kalerkantho


দুই বন্ধুকে নিয়ে

ফেরদৌসের এক কাপ চা

এপারের বন্ধু মৌসুমী আর ওপারের বন্ধু ঋতুপর্ণাকে নিয়ে এবার হাজির হচ্ছেন ফেরদৌস। নিজের প্রযোজনায় নির্মিত নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের 'এক কাপ চা' মুক্তি পাবে আগামীকাল। ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনজনই। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ   

২৭ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০



ফেরদৌসের এক কাপ চা

মৌসুমী ও ঋতুপর্ণা- দুজনই তখন দুই বাংলার সেরা নায়িকা। ঢালিউডে তখন ওমর সানী, মান্না ও ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে মৌসুমীর পরীক্ষিত জুটি। অন্যদিকে টালিগঞ্জে প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিৎ, তাপস পালদের সঙ্গে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিচ্ছেন ঋতুপর্ণা। 'হঠাৎ বৃষ্টি' তখন সবে মুক্তি পেল। ফেরদৌস রাতারাতি তারকা বনে গেলেন। এরপর হঠাৎ একদিন পরিচালক বাদল খন্দকারের ফোন। তিনি তখন 'মিস ডায়না'র শুটিং করছেন। ফেরদৌসকে বললেন, 'মৌসুমীর সঙ্গে একটি গান আর দু-তিনটি সিকোয়েন্স আছে। আমি তোমার কথা ভেবেছি। এখন তুমি রাজি হলে আমরা শুটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারি।' মৌসুমীর সঙ্গে কাজ করার এই সুযোগটুকু নষ্ট করতে চাইলেন না ফেরদৌস। শুরু হলো শুটিং। এফডিসিতে গানের শুটিং হলো। অন্য পরিচালকরা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ বলেন, 'এই জুটির রসায়নটা একদম জমেনি।' কেউ কেউ আবার ফেরদৌসের ক্যারিয়ার নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করলেন। কিন্তু নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল বললেন, এই জুটিই একদিন ব্যবসাসফল জুটি হবে। হলোও তাই। 'মিস ডায়না'য় ফেরদৌস-মৌসুমীর 'এত ভালোবেসো না আমায়' গানটি হিট করল। ছবিটিও ভালো ব্যবসা করল। একে একে তাঁদের হাত ধরে এসেছে 'খায়রুন সুন্দরী', 'গোলাপজান', 'মেহের নিগার'-এর মতো ছবি। এরই মধ্যে দুজনের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। পথ চলতে চলতে মৌসুমী ফেরদৌসকে 'আপনি' থেকে 'তুমি' এবং পরে 'তুই' করে নিয়েছেন! অবশ্য ফেরদৌস এখনো মৌসুমীকে আপনি করেই বলেন। আপনি করে বললেও বন্ধুত্বে কোনো ফাঁক নেই। মৌসুমী যেমন তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি 'কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি'তে ফেরদৌসকে নায়ক করেছিলেন, ঠিক তেমনি ফেরদৌস প্রযোজিত প্রথম ছবিতেও নায়িকা মৌসুমী।

একই ঘটনা ঋতুপর্ণার ক্ষেত্রেও। ঋতুর সঙ্গে ফেরদৌসের প্রথম পরিচয় পরিচালক দীলিপ বিশ্বাসের বাড়িতে, একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে। সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন শাবনূর, রিয়াজ থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের অনেক নামিদামি তারকা। ফেরদৌসকে ডেকে ঋতুর কাছে নিয়ে গেলেন দীলিপ বিশ্বাস। পরিচয় করিয়ে দিলেন 'হঠাৎ বৃষ্টি'র নায়ক বলে। সেদিন হাই-হ্যালোতে পরিচয় পর্বটা শেষ হলেও সম্পর্কের ডানা মেলে কলকাতা এয়ারপোর্টে। দুজনই ভাগ্যক্রমে একই প্লেনের টিকিট কেটেছিলেন সেদিন। কিন্তু হায়! প্রায় ছয় ঘণ্টা প্লেন ডিলে হলো। কিছু করার নেই। অগত্যা উপায় না পেয়ে দুজন গল্প করে সময়টা কাটিয়ে দিলেন। সেদিন অনেক গল্পই হয়েছিল। চলচ্চিত্র, পরিবার, ব্যক্তিগত জীবনসহ আরো কত কী! এর পর কলকাতায় যত ছবি করেছেন ফেরদৌস, তার বেশির ভাগ ছবির নায়িকাই ঋতুপর্ণা। 'ওস্তাদ', 'মন যারে চায়', 'প্রেমের প্রতিদান', 'সুয়োরানী দুয়োরানী', 'জনম জনমের সাথী', 'প্রতিহিংসা'- এই জুটির উল্লেখযোগ্য ছবি। এখনো প্রায় প্রতিদিনই ঋতুর সঙ্গে কথা হয় ফেরদৌসের। স্কাইপে বা ফোনে কথা হয় তাঁদের। এই যে 'এক কাপ চা' মুক্তি পাচ্ছে, এটা নিয়ে রাত-দিন ফেরদৌসকে ফোন দিচ্ছেন ঋতু। কয়টা হলে মুক্তি পাচ্ছে, পোস্টার কেমন হয়েছে, হল-মালিকরা কী বলছেন? আরো সাত-সতেরো প্রশ্ন। দূরে থেকেও বন্ধুত্বটা অনেক কাছের। ফেরদৌস নিজে টাকা লগ্নি করেছেন, বন্ধু ঋতুর একটু মাথাব্যথা তো থাকবেই।

ছবিতে মৌসুমী আর ঋতুপর্ণাকে নেওয়ার কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন ফেরদৌস- 'তাঁরা শুধু আমার সহশিল্পীই নন, আমার বন্ধু। অনেক বিষয় নিয়েই তাঁদের সঙ্গে আলোচনা হয়। যখন ছবি প্রযোজনার কথা বললাম, দুজনই বলেছিলেন নতুন কাউকে নিতে। কিন্তু আমার কাছে সেটা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। কারণ দর্শক বরাবরই মৌসুমী আর ঋতুর সঙ্গে আমাকে দেখে অভ্যস্ত। তাঁদের সঙ্গে আমার পর্দা-রসায়নটাও দারুণ। আমার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করছি।' 'এক কাপ চা' নিয়ে মৌসুমী বলেন, 'ফেরদৌসের ছবি বলে বলছি না, এই ছবিতে দর্শক টানার অনেক উপকরণ আছে।'

কলকাতা থেকে টেলিফোনে ঋতুপর্ণা বললেন, 'ফেরদৌসের সঙ্গে এত দিন দর্শক আমাকে যে ধরনের ছবিতে দেখেছে, এই ছবি ঠিক তার উল্টো। বাসুদার চিত্রনাট্য যেমন টানটান, তেমনি নেয়ামূলের ডিরেকশনও ভালো হয়েছে। আমি আশাবাদী।'

ফেরদৌস জানালেন, তাঁরা তিনজন ছাড়াও ছবিতে আলমগীর, শাকিব খান, আমিন খান, আঁখি আলমগীর, ইমন, নিরবসহ অনেক শিল্পীই আছেন। ছবির একটি গান লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ।

মৌসুমী-ফেরদৌসের ছবি তুলেছেন আরিফ আহমেদ

 

 

 



মন্তব্য