kalerkantho

রাবেয়ার খোঁজে

নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে একনামে পরিচিত ছিলেন রাবেয়া বেগম। শতাধিক ছবির অ্যাকশন দৃশ্যে নায়িকাদের হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট দিয়েছেন। কোথায় আছেন তিনি? খবর নিয়েছেন সুদীপ কুমার দীপ

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০




রাবেয়ার খোঁজে

নায়িকা মুনমুনের সঙ্গে রাবেয়া

বাবা আব্দুস সামাদের সার্কাস দল ‘নিউ স্টার সার্কাস’। বড় মেয়ে মোসাম্মৎ রাবেয়া বেগম। বাবার আগ্রহেই শিখেছিলেন সার্কাস খেলা। দড়ির ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় লাফ দিয়ে পৌঁছে যাওয়া, রিংয়ে চড়া—অনেক ধরনের খেলা শিখেছিলেন। সার্কাসের রিংয়েই রাবেয়াকে দেখেছিলেন প্রযোজক মুস্তাক আহমেদ। তিনি তখন ‘বনের রাজা টারজান’ প্রযোজনা করছেন। তাঁর স্টান্টওম্যান দরকার। মারপিট দৃশ্যের পরিচালক আরমানকে রাবেয়ার কথা বললেন। সার্কাস দেখতে গেলেন আরমানও। সত্যিই তো! মেয়েটি অনায়াসে ঝুঁকিপূর্ণ সব খেলা দেখাচ্ছে! কথা বললেন সার্কাস পার্টির মালিক আব্দুস সামাদের সঙ্গে। সামাদ রাজি হলেন।

শুরু হলো রাবেয়ার চলচ্চিত্রযাত্রা। সেই রাবেয়ার বয়স এখন ৬০ ছুঁই ছুঁই। এ পর্যন্ত কত ছবিতে স্টান্ট করেছেন, হিসাব নেই তাঁর কাছে। তবে লেডি অ্যাকশন ছবির নামগুলো মনে আছে—‘বনের রাজা টারজান’, ‘টারজান কন্যা’, ‘ওরা অগ্নিকন্যা’, ‘লণ্ডভণ্ড’ ও ‘দুর্ধর্ষ পামেলা’। সর্বশেষ কাজ করেছেন ১১ বছর আগে, ‘বস্তির রানি সুরাইয়া’তে। “নায়িকারা যে দৃশ্যটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করতেন, আমাকে দিয়ে পরিচালকরা সেই দৃশ্য করাতেন। ভয় পেতাম না, বরং উপভোগ করতাম। ‘টারজান কন্যা’ ছবিতে এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফিয়ে লাফিয়ে গেছি। ইউনিটের সবাই রীতিমতো অবাক! কিভাবে সম্ভব? কিন্তু আমার কাছে এসব ডালভাত। সার্কাসে এ রকম খেলা কত দেখিয়েছি”—বললেন রাবেয়া।

বাবার নিউ স্টার সার্কাস দল ভেঙে গেছে কবে! পরে নিজেই গড়ে তুলেছেন আরেকটি দল—‘মুক্তি সার্কাস’। সিলেটের সুনামগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। যোগাযোগ নেই চলচ্চিত্রের কারো সঙ্গেই। ব্যতিক্রম নায়িকা মুনমুন। নিজের মেয়ের মতো দেখেন তাঁকে। মুনমুনও সময় পেলে চলে যান সিলেটে। দুই সপ্তাহ আগেও গিয়েছিলেন। রাবেয়া বলেন, “ওর সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। অনেক পরিশ্রমী মেয়ে। মুনমুন একবার আমার হাত ধরে অবাক হয়ে গিয়েছিল! মেয়েদের এত শক্ত হাত নাকি সে জীবনেও দেখেনি। আমরা যখন রিংয়ে ঝুলি, পুরো শরীরের ভর রাখতে হয় হাতের ওপর। শক্ত না হয়ে যাবে কোথায়!”

দুর্ধর্ষ সব স্টান্ট করে যিনি কখনো আহত হননি, সেই রাবেয়ার এক পা এখন ভাঙা। বছর কয়েক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে গেছে। চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পর্ক যেমন নেই, তেমনি রাবেয়া এখন আর সার্কাসেও খেলা দেখান না। চলাফেরাও করতে পারেন না ঠিকমতো। সার্কাস দলের দায়িত্ব বড় ছেলে হাসান ও স্বামী ফারুকের কাঁধে। তবে চলচ্চিত্রের সেই দিনগুলো এখনো ভুলতে পারেন না। চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে সারাক্ষণ।


মন্তব্য