kalerkantho


আমি জয়া আহসানের ভক্ত

১৯৯৭ সালে ‘স্বামী কেন আসামী’ দিয়ে বাংলাদেশে দারুণ জনপ্রিয় হন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এরপর ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা অভিনয় করেছেন এখানে। ধীরে ধীরে অনিয়মিত হতে থাকেন ঢাকার ছবিতে। অভিনেতা-পরিচালক আলমগীরের ছবি ‘একটি সিনেমার গল্প’র শুটিংয়ে আবারও বাংলাদেশে এই অভিনেত্রী। তাঁর সাক্ষাত্কার নিয়েছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আমি জয়া আহসানের ভক্ত

দীর্ঘদিন পর এফডিসিতে শুটিং করছেন। কেমন লাগছে?
এফডিসির প্রতিটি অলিগলি আমার চেনা।

এই যে ৪ নম্বর ফ্লোরটি দেখছেন, এখানে অনেক শুটিং করেছি। মেকআপ রুমটাকেও খুব আপন মনে হয়। একটা সময় দিনের পর দিন এফডিসিতে শুটিং করেছি প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে। শাবানা ম্যাডাম, ফরীদি ভাই, মান্না ভাই—সবাইকে খুব মিস করছি। রাজ্জাক আংকেল, ফরীদি ভাই, মান্না ভাইরা আজ না-ফেরার দেশে। তাঁদের কথা ভেবে খুব খারাপ লাগছে। ‘স্বামী কেন আসামী’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘আমি সেই মেয়ে’, ‘সাগরিকা’, ‘রাঙা বউ’, ‘চেয়ারম্যান’, ‘তোমার আমার প্রেম’সহ বেশ কিছু ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছিলেন। হঠাত্ বাংলাদেশি ছবিতে অনিয়মিত হয়ে গেলেন কেন?
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে আমি বাংলাদেশে কাজ শুরু করি। কলকাতায়ও আমার চাহিদা তখন তুঙ্গে। সত্যি বলতে, আমাদের টালিগঞ্জের অবস্থা তখন অতটা ভালো ছিল না। ২০০০ সালের পর থেকেই পটপরিবর্তন হতে থাকে। আমি আর বুম্বাদা [প্রসেনজিত্] একের পর এক হিট ছবি উপহার দিতে থাকি। দুই ইন্ডাস্ট্রির শিডিউল কোনোভাবেই মেলাতে পারছিলাম না। বাধ্য হয়ে একটিকে প্রাধান্য দিতে হলো।

এখন বাংলাদেশের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী টালিগঞ্জে কাজ করছেন। কেমন করছেন তাঁরা?
আমি জয়া আহসানের ভক্ত। তাঁর কাজে আমাদের ওখানকার সবাই খুশি। অত্যন্ত মেধাবী অভিনেত্রী জয়া। এখন তো তাঁকে কেন্দ্র করেই গল্প তৈরি হচ্ছে। এটা জয়ার বড় অর্জন। শাকিব খান বাংলাদেশের তারকা। সে-ও কলকাতায় জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি আরো অনেকে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। আমার মনে হয়, সবাই ভালো করবেন।

প্রসেনজিতের সঙ্গে ১৪ বছর পর জুটি বেঁধেছেন ‘প্রাক্তন’-এ। ছবিটি ব্লকবাস্টার। নতুন কী করছেন?
কৌশিক গাঙ্গুলির ‘দৃষ্টিকোণ’ করছি। সামনে আরো কয়েকটি ছবি আসবে আমাদের। যৌথ প্রযোজনার ছবি দিয়ে বাংলাদেশে আপনার অভিষেক হয়েছিল। নিশ্চয়ই শুনেছেন, যৌথ প্রযোজনা নিয়ে এখানে এখন দ্বিমুখী অবস্থান চলছে। আমি যৌথ প্রযোজনার যতগুলো ছবিতে অভিনয় করেছি সেগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন, সেখানে বাংলাদেশের প্রাধান্য ছিল। এর কারণ কিন্তু স্পষ্ট। তখন কলকাতার চেয়ে বাংলাদেশের বাজার ভালো ছিল। বাংলাদেশের কলাকুশলী, পরিচালকরাও ছিলেন কলকাতার চেয়ে এগিয়ে। তাই প্রধান কাস্টিং থেকে শুরু করে কলাকুশলীর বেশির ভাগই ছিলেন এখানকার। ‘স্বামী কেন আসামী’ দেখুন। শাবানা ম্যাডামের ওপর গল্প। জসীম ভাই প্রধান নায়ক। আর এখন বাংলাদেশের চেয়ে কলকাতা টেকনিক্যাল দিক দিয়ে এগিয়ে। ফলে পরিচালক থেকে শুরু করে কলাকুশলী—সবখানেই তাদের অধিকার বেশি। তবে হ্যাঁ, একেবারে যেন ঠকানো না হয় সেটার দিকে নজর রাখা উচিত।

আপনার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে যৌথ প্রযোজনায় ছবি করতে চান না?
এখনো যৌথ প্রযোজনা নিয়ে ভাবিনি। যদি সেভাবে সময়-সুযোগ হয় তাহলে অবশ্যই যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ করব। এখনই কথা দিতে পারছি না।

‘একটি সিনেমার গল্প’তে আপনার নায়ক আরিফিন শুভ। ক্যারিয়ারের বিচারে শুভ আপনার বেশ জুনিয়র। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করে কেমন লাগছে?
শুভ অনেক ভালো অভিনেতা। সহকর্মী হিসেবেও দারুণ। তাঁকে আমার জুনিয়র মনে হচ্ছে না, বরং বন্ধুই ভাবছি। ‘আমি সেই মেয়ে’ ছবিতে অভিনেতা আলমগীরের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। এখন করছেন পরিচালক আলমগীরের সঙ্গে। পার্থক্য কী দেখছেন? আলমগীর স্যার কাজের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। নিজের মনমতো না হলে কোনো ছাড় নেই। এটা তাঁর ভালো দিক বলেই মনে করি। ‘আমি সেই মেয়ে’র সময় আর এখনকার সময় এক করলে তো হবে না। মাঝখানে অনেকটা বছর পেরিয়ে গেছে।

দুই বাংলার সিনেমার ভবিষ্যত্ কী বলে মনে করছেন?
আমি আশাবাদী। পশ্চিমবঙ্গে এখন অনেক মেধাবী গল্পকার ও পরিচালক আছেন। সৃজিত মুখার্জি, কৌশিক গাঙ্গুলি, অরিন্দম শীল, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়রা ভালো ভালো ছবি নির্মাণ করছেন। বাংলাদেশে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অনেকেই আছেন, যাঁরা বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। বাংলা ছবি অবশ্যই বিশ্বে সাড়া ফেলবে।

‘একটি সিনেমার গল্প’র পর আর কোনো বাংলাদেশি ছবিতে অভিনয়ে কথা দিয়েছেন?
এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। এমনিতে আমি বাংলাদেশি ছবির প্রতি দুর্বল। ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় এখানে কাটিয়েছি। কেউ যদি ভালো গল্প নিয়ে আমার কাছে আসেন তাহলে কথা দিচ্ছি, ফেরাব না।


মন্তব্য