kalerkantho


অস্কারের সাত সতেরো

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অস্কারের সাত সতেরো

৪ মার্চ [বাংলাদেশ সময় ৫ মার্চ] লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে হয়ে গেল ৯০তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। জিমি কিমেলের উপস্থাপনায় এবারের অস্কারের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও গুরুত্বপূর্ণ ছয় পুরস্কার নিয়ে এক পৃষ্ঠার আয়োজন। লিখেছেন রিদওয়ান আক্রামলতিফুল হক

 

খামের নকশা বদল

 

গতবার খাম বিভ্রাটের জন্য ভুল করে ‘সেরা চলচ্চিত্র’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল ‘লা লা ল্যান্ড’-এর নাম। শেষমেশ মঞ্চে অনেক কাহিনি করে জানানো হয়, আসলে ‘সেরা চলচ্চিত্র’ হয়েছে ‘মুনলাইট’। এবার যাতে সেই রকম কোনো ঝামেলা না হয় তার জন্য খামের নকশায় খানিকটা পরিবর্তন আনা হয়েছিল। কালো খামের ওপর দুইবার করে প্রতিটি বিভাগের নাম লেখা হয়েছে। একটি বড় হরফে, আরেকটি ছোট হরফে। যাতে পরিষ্কার বোঝা যায় কোন বিভাগের পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে ছোট বক্তব্য

অস্কার অনুষ্ঠানের প্রথমদিকেই উপস্থাপক জিমি কিমেল বলেছিলেন, এবার বিজয়ীরা চাইলে নিজেদের ইচ্ছামতো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে পারবেন। তবে সবচেয়ে কম সময় যিনি নেবেন তাঁর জন্য থাকছে বিশেষ পুরস্কার। আর সেটা হলো ১৭ হাজার ৯৯৯ ডলার মূল্যের কাওয়াসাকি ব্র্যান্ডের একদম নতুন মডেলের একটি জেট স্কি। সেটা নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন অস্কার বিজয়ী ব্রিটিশ অভিনেত্রী হেলেন মিরেন। কিমেল স্টপ ওয়াচ নিয়ে বিজয়ীদের বক্তব্যের সময় দেখেন। আর তাতে বিজয়ী হয়েছেন মার্ক ব্রিজেস। জেট স্কিটি জিততে তিনি মাত্র ৩৬ সেকেন্ড ব্যয় করেছেন। এই ফাঁকে বলে রাখি, মার্ক কিন্তু ‘ফ্যান্টম থ্রেডস’ ছবির জন্য ‘সেরা পোশাক নকশা’ পুরস্কারটিও জিতেছেন। 

সবচেয়ে বেশি বয়সী বিজয়ী

চলচ্চিত্রজগতে আছেন অর্ধশতাব্দী ধরে। একাধারে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার। তাঁর চলচ্চিত্রগুলো এর মধ্যে পেয়েছে ৩১টি অস্কার মনোনয়ন। আর জিতেছে ছয়টি পুরস্কার। কিন্তু জেমস আইভরির জন্য অস্কার অধরাই রয়ে গেছে। কিন্তু সেই অপেক্ষা শেষ হলো এবারের ৯০তম অস্কারে এসে। ‘কল মি বাই ইয়োর নেম’ ছবিটির জন্য পেয়েছেন ‘সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্য’র পুরস্কার। আর এই পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্যে একটা ইতিহাসও গড়ে ফেললেন আইভরি। আর সেটা হলো, প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে সবচেয়ে বেশি বয়সী বিজয়ী। অস্কারে প্রথম মনোনয়নটি পেয়েছিলেন ৩০ বছর আগে। আর ৮৯ বছরে এসে জিতলেন নিজের প্রথম অস্কারটি।

শশী শ্রীদেবী স্মরণ

গত বছরের ডিসেম্বরে গত হয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা শশী কাপুর। আর গত মাসে চলে গেলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম মহিলা সুপারস্টার শ্রীদেবী। তাঁদের স্মরণ করা হলো এবারের অস্কারে। ‘ইন মেমোরিয়াম’ বিভাগে তাঁদের সঙ্গে আরো স্মরণ করা হয় জন হার্ড, টনি অ্যান ওয়াকার, রবার্ট ওজবর্ন, মার্টিন ল্যান্ডো, গ্লেন হিডলি, রজার মুর, জর্জ এ রমারো ও জেরি লুইসকে।

অভিনব ধন্যবাদ

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থাপক জিমি কিমেল বললেন, “আজকের যে অস্কার অনুষ্ঠান হচ্ছে তার মূল ধন্যবাদ প্রাপক চলচ্চিত্র দর্শক। বিশেষ করে যারা সিনেমা দেখতে সিনেমা হলে উপস্থিত হয়। তো আমরা তাদের জন্য ধন্যবাদ জানাব। আমাদের পাশের ‘টিএলসি চায়নিজ থিয়েটার’-এ উপস্থিত দর্শকদের সেটা জানানো হবে। আর এ কাজে আমার সঙ্গে কে কে যাবে?” তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলে যোগ দেন এমিলি ব্ল্যান্ট, মার্ক হ্যামিল, গ্যাল গাদত, গুলেরমো দেল তোরো, আরমি হ্যামার, আনসেল এলগর্ট, মারগোট রবি এবং লিন ম্যানুয়েল-মিরিন্ডার মতো অভিনেতা, অভিনেত্রী ও পরিচালকরা। পরে তাঁরা চুপি চুপি সিনেমা দেখতে থাকা দর্শকদের সামনে উপস্থিত হয়ে সবাইকে অবাক করে দেন। এ পর্যায়ে দর্শকদের হাতে নানা রকম মজাদার খাবার তুলে দেন তাঁরা।

অজান্তে ইতিহাস

এবারের আসরে দ্বিতীয়বারের মতো মঞ্চে উঠেছিলেন ড্যানিয়েলা ভেগা। উদ্দেশ্য ছিল সুফিয়ান স্টিফেনকে গান গাওয়ার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি ইতিহাসও গড়লেন। চিলির এই অভিনেত্রী হচ্ছেন প্রথম কোনো লিঙ্গান্তরিত নারী যিনি অস্কারে মঞ্চে এমন সম্মানের অধিকারী হলেন। তাঁর অভিনীত ছবি ‘আ ফ্যান্টাস্টিক উইমেন’ বিদেশি চলচ্চিত্র বিভাগে বিজয়ী হয়েছে।

৫৬ বছর পর

১৯৬২ সালে যখন ‘সেরা সহ-অভিনেত্রী’ হিসেবে অস্কার জেতেন তখন রিটা মরিনোর পরনে ছিল বিশেষ এক পোশাক, যা কিনা জাপানিদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কিমানোর কাপড় দিয়ে তৈরি। ৫৬ বছর ধরে সেটা তাঁর আলমারিতে তোলা ছিল। এত দিন পর আবার তাঁর সুযোগ এসেছে অস্কারে সেই পোশাক পরে আসার। তবে এবারের আসরে তিনি কোনো প্রতিযোগী হিসেবে হাজির হননি। এসেছেন তাঁর মেয়ে ফার্নান্দ লুইস গর্ডনের সঙ্গে। মেয়ে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন টিভি ধারাবাহিক ‘ওয়ান ডে অ্যাট আ টাইম’-এর অভিনেত্রী হিসেবে।

 

ওল্ড ইজ গোল্ড
জলমানবের প্রেমই হলো সেরা

ম্যাকডোরমন্ডের দ্বিতীয়

জাদুবাস্তবতার দেল তোরো

মিগুয়েলের গল্প

সত্যি হলো চিলিয়ান রূপকথা



মন্তব্য