kalerkantho


ছুটছেন ডিজে রাহাত

ঘরের মাঠে হয়ে যাওয়া ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ও    

১২ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০



ছুটছেন ডিজে রাহাত

পর পর দুবার দুই ফরম্যাটের দুটি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ডিজে হিসেবে মাঠে কাজ করেছেন। এ নিয়ে তাঁর গর্বের শেষ নেই। বিশ্বকাপ ক্রিকেট ম্যাচের সময় কোটি মানুষের চোখ থাকে মাঠে। হাজারো মানুষ সরাসরি উপস্থিত থাকে স্টেডিয়ামে। আর এমন আয়োজনে সবাইকে আনন্দ দেওয়ার কাজটি করতে পারলে কার না ভালো লাগবে! ডিজে রাহাত সেটিই করে দেখালেন ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ও ২০১৪ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। এ নিয়ে তাঁর খুশিরও সীমা নেই। বলেন, 'আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবান একজন ডিজে। পৃথিবীর অন্য কোনো ডিজে পর পর দুবার এমন সুযোগ পেয়েছেন কি না সন্দেহ! তবে আমি একমাত্র এশিয়ান যে কি না পর পর দুবার বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ডিজে হিসেবে কাজ করতে পেরেছি। এটা আমার ডিজে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। এই দুটি ইভেন্টের জন্য সবার কাছ থেকে অনেক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। আইসিসি থেকে সার্টিফিকেটও পেয়েছি।'

ডিজে হিসেবে রাহাতের পথচলা শুরু এখন থেকে প্রায় এক যুগ আগে, ২০০৪ সালে। কিভাবে? শোনা যাক রাহাতের মুখেই-'শুরুতে ইচ্ছা ছিল ব্যান্ড নিয়ে কাজ করার। সে সময়টায় লক্ষ করলাম ব্যান্ডসংগীতের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। মনে হলো এটা করে টিকে থাকা কঠিন হবে। তখন ডিজে মিউজিকটা দেশে সে অর্থে প্রসার লাভ করেনি। ভাবলাম, এই মাধ্যমে কাজ করলে ভালো কিছু করার সুযোগ আছে। সেই যে পথচলা শুরু, আজ অবধি এটা নিয়েই আছি।'

খানিকটা বিরতি নিয়ে রাহাত বলেন, 'ছোটবেলায় কিন্তু আমি ক্যামেরাম্যান হতে চেয়েছি। তবে সব কিছু এভাবে বদলে যাবে কখনো ভাবিনি।'

ডিজে নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী? রাহাত বলেন, 'ডিজে নিয়ে আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দুটো! 'প্রথমত, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা আন্তর্জাকিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় প্লে করবে এটা দেখতে চাই। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে বিভিন্ন পার্টিতে যাতে হিন্দি অথবা ইংরেজি গানের সঙ্গে আমাদের আর নাচতে না হয়। আমি চাই বাংলাদেশেও এমন গান তৈরি হোক। যেগুলোর সঙ্গে সবাই নাচবে, এনজয় করবে।'

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাজানোর জন্য রাহাত নিজেও গানের সংগীতায়োজন করে থাকেন। মৌলিক গানের পাশাপাশি অনেক সংগৃহীত গানকেও ডিজে ফরম্যাটে জনপ্রিয় করেছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত রাহাতের ফিচারিংয়ে প্রকাশ পেয়েছে বেশ কয়েকটি একক ও মিক্সড অ্যালবাম। এগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো 'রাহাত ফিচারিং শফি মণ্ডল গুরু গো', 'রাহাত ফিচারিং সুকন্যা তিথি খুব চেনা চেনা', 'রাহাত ফিচারিং সুকন্যা তিথি নেশা লাগিল রে', 'রাহাত ফিচারিং রমজানের ওই রোজার শেষে', 'রাহাত ফিচারিং চুমকি', 'রাহাত ফিচারিং মিস লঙ্কা', 'রাহাত ফিচারিং আষাঢ়-শ্রাবণ', 'রাহাত ফিচারিং বারামখানা' প্রভৃতি। সর্বশেষ চলতি বিশ্বকাপ ক্রিকেট সামনে রেখে ডিজে রাহাত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলকে নিয়ে গান 'সেরা এগারো'। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আহমেদ রাজীব। সামনে তাঁর হাতে রয়েছে আরো অনেক গান তৈরির কাজ।

ডিজের পাশাপাশি গান তৈরি করতে কেমন লাগে? রাহাত বলেন, 'এটা আমার জন্য অনেক সহজ ও আনন্দের! স্টেজে আমরা যে ধাঁচে গান প্লে করি, সে আঙ্গিকেই গানগুলো তৈরি করি। নিজে করি বলে কাজটি নিজের ইচ্ছামতো করতে পারি।'

ডিজে তথা ডিসকো জকি ও গান তৈরির পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান 'ক্রিয়েটো'র প্রধান ডিজে রাহাত। রাহাতের কয়েকজন ছাত্রও ডিজে হিসেবে নাম করেছেন। তাঁরা হলেন ডিজে জিসান, ডিজে ইমন, ডিজে শাহান, ডিজে ওয়ালিদ, ডিজে সনিকা, ডিজে জেনিফা, ডিজে ফারুক ও ডিজে মেহেদী। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরে গিয়েও ডিজে হিসেবে কাজ করেছেন রাহাত। এরই মধ্যে গেছেন ভারত, নেপাল, ব্যাংকক ও চীনে।

 



মন্তব্য