kalerkantho


কাঁদলেন, কাঁদালেন

জুঁই নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে আলোচনায়। নারী হওয়ার কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানির গল্প নিয়ে বিজ্ঞাপনটি। শাহনাজ সুমিকে নিয়ে লিখেছেন সাইমুম সাদ। ছবি তুলেছেন সামছুল হক রিপন

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কাঁদলেন, কাঁদালেন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে বিজ্ঞাপনটি। মাত্র তিন দিনে ২৫ লাখেরও বেশি দর্শক দেখেছে।

গল্পটা এক তরুণীর। পার্লারে গেছে চুল কাটাতে। কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে তার আকুতি, চুল এতই ছোট করে দিন, যাতে ধরা না যায়! নারী নির্যাতন নিয়ে অর্থবহ বার্তা দিয়ে এমন আবেগী বিজ্ঞাপনে যে মুখটির কান্না দেখে লাখো দর্শক কেঁদেছে, সেই মেয়েটি শাহনাজ সুমি। বিজ্ঞাপনটি পাল্টে দিয়েছে সুমির জীবন। চারপাশ মেতেছে তাঁর প্রশংসায়। নির্মাতা রেদোয়ান রনি, আদনান আল রাজীব ও মডেল প্রিয়তির মুখেও একই কথা—দারুণ করেছে সুমি। যাদের ভক্ত বলে পরিচয় দেন, সেই মানুষগুলোর কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পেয়ে ভীষণ অভিভূত সুমি। ফেসবুকের ইনবক্স ভর্তি শুভেচ্ছা বার্তা।

কিভাবে সুযোগ পেলেন? ‘এজেন্সি থেকে ফোন পেয়ে অডিশন দিতে গেলাম।

স্ক্রিপ্ট পড়ে অডিশন দিতে গিয়েই কান্না চলে এসেছে। পর পর আরো তিনবার সত্যি সত্যিই চোখে জল এসেছে। অভিনয় দেখেই আমাকে নির্বাচন করা হয়। ’

মতিঝিল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল থেকে এবার এসএসসি দিয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শেষ করেই পয়লা মার্চ যোগ দেন শুটিংয়ে। শুটিংয়ে নির্মাতা আশুতোষ সুজন শুধু বলেছিলেন, ‘এমন অভিনয় করো, যাতে সেটের সবার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। আর দর্শকও দেখে কাঁদে। ’ নির্মাতার কথা রেখেছেন। শুটিংয়ে ক্যামেরার সামনে প্রথম টেকেই কেঁদে ফেলেন সুমি। পরিচালক আশুতোষ সুজন বলে ওঠেন—ফ্যান্টাসটিক। সেদিন আটবার টেক দিতে হয়েছে, গ্লিসারিন ছাড়াই কেঁদেছেন প্রতিবার।

গ্লিসারিন ছাড়া কান্না তো বেশ কঠিন, নাকি? ‘গল্পটাই আমাকে কাঁদিয়েছে। যখন অভিনয় করেছি তখন মনে হয়েছে, এটাই আমি। আর অভিনয় আমার কাছে প্রার্থনার মতোই’—বললেন সুমি।

২০১৫ সালে ‘সেরা নাচিয়ে’ প্রতিযোগিতার টপ টেনে ছিলেন। নাচের জন্যই ডাক পান সালাহউদ্দিন লাভলুর ধারাবাহিক ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’তে। পরে একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন। তাঁর অভিনয় মন কাড়ে নির্মাতা মৃত্তিকা গুণের। তিনিই এই বিজ্ঞাপনের জন্য রেফার করেছেন। আগেও অনেক বিজ্ঞাপনের অডিশন দিয়েছিলেন। কিন্তু সুযোগ পাননি। ‘তখন আসলে অভিনয় পারতাম না। আর নির্মাতারাও বলতেন, তুমি তো অনেক ছোট। এইবার বয়স নিয়ে কেউ কিছুই বলেননি। ’

তিন বোনের মধ্যে সুমি মেজ। বাবা সৌদি আরব থাকেন। মায়ের সহায়তায় আড়াই বছর বয়স থেকে নাচ শিখতে শুরু করেন; যদিও তখন নাচ কী সেটাই বুঝতেন না। বললেন, ‘ক্লাস ওয়ানে স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমার নাচ দেখে সবাই হেসেছিল, সুন্দর হয়নি বলে। সবার হাসি দেখে সেদিন রাগ উঠেছিল খুব। সেই রাগ থেকেই পরে নাচ শিখি। ’

তাহলে এখন স্বপ্নটা কী নিয়ে? ‘শুরুতেই এমন একটা ভালো বিজ্ঞাপন করলাম। এ রকম ভালো ভালো কাজ করতে চাই। অভিনেত্রী হতে চাই’—বললেন সুমি।


মন্তব্য