kalerkantho


সাক্ষাৎকার

বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই আমাকে ভালোবাসে

আজ আবুল হায়াতের জন্মদিন। ৭৫-এ পা রাখলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন দাউদ হোসাইন রনি

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই আমাকে ভালোবাসে

জন্মদিনের অগ্রিম শুভেচ্ছা।

অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। ধন্যবাদ কালের কণ্ঠকেও।

 

৭৪ পেরিয়ে ৭৫-এ পা রাখছেন, বিশেষ জন্মদিনটা উদ্‌যাপন করছেন কিভাবে?

বিশেষ কিছু কখনোই করি না, এবারও করছি না। একই দিনে আমার নাতনি শ্রীষারও [নাতাশার বড় মেয়ে] জন্মদিন। দুজন একসঙ্গে কেক কাটব।

 

আপনার জন্ম তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন কেউ কেউ। অনেকে নাকি ২৫ জুন আপনাকে উইশ করেন?

হা হা হা। স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় টিচাররা নিজেদের মতো একটা জন্মদিন লিখে দেয়, বাঙালিদের কিছু কমন বিষয়ের মধ্যে এটা একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়। সার্টিফিকেটে ২৫ জুন জন্মদিন, এই দিনটা আমি পালন করি না। যেহেতু সঠিক জন্ম তারিখটা আমি জানি, সেটাই পালন করি। মা-বাবার কাছ থেকে শুনে এসেছি ২৩ ভাদ্র আমার জন্মদিন, সেই হিসাবে ৭ সেপ্টেম্বর।

 

স্কুল টিচাররা সাধারণত ছাত্রদের বয়স কমিয়ে দেন, আপনার তো দেখি তিন মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে...

স্কুলে যখন ভর্তি হতে গেলাম, তখন আমার বয়স চারও হয়নি। চার বছর বয়স না হলে আবার স্কুলে ভর্তি করাবে না। তখন আব্বাই বললেন জন্মদিন পিছিয়ে দিতে।

 

অভিনেতা আবুল হায়াতের বয়স কত হলো?

১০ বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেছিলাম, সেই হিসাবে ৬৪। রেলওয়ে এমপ্লয়িজ ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন আমার বাবা। ওখানে রেগুলার নাটক হতো। বাবার সঙ্গে রেগুলার নাটক দেখতে যেতাম। সেখান থেকে ইন্সপায়ারড হয়ে ১০ বছর বয়সেই নাটকের দল করলাম, অভিনয় শুরু করলাম। তখন তো ভাবিনি পেশাদার অভিনেতা হব। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক করার পর শখের বসে রেডিও-টেলিভিশনে গেছি।

 

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আপনি পেশাদার অভিনেতা...

পেশাদার হলাম মানে একটা কমার্শিয়ালিজমের মধ্যে ঢুকলাম। তখন অভিনয়টা আর আমাদের হাতে রইল না, চলে গেল পরিচালকের হাতে। পরিচালক আবার নিজে কিছুই করতে পারেন না, তাঁর পেছনে স্পন্সর আর চ্যানেল। তারা যে ধরনের গল্প, অভিনয়, নাটক চায়, তা-ই হয়। বর্তমানে যেভাবে চলছে। আমার কথাই যদি ধরো, বেশির ভাগ নাটকে ক্ষুব্ধ হয়েই অভিনয় করি। যেহেতু পেশা হিসেবে নিয়েছি, করে যাচ্ছি আর কি!

 

স্ত্রী ছাড়া আপনার পরিবারের সবাই অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত, পারিবারিক আড্ডায় আপনাদের আলোচনায় ‘অভিনয়’ কতটা স্থান পায়?

এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করি না বললেই চলে। বিপাশা-নাতাশা কী করল, তৌকীর কী বানাল, শাহেদ কোথায় অভিনয় করল—এসব নিয়ে আমরা আলাপ করি না। সবার একসঙ্গে বসা হয় খুব কমই, হলেও পারিবারিক বিষয় নিয়েই আলাপ হয়। তবে টেলিভিশনে কেউ কারো নাটক দেখলে আমরা নিজেদের নিয়ে মন্তব্য করি। ভালো হলে বলি, খারাপ হলেও বলি। আমার মেয়েরা যেমন ফোন করে বলে, ‘আব্বু তুমি অমুক নাটকে কেন অভিনয় করতে গেলে! না করলেও পারতে।’

 

অভিনয়জীবনে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

বড় অর্জন বলতে কি অ্যাওয়ার্ড বোঝাচ্ছ?

 

না। আপনি যেটাকে ‘অর্জন’ মনে করেন...

আমি ন্যাচারাল অভিনয় করি, এটা সম্পূর্ণ গড গিফটেড একটা ব্যাপার। তবে কখনোই মনে করি না, আমি পাকা অভিনেতা হয়ে গেছি। সারা জীবন শেখার চেষ্টা করে গেছি, এখনো শিখছি। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মানুষ আমাকে চেনে, বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই আমাকে ভালোবাসে। আমি মনে করি, এটা বিরাট অ্যাচিভমেন্ট।

 

মঞ্চে অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন। তিনটি নাটকের কথা বলুন?

প্রথমে বলব ‘বাকি ইতিহাস’-এর কথা। বাদল সরকারের রচনায় নির্দেশনা দিয়েছিলেন আলী যাকের। এই নাটকের জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর অন স্টেজ’ পুরস্কার পেয়েছিলাম। আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশনায় ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ ও জিয়া হায়দারের নির্দেশনায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘বহিপীর’।

 

আর সেরা তিন টিভি নাটক?

একক নাটকের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদেরই দুটি—‘খেলা’ ও ‘একা একা’, আরেকটা আতিকুল হক চৌধুরীর ‘আগন্তুক’। ধারাবাহিকের মধ্যেও হুমায়ূন আহমেদের দুটি ‘অয়োময়’ ও ‘বহুব্রীহি’, আরেকটা আমার পরিচালনায় ‘জোছনার ফুল’।

 

চলচ্চিত্র?

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, জীবনের প্রথম ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ও ‘জয়যাত্রা’।

 



মন্তব্য