kalerkantho


৬ কোটির পথে

ইতিহাস গড়া অপরাধী

রবিউল ইসলাম জীবন   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ইতিহাস গড়া অপরাধী

আরমান আলিফের ‘অপরাধী’। ২৬ এপ্রিল ঈগল মিউজিক ভিডিও স্টেশনে গানটির ভিডিও আপলোড করা হয়। এর পরই ভাইরাল। প্রথম ১৪ দিনেই স্পর্শ করে কোটি ভিউয়ারের মাইলফলক। এরপর দিন যত গড়িয়েছে, গানটি নিয়ে আলোচনা ততই বেড়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ শুরুর আগে ড্রেসিংরুমে গানটি গেয়ে ভিডিও প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তারপর আরো বেশি ছড়িয়ে যায়। উঠে আসে গ্লোবাল র‌্যাংকিংয়ের ৮০ নম্বরে। গত সপ্তাহে ছিল ৬০ নম্বরে। ৬ জুন মাত্র ৪০ দিনে ৫ কোটি ভিউয়ার অতিক্রম করে গানটি। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভিউয়ার ছিল ৫ কোটি ৬২ লাখের বেশি। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি কথা-সুর করেছেন আরমান আলিফ। সংগীতায়োজনে অংকুর মাহমুদ। গানটি নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন গায়ক। তাঁকে নিয়ে বলেছেন প্রখ্যাত সুরকার আলম খান।

 

১৫ মিনিটের মধ্যে পুরো গানটি হয়ে যায়

আরমান আলিফ

কয়েক দিন ধরে আরমান আলিফের মন খারাপ। তাঁর ফেসবুক আইডি ডি-অ্যাকটিভ হয়ে গেছে। অথচ ইতিহাস সৃষ্টি করা ‘অপরাধী’র জন্য চারপাশ থেকে কত কত এসএমএস এসে জড়ো হচ্ছে ইনবক্সে! আরমান আলিফ বলেন, ‘মেটাল গান করে এমন একটি দল গানটির পেছনে লেগেছে। তারা বলছে আমার গানটি নাকি সস্তা। তাই নানাভাবে গানটি নিয়ে সমালোচনা করছে। তাদেরই একটি গ্রুপ রিপোর্ট করে আমার ফেসবুক আইডি ডি-অ্যাকটিভ করে দিয়েছে। আমি আইডিটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি।’

এই গায়ক আরো বলেন, ‘২০১৭ সালের শেষ দিকে একদিন বিকেলে আমার ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দুর বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ সুরটা মাথায় আসে। এই সুরের সঙ্গে ঝুমুর তালটি যায় বিধায় গিটারিস্টকে বলি—তুমি তালটি বাজাতে থাকো। ও বাজাতে থাকে, আমি সুরের সঙ্গে কথাও রেডি করতে থাকি। ১৫ মিনিটের মধ্যে পুরো গানটি হয়ে যায়। সেখানে বসেই ভিডিও করে আমার ব্যক্তিগত চ্যানেলে আপলোড করি। তারপর ঈগল মিউজিক আমাকে প্রস্তাব দেয় নতুনভাবে গানটি করার। অনেকে প্রশ্ন করছেন, গানটির গল্প আমার জীবন থেকে নেওয়া নাকি? সত্যিটা হলো, গানটিতে আমার জীবনের বাস্তব গল্প ৩০ ভাগ, বাকি ৭০ ভাগ কল্পনা।’

 

পুরো গানটি শ্রোতাকে আনন্দ দেবে

আলম খান

গানটি আমি শুনেছি, ভিডিওটিও দেখেছি। এটাকে এককথায় বলা যায় এন্টারটেইনমেন্ট সং। সুরটি খুব সহজ। কথার মধ্যে নতুনত্ব আছে। তরুণ শ্রোতাদের মনের সঙ্গে মিলে যাওয়ার মতো। তাই সবাই এভাবে গ্রহণ করেছে। মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্লেয়াররাও গানটি গেয়েছে। মজা পেয়েছে বলেই তারা গেয়েছে। অর্থাৎ পুরো গানটি শ্রোতাকে আনন্দ দেবে। এই জায়গা থেকে গানটি আমারও ভালো লেগেছে। তবে সংগীতজ্ঞ হিসেবে যদি বলি, গানটি কিন্তু চিরস্থায়ী হওয়ার মতো নয়। তার পরও আমি গানটিকে ছোট করে দেখছি না। এমন সময়ে একটি গান এত জনপ্রিয় হওয়া কিন্তু সহজ কথা নয়। মানুষের ভালো লেগেছে বলেই এত দূর এসেছে। সবাই যেখানে ভিডিওর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করছে, আরমান সেখানে হালকা একটা ভিডিওতে গানটি প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ অডিওর শক্তিই এখানে মুখ্য। গান দিয়ে যদি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করা যায়, তখন ভিডিও যে গৌণ হয়ে যায় এই গানই তার প্রমাণ। এমন একটা ইতিহাস সৃষ্টির পুরো কৃতিত্ব আরমানের। আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। সে আরো পরিণত হোক, ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে তৈরি করুক—এটাই আমার চাওয়া।



মন্তব্য