kalerkantho

হঠাৎ ঋতাভরী

বড় কোনো সিনেমায় এখনো দেখা যায়নি। তবে মিউজিক ভিডিও, স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি, টিভি সিরিজের কল্যাণে আলোচিত ঋতাভরী চক্রবর্তী। কলকাতার এই অভিনেত্রীর গল্প লতিফুল হকের কাছে

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০




হঠাৎ ঋতাভরী

২০১১ সাল। টিভি পর্দায় ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ তখন দারুণ জনপ্রিয়, সঙ্গে ঋতাভরী চক্রবর্তীও।

অনেকেই ভেবেছিলেন ঋতাভরী ভবিষ্যৎ তারকা। অনেকে টালিগঞ্জের বাণিজ্যিক ছবির নায়িকার সব গুণই দেখতে পেয়েছিলেন ঋতাভরীর মধ্যে। পাঁচ বছরেও সেটা সত্যি হয়নি। তবে তিনি হারিয়েও যাননি। ঋতাভরী আছেন ভালো মতোই, তবে সেটা সিনেমায় নয়। নানা মাধ্যমে তাঁর ব্যস্ততা। তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও নিয়মিত হনটি টিভিতে। কারণটা খানিক অদ্ভুত। দেশ-বিদেশ ঘুরবেন বলে টিভি ছাড়েন তিনি! ‘আসলে ঘোরাঘুরি আমার কাছে তত দিনে নেশার মতো হয়ে গেছে। শেষ তিন-চার বছরে প্রায় ২০টি দেশ ঘুরেছি। টিভিতে কাজ করতে লম্বা সময় দিতে হয়, যা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার জন্যও বিরতি নিয়েছিলাম। ’ নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন, সিনেমায় নাম করবেন বলে টিভি ছাড়েন ঋতাভরী। তবে সিনেমায় নামের বদলে ‘দুর্ভাগ্য’ই পেয়েছেন তিনি। কারণ তাঁর অভিনীত প্রথম তিনটি ছবি মুক্তিই পায়নি! ‘ছবি মুক্তি না পাওয়া যে কারো জন্যই হতাশার। নতুন একজন যে শুরু করতে যাচ্ছে তাঁর জন্য আরো বেশি। তবে আমি যে ভেঙে পড়িনি পরের কাজগুলোই তার প্রমাণ,’ বলেন অভিনেত্রী। পরের কাজ বলতে মিউজিক ভিডিও আর স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি। কাজ হিসেবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে না হলেও বস্তুত এগুলোই তাঁকে সর্বভারতীয় পরিচিতি দিয়েছে। কাজ করেছেন আয়ুষ্মান ঘুরানা আর কালকি কোয়েচলিনের সঙ্গে। বছরের শুরুতেই ‘ওরে মন’ গানের ভিডিওতে ঋতাভরীকে দেখা যায় আয়ুষ্মান ঘুরানার সঙ্গে। কলকাতায় ক্যাফে তৈরির স্বপ্ন নিয়ে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে ঘর ছাড়ে মেয়ে। আপত্তি সত্ত্বেও মেয়ের হাতে গয়নাগাঁটি তুলে দেন মা-বাবা। মেয়ে সফল হয়। পরে সেই ক্যাফেতে খেতে আসেন মা-বাবা। এমন গল্পের ভিডিওতে সপ্রতিভ ঋতাভরী নজর কাড়েন সহজেই। সঙ্গে দেশ-বিদেশ ঘোরার ট্রাভেল ভিডিওগুলোও জনপ্রিয় হয়, যা থেকে সুযোগ পান স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘নেকেড’-এ। নারী দিবস উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তাহলে কী সামনে আরো বড় কিছু আসছে? ‘মিউজিক ভিডিও প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক প্রস্তাব আসছে। কিন্তু বলার মতো এখনো কিছু নেই। তবে এপ্রিলে একটা ইংরেজি ছবিতে কাজ করব’ বলেন ঋতাভরী। খুব বেশি দিনের ক্যারিয়ার নয় তাঁর। তবু এরই মধ্যে বেছে বেছে কাজ করার সিদ্ধান্তে অটল। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যন্তও যা চালিয়ে যেতে চান তিনি। তবে বাংলা ছবিতে এখনো কপাল মন্দ ঋতাভরীর। প্রথম তিনটি তো মুক্তিই পায়নি, সর্বশেষ ‘কলকাতায় কলম্বাস’ ফ্লপ। তবে অনেক ভক্তের মতো অভিনেত্রীরও বিশ্বাস, দিন বদলাবে শিগগিরই। ও, ঋতাভরীর মায়ের কথা তো বলাই হয়নি। তাঁর মা শতরূপা সান্যালও পরিচালক। মায়ের সঙ্গে ‘অন্য অপলা’ ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয়ও করেন ঋতাভরী। এ ছাড়া মায়ের প্রায় সব ছবিতেই ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছেন। এ জন্য মায়ের কাছ থেকে ভালো পারিশ্রমিকই পান তিনি, যা দিয়েই ঘুরতে বের হন।


মন্তব্য