন ছায়ানটে। প্রকাশ পেয়েছে সেমন্তী মঞ্জুরীর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘দেখো রে চিত্তকমলে’। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দেখো রে চিত্তকমলে

‘দেখো রে চিত্তকমলে’ অ্যালবামটির জন্য বেশ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সেমন্তী। কাজে কোনো ছাড় দিতে চাননি।

শুরু করেছিলেন গত বছরের শুরুতে। শেষ হয় চলতি বছরের জুনে। প্রকাশ করেছেন পরের মাসের শেষ দিকে। অ্যালবামে গান রয়েছে আটটি। শিরোনাম—‘আমি যখন তার দুয়ারে’, ‘বাহির পথে বিবাগী হিয়া’, ‘আমি তারেই খুঁজে বেড়াই’, ‘লুকিয়ে আস আঁধার রাতে’, ‘বিমল আনন্দে জাগো রে’, ‘দুঃখ যদি না পাবে তো’, ‘কার মিলন চাও বিরহী’ ও ‘আপনারে দিয়ে রচিলি রে’। রেকর্ডিং হয়েছে কলকাতায়। গানগুলো বেছে নেওয়া সম্পর্কে শিল্পী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের আত্মোপলব্ধির বিষয়ে অনেক গান আছে। সেগুলো থেকে আটটি বেছে নিয়েছি। গানগুলো খুব একটা শোনা যায় না। তাই ইচ্ছা করেই এ গানগুলো নিয়ে কাজ করা। ’ কেমন সাড়া পাচ্ছেন? ‘ছায়ানটে অ্যালবামটির প্রকাশনা হয়। অতিথি ছিলেন ড. সন্জীদা খাতুন, মিতা হকের মতো শিল্পীরা। তাঁরা আমার গায়কির প্রশংসা করেছেন। এর বাইরে ফোন করে, ফেসবুকেও অনেকে ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন। ’
২০১৪ সালের এপ্রিলে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয় সেমন্তীর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও’। দ্বিতীয় একক নিয়ে আসতে তিন বছর সময় নেওয়ার কারণ? ‘তাড়াহুড়া করে কাজ করতে চাইনি। চাইলে আরো অনেক আগেই অ্যালবাম করতে পারতাম। আমার কাছে নিজের এবং শ্রোতার সন্তুষ্টি সবার আগে’—বলেন সেমন্তী।
গানের বাইরে পড়াশোনা ও শিক্ষকতা নিয়ে ব্যস্ততা তাঁর। ছায়ানটে সংগীতের পাট চুকিয়ে সেখানেই শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অর্থনীতি বিষয়ে পড়ছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। বাবার স্বপ্ন ছিল, মেয়ের পড়াশোনায় ভিনদেশি একটা ডিগ্রি যোগ হোক। সেই স্বপ্ন এখন পূরণের পথে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করছেন কালচারাল স্টাডিজ বিষয়ে। ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন অ্যালবামটির প্রকাশনা উপলক্ষে। আবার ফিরে গেছেন গত সপ্তাহে। পড়াশোনার পাশাপাশি উদীচীর লন্ডন শাখায় ছেলেমেয়েদের গান শেখান সেমন্তী। অংশ নেন বাঙালিদের গানের আসরে। সেখানে কি থিতু হওয়ার ইচ্ছা আছে? ‘না। ডিগ্রিটা নিয়েই দেশে ফিরতে চাই। আমার স্বপ্ন ছোটদের গান শেখানো নিয়ে কিছু করার। সেদিকে মনোযোগ দিতে চাই। ’
সেমন্তীর বাবা সোহরাব উদ্দীন একজন সংগঠক। গানও করেন। বাবার কাছেই  হাতেখড়ি। মা নাসিমা খানও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। মা-বাবার অনুপ্রেরণায়ই গানের জগতে প্রবেশ করেন। মামা প্রয়াত অভিনয়শিল্পী খালেদ খান এবং মামি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হকের কাছেও সংগীতের অনুপ্রেরণা এবং খুঁটিনাটি অনেক কিছু জানতে পেরেছেন বলে জানান। ১০ বছর বয়সে ছায়ানটে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি সেমন্তীকে। বরাবরই ক্লাসের প্রথম স্থানটি থাকত তাঁর দখলে। আট বছরের কোর্স শেষে ২০১২ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ১৮ বছর বয়সে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের প্রতিযোগিতায় সারা দেশের মধ্যে প্রথম মান প্রথম স্থান অর্জন করেন।
সেমন্তীর সঙ্গে কথা শেষ করতে বেলা গড়িয়ে আসে। জানতে চাই, আপনার নামের অর্থ কী? ‘সাদা গোলাপের কলি। এটাই আমার নামের অর্থ। নিজেকে সাদা গোলাপের সঙ্গে তুলনা করতে খুব ভালো লাগে। ’ গোলাপের সুবাসের মতোই বাংলা গানের আকাশে সুর ছড়াতে চান।


মন্তব্য