kalerkantho

রাজকীয় তিশমা

সর্বশেষ চারটি অ্যালবাম মেলোডিময়। নতুন বছরে ‘রয়ালটি’ অ্যালবাম দিয়ে রক গানে ফিরছেন তিশমা। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজকীয় তিশমা

‘রয়ালটি’ তাঁর ত্রয়োদশ সলো অ্যালবাম। ৩১ ডিসেম্বর অনলাইনে প্রকাশিত হয়। তাঁর নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘তিশমা অনলাইন ডকটম’-এ পাওয়া যাচ্ছে অ্যালবামটি। এ ছাড়া শোনা যাবে অ্যামাজন, আইটিউনসসহ কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে ১০টি গান আছে অ্যালবামে। তবে অনলাইনে প্রকাশের ক্ষেত্রে একটা কৌশল নিয়েছেন তিশমা। ধাপে ধাপে প্রকাশ করবেন গানগুলো। প্রথম ধাপে তিনটি গান প্রকাশ করেছেন—‘মনে মনে তোমাকে ভালোবাসি, ‘ফ্লেম’ ও ‘রয়ালটি’। জানুয়ারির প্রতি সপ্তাহে এক-দুটি করে গান প্রকাশ করবেন। ‘আগেও এভাবে দুটো অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলাম। তাতে যা হয়, কিছুটা সময়ের জন্য হলেও পাইরেসি রোধ করতে পারি। এটা আমার একটা স্টাইল হয়ে গেছে। সব গান প্রকাশ হলে পরে সিডি প্রকাশ করব’, বললেন তিশমা।

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করবেন ‘মনে মনে তোমাকে ভালোবাসি’ গানটির ভিডিও। এই মুহূর্তে শুটিং আর প্ল্যানিং নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। অ্যালবামটির সব গানের সুর ও সংগীত করেছেন তিশমা নিজেই। তিশমা বলেন, ‘সুর ও গায়কিতে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছি। আমার শেষ চারটি অ্যালবামের গান সফট মেলোডি। সেখান থেকে বেরিয়ে এবার রক, এক্সপেরিমেন্ট হার্ড রক, সফট রক, মেলোডি ও হিপহপ গান নিয়ে সাজিয়েছি অ্যালবামটি।’

‘রয়ালটি’ নামকরণেরও ব্যাখ্যা দিলেন। প্রথমত রয়ালটি গানটি এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। দ্বিতীয় কারণটি শোনা যাক তিশমার মুখেই, “অ্যালবাম প্রকাশের আগে শ্রোতাদের মতামত নিই। তাদের বেশির ভাগই এ নামটাকে সমর্থন করেছে। আমি তো অনেক ধারার গান করি। কিন্তু শ্রোতারা সব সময়ই আমাকে ‘রক রাজকন্যা’ বলে ডাকে। তাদের দেওয়া নামটা সানন্দেই গ্রহণ করেছি। ইতিপূর্বে ‘রক রাজকন্যা’ নামেও গান করেছি। রয়ালটি মানে রাজকীয়। সেখান থেকেই এই নাম।” 

এক সময় শুধুই গাইতেন। পরে সুর-সংগীতেও মনোযোগী হয়েছেন। আর এখন নিয়মিতই সুর করছেন। “আগে যখন অন্য সুরকারদের গান করতাম তখন রকিং এবং মজার গান করতে পছন্দ করতাম। মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে কাজ করার সময় মাথায় হুটহাট সুরের ভূত চাপত। তখনই মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে বেশ কিছু গান কো-প্রোডিউস করি। মাঝে মাঝে অ্যালবামে নিজের সুর করা দুই-একটা গান দিতাম। ২০১১ সালে আমার কম্পোজিশনে প্রথম অ্যালবাম ‘এক্সপেরিমেন্ট’ প্রকাশ করি। যখন নিজে সুর করার দায়িত্বটা নিলাম তখন আমার সুর হয়ে গেল সফট এবং মেলোডি টাইপের। কারণটা হলো, আমার ব্যাকগ্রাউন্ড ক্লাসিক্যাল সংগীতে। ওটাই ভালো বুঝতাম। এভাবেই পর পর চারটি অ্যালবাম করলাম। তরুণদের সঙ্গে সিনিয়র ফ্যান-ফলোয়ারের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করল। তাদের কথা চিন্তা করেই পর পর চারটা মেলোডিয়াস অ্যালবাম করা করলাম। এক সময় মনে হলো, যারা আমার কাছে রক শুনতে চায় তাদের জন্যও কিছু গান করা দরকার। সেখান থেকেই এই অ্যালবাম”, বললেন তিশমা।

ইদানীং কিন্তু অন্যের সুর-সংগীতে তিশমার গান পাওয়াই যাচ্ছে না। তিশমা বলেন, ‘নিজের সুর-সংগীতই আমার বেশি পছন্দ। যে কারণে একটা সময়ে এসে অন্যের সুর-সংগীতে গাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। শেষ পাঁচটি অ্যালবামের সুর-সংগীত আমারই। মিক্সড মাস্টার, এমনকি অনেক আনুষঙ্গিক যন্ত্রও নিজে বাজাই। অন্যদের সুর-সংগীতে গান করছি না তা কিন্তু না। ফিল্ম বা স্পেশাল কোনো ইভেন্টের হলে করি।’

‘রয়ালটি’র ব্যস্ততায় স্টেজ শো প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে শিগগিরই ফিরবেন। সামনেই দেশে কয়েকটি শো আছে। দেশের বাইরের শোয়ের ব্যাপারেও কথা চলছে। সামনেই ভ্যালেন্টাইনস ডে। এই দিন নিয়ে মজাও করলেন, ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে হলো সবচেয়ে বিরক্তিকর। আমরা সব সিঙ্গেল ফ্রেন্ডরা ওই দিন কাপল ফ্রেন্ডদের প্রচুর পচাই। পচালে কী হবে, আমাকে তো ঠিকই অন্যভাবে পালন করতে হয় এই দিন। বিভিন্ন প্রোগ্রামে গিয়ে গাইতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, সব প্রেম-ভালোবাসার গানই করতে হয়।’

নতুন বছর নিয়ে বিশেষ কোনো প্ল্যান নেই তাঁর। কারণ আগে অনেক প্ল্যান করে রাখতেন, এটা করবেন, ওটা করবেন। কিন্তু শেষমেশ কিছুই হতো না। এ বছরও আগের মতোই গান-বাজনা, লেখালেখি, বই পড়া, মায়ের সঙ্গে দুষ্টামি, চকোলেট, ফুচকা আর জাংক ফুড খাওয়া, কিউট ডগিকে নিয়েই থাকতে চান।

একটা সময় উপস্থাপনায়ও দেখা গিয়েছিল। আপাতত ভাবনায় উপস্থাপনা নেই। ফিল্মে গান করতে গিয়ে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব পান নিয়মিত। মডেলিংয়ের অফার তো সেই শুরু থেকেই। অন্য শিল্পীর জন্য গান তৈরির অনুরোধ আসে। এসব কিছুই করতে চান না তিশমা। আপাতত শুধু নিজের গান আর অ্যালবাম নিয়েই থাকতে চান।



মন্তব্য