kalerkantho

অপরাজিতা

নতুন টিভি চ্যানেল ‘দীপ্ত টিভি’ নিয়ে এসেছে তিনটি মেগা ধারাবাহিক। এর একটি ‘অপরাজিতা’। এর মূল নারী চরিত্রে অভিনয় করা নাইরুজ সিফাতকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



অপরাজিতা

ওপার বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর উপন্যাস ‘বালুচারী’ অবলম্বনে টিভি ধারাবাহিক ‘অপরাজিতা’। হার না মানা এক নারীর গল্প। আর এই অপরাজিতা নারীই হচ্ছেন নাইরুজ সিফাত।

উপন্যাসের চরিত্র অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য বরাবরই চ্যালেঞ্জের। সিফাতের জন্যও সেটা কম ছিল না। শুধু পর্দায়ই নয়, পর্দার পেছনেও চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে তাঁকে। চারবার অডিশন দিতে হয়েছে। ৫৭ জন প্রতিযোগীকে টপকে চরিত্রটি পেয়েছেন। বিলম্ব করতে হয়েছে এমবিএ ভর্তিরও। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করেই নাম লেখান প্রতিযোগিতায়। নির্বাচক টিম লেখাপড়ার স্টেটাস দেখে প্রশ্ন করে, লেখাপড়া নাকি অভিনয়? এমবিএতে ভর্তি হলে তো সিরিয়ালটা করা সম্ভব হবে না। কারণ এখানে যথেষ্ট সময় দিতে হবে। গ্রুমিং হোক আর শুটিং হোক, যথাসময়ে সেটে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ছাড় দিতে রাজি হলেন। এ রকম সুযোগ কে হারায়!

‘আসলে আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবান, এ রকম একটি চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। আগে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হলেও অভিনয় শুরুর জন্য ঠিকঠাক একটা প্ল্যাটফর্ম খুঁজছিলাম। বিবিএ শেষ হতে না হতেই এ সুযোগটা চলে আসে।’ হেসে বললেন সিফাত।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন? ‘এক বছর টানা শুটিং হয়েছে। যাঁরা দীপ্ত টিভির পরিচালনা পর্ষদে আছেন তাঁরা বেশ আন্তরিক। প্রথম অভিনয়, ছোটখাটো ভুল তো হয়েছেই। অসুস্থ ছিলাম, উপেক্ষা করেও শুটিং করেছি। ছোট একটা অ্যাকসিডেন্টে পায়ে ফ্যাকচার ছিল তিন মাস। পা প্লাস্টার অবস্থায় সেই তিন মাস শুটিং করেছি। এখনো জ্বরে ভুগছি। যত কষ্টই হোক চাচ্ছি দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে।’ বললেন সিফাত।

ভারতীয় সিরিয়াল উপেক্ষা করে দেশি দর্শকদের মনে কতটা জায়গা তৈরি করতে পারবে এ সিরিয়াল? ‘নিয়মিত টিভি দর্শকরা ভারতীয় সিরিয়ালই দেখেন। দেশের ৭০ শতাংশ টিভি দর্শক ভারতীয় সিরিয়াল দেখেন। অকেশনালি যাঁরা একটা নাটক বা একটা টেলিফিল্ম দেখেন তাঁদের ব্যাপারটা ভিন্ন। আমাদের সিরিয়ালটা যাঁরা নিয়মিত টিভি দেখেন তাঁদের জন্য।’

যুগ বদলেছে। মানুষের ফ্যাশন, ভাবভঙ্গি বদলেছে। জীবনের ভাষা বদলেছে। সেখানে ‘বালুচারী’র মন্দিরা কতটা মানানসই? প্রশ্ন শুনে পাল্টা প্রশ্ন করলেন। ‘আপনি প্রতিদিন কী খেতে পছন্দ করেন?’ উত্তরও দিলেন নিজেই-‘অবশ্যই সাদা ভাতের সঙ্গে মাছ-মাংস-সবজি। আমিও।’ তারপর শুরু করলেন ব্যাখ্যা। ‘এই খাবারগুলোতে কিন্তু কখনোই আমাদের অরুচি হয় না। মন্দিরা সে রকম পাশের বাড়ির এক সংগ্রামী মেয়ে। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই রাঁধুনির গুণ, উন্নত মসলা আর চমৎকার মেন্যু আছে এখানে। আমাদের দর্শক আগ্রহ নিয়েই দেখবে।’ বললেন ‘অপরাজিতা’ নায়িকা।

সিফাত আর মন্দিরা আকাশ পাতাল। গম্ভীর মেয়ে নন মোটেও। দায়িত্বও যতটা পারেন এড়িয়ে যান। হাসিঠাট্টা করে আড্ডা মাতাতে নাকি ওস্তাদ। ঢাকাতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই মেয়ের। সিফাতের বাবা এ কে এম নুরুল আলম তালুকদারও নাটকের মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের পর বিটিভিতে প্রচারিত প্রথম নাটকে অভিনয় করেছেন। তৎকালীন সময়ে বিটিভির প্রথম সারির তালিকাভুক্ত অভিনয়শিল্পী ছিলেন। বোঝা গেল, অভিনয় প্রতিভাটা তিনি উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছেন।



মন্তব্য