kalerkantho

মেঘনাদবধ রহস্য

১৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



মেঘনাদবধ রহস্য

‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ দিয়ে এসেই বাজিমাত করেছিলেন। সবার প্রশংসার সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যবসাও করেছিল সেটি। পরের ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এ মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতেও সময় লাগেনি। ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ নিয়ে তিন বছর পর ফিরছেন অনীক দত্ত। পরিচালকের নতুন ছবি নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

কমেডির মধ্যেই ছিলেন অনীক দত্ত। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ আর ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ যাঁরা দেখেছেন তাঁরা জানেন। সেখান থেকে একেবারেই ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ‘মেঘনাদবধ রহস্য’। হাল আমলে কলকাতায় গোয়েন্দা ছবির রমরমা। অনীক দত্তও কি সে পথেই পা বাড়ালেন? ‘এ গল্প প্রাইভেট ডিটেকটিভের নয়, চলতি গোয়েন্দা গল্পের মতোও নয়। আবার মেঘনাদ বলে কোনো লোকের খুন নিয়েও নয়। তবে রহস্য একটা আছে,’ উত্তর পরিচালকের। তবে কি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ নিয়ে কিছু? পচািলক বলছেন, ‘কাব্যের কিছুটা ভূমিকা রয়েছে, কিছু রেফারেন্স রয়েছে। কিন্তু ওটা নিয়েই গল্প নয়।’ গল্প যা নিয়েই হোক, সেটা যে দুর্দান্ত কিছু একটা তা নিশ্চিত করছেন ছবির অন্যতম প্রধান অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, ‘নাম শুনে ভেবেছিলাম কোনো পৌরাণিক কাহিনি বা মেঘনাদ সাহাকে নিয়ে কিছু হবে। কিন্তু চিত্রনাট্য শোনার পর মাথা ঘুরে গিয়েছিল। দুর্দান্ত স্ক্রিপ্ট!’

যতই রহস্য রহস্য করা হোক, পরিচালক যখন অনীক দত্ত তখন ছবিতে তো হিউমার থাকবেই। পরিচালকের কথায় ‘হালকা হিউমার’ আছে। রহস্য গল্পের প্লট বলতে মানা থাকলেও মোটাদাগে ‘মেঘনাদবধ রহস্য’র গল্পটা এমন—পরিচালক কুনাল সেনের প্রথম ছবিতে জাতীয় পুরস্কার পান ছবির অভিনেত্রী। সেই সূত্রে অভিনেত্রী-পরিচালকের পরিচয়। এর মধ্যেই অভিনেত্রীর স্বামী অদ্ভুতভাবে নিখোঁজ হন। যার সঙ্গে জড়িয়ে যায় পরিচালকের নামও। ছবিতে অভিনেত্রীর স্বামী অসিমাভ বোস করেছেন সব্যসাচী। বাকি গুরুত্বপূর্ণ দুই চরিত্র করেছেন আবির চ্যাটার্জি [পরিচালক] ও গার্গী রায়চৌধুরী [অভিনেত্রী]। ইদানীং গোয়েন্দা হিসেবে [ফেলুদা ও ব্যোমকেশ] নাম কামালেও আবির এখানে গোয়েন্দা নন, পরিচালক। ‘এখানে আমি গোয়েন্দা তো নয়ই, বরং বলা যায় সন্দেহভাজনদের একজন। ছবিতে সামাজিক অনেক সমস্যা আছে, নানা ধরনের চরিত্র আছে। রহস্য ছবি হয়েও এটা অনেকখানি সামাজিক ছবি। বলা যায়, আগাথা ক্রিস্টির গল্পের মতো,’ বললেন আবির।

গার্গী প্রথমবার কাজ করলেন অনীক দত্তর সঙ্গে। সব মিলিয়ে উত্তেজিত অভিনেত্রী, ‘অনীক দত্তর মধ্যে একটা ছেলেমানুষ বাস করে। সেই ছেলেমানুষটা খুব চিৎকার করে, যেটা বাইরে থেকে বাড়াবাড়ি মনে হয়। কিন্তু দিনের শেষে মনে হয়, আমি ওই রকম একজন পারফেকশনিস্ট পরিচালকের সঙ্গে কমই কাজ করেছি।’

‘মেঘনাধবদ রহস্য’তে অভিনয়ের সঙ্গে গানও গেয়েছেন প্রধান চরিত্ররা, অনেকের জন্য যা প্রথমবার সিনেমায় গাওয়া। জন্মদিনের একটি দৃশ্যে রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন সব্যসাচী, গার্গী, সায়নী, বিক্রম ও কল্যাণ। পরিচালক বলছেন, ‘গার্গী তো বেশ ভালো গান করে, পেশাদারদের মতোই। সায়নীও। কল্যাণদা আর বেনাদাও [সব্যসাচী] দেখলাম ভালোই। গানের দৃশ্যের সময় দেবুদা [সংগীত পরিচালক দেবজ্যেতি মিশ্র] একটু শুধরে দিতে চেয়েছিল, আমিই বারণ করি। তাতে ন্যাচারাল ব্যাপারটা নষ্ট হতো।’

 



মন্তব্য