kalerkantho


মাদারীপুরে ৭ পরিবার ধুঁকছে দুঃসহ ক্ষত নিয়ে

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



মাদারীপুরে ৭ পরিবার ধুঁকছে দুঃসহ ক্ষত নিয়ে

গ্রেনেড হামলায় নিহত লিটন মুন্সীর মেয়েকে আদর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাঁয়ে লিটন মুন্সীর স্ত্রী মাফিয়া বেগম। ফাইল ফটো

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাত পরিবারের বসবাস মাদারীপুরে। নানা কষ্টে চলছে তাঁদের জীবনযাত্রা।

আর্থিক দুর্গতি তাঁদের নিত্যসঙ্গী।

২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মাদারীপুরের চারজন নিহত ও তিনজন আহত হন। তাঁদেরই একজন রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা লিটন মুন্সী। ঢাকাতেই থাকতেন। গ্রেনেড হামলায় নিহত হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা থাকেন মাদারীপুরের চানপট্টি গ্রামে। মা আছিয়া বেগম ও বাবা আইয়ুব আলী মুন্সী এখনো জীবিত। সেদিনের স্মৃতিচারণা করে আছিয়া বেগম বলেন, ‘লিটন বলেছিল, ১০ দিন পর তোমার পেটের পাথর অপারেশন করাব, কিন্তু ৯ দিনের মাথায় ফিরেছে তার লাশ। ’ বাবা আইয়ুব আলী মুন্সী বলেন, ‘সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকা পেয়েছি।

পাঁচ লাখ টাকা আমার নামে আর বাকি পাঁচ লাখ টাকা নাতনি মিথিলার নামে ব্যাংকে রাখা আছে। সব আছে, শুধু আমার সন্তান নেই। ’

শ্রমিক লীগ নেতা নাসিরউদ্দিনের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনিতে। থাকতেন ঢাকার হাজারীবাগে। সেখানে শ্রমিক লীগের সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। শ্রমজীবী এ মানুষটি গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছেন। কালকিনির কয়ারিয়া ইউনিয়নের রামপোল গ্রামে তাঁর পরিবারের সদস্যরা থাকেন। নাসিরউদ্দিনের বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান এখন চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যে আছেন বলে জানিয়েছেন। একই ঘটনায় নিহত সুফিয়া বেগমের বাড়ি রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামে। তাঁর পরিবারের অবস্থাও প্রায় অভিন্ন। গ্রেনেড হামলায় নিহত যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ ওরফে কালা সেন্টুর বাড়ি কালকিনি উপজেলার ক্রোকিরচর গ্রামে। সেন্টুর স্ত্রী আইরিন পারভীন বলেন, ‘ওকে হারিয়ে আমরা পথে বসে গেছি। খেয়ে না খেয়ে এখন কোনো রকমভাবে বেঁচে আছি। ’

কালকিনি পৌরসভার বিভাগদী গ্রামের হালান হাওলাদারের একটি পা নষ্ট হয়ে গেছে গ্রেনেড হামলায়। পঙ্গুত্ব নিয়েও এখন ফেরি করে মুরগি বিক্রি করেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনিও অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন। হালান হাওলাদার বলেন, ‘হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এক শর বেশি স্প্লিন্টার আছে। ’ কালকিনির ঝাউতলা গ্রামের সাইদুল হক সরদার। তিনি আহত হয়ে একইভাবে যন্ত্রণাকাতর দিন কাটচ্ছেন। চোখে ঝাপসা দেখলেও জীবনের প্রয়োজনে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে জমি বিক্রি করে বিদেশ গিয়েছিলাম, থাকতে পারিনি। যন্ত্রণার শরীর নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। ’ গ্রেনেড হামলায় কালকিনির কৃষ্ণনগর গ্রামের কবির হোসেনের ডান হাত বাঁকা হয়ে গেছে। তিনি ঢাকার বস্তিতে থেকে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান।


মন্তব্য