kalerkantho

আমি ভীষণ খুশি

২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবিতে দেড় বছর ধরে অনলাইনে সোচ্চার এই সুরকার ও মুক্তিযোদ্ধা। অবশেষে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে বিষয়টি। আগামী মাসেই আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এ প্রসঙ্গে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সঙ্গে কথা বলেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আমি ভীষণ খুশি

২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হচ্ছে। আপনার অনুভূতি কেমন?

আমি ভীষণ খুশি। প্রায় ৪৫ বছর পর হলেও অবশেষে দিবসটি হচ্ছে। অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছিল। বলা যায় অনেকটা একক প্রচেষ্টায় বিষয়টি সংসদে পৌঁছে দিয়েছি। গত এক বছর এ বিষয়ে অনেক লিখেছি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আমার ফেসবুক বন্ধু এবং তাঁদের বন্ধুরা। ছড়াতে ছড়াতে একসময় পৌঁছে যায় শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে। তিনিই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সায় দিয়েছেন।

বলেছেন আগামী মাসেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।  

 

কোন ভাবনা থেকে আপনি দাবিটি করেছেন?

২৫ মার্চের গণহত্যার দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছি। সেদিন যাঁদের হত্যা করা হয়েছিল তাঁদের সম্মান জানানো দরকার বলে আমি অনুভব করেছি। স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস আমরা পালন করি ঠিক। কিন্তু ২৫ মার্চের গুরুত্বও কম নয়। ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস। তাঁরা উচু শ্রেণির মানুষ বলে তাঁদের জন্য আলাদা দিবস থাকবে, কিন্তু ৩০ লাখ সাধারণ মানুষ যে জীবন দিল তাদের আমরা মনে রাখব না! এটা হতে পারে না।

 

দিবসটির প্রভাব কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

নতুন প্রজন্ম বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাববে। জানতে চেষ্টা করবে। তারা বুঝবে কত রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। সারা পৃথিবীর মানুষও এটা বিশেষভাবে জানতে পারবে। ইতিহাসের কল্যাণে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারাও বেঁচে থাকবে হাজার হাজার বছর।

 

‘স্বাধীনতা দিবস আছে, বিজয় দিবস আছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মা, বাবা, ভাই ও বোনের গণহত্যা দিবস কোন দিনটি? এবং যে বিশেষ দিবসটি সমগ্র জাতির কাছে শুধু শোকের দিবস হিসেবে পরিগণিত হবে, সেই দিবসে সব আনন্দ-উল্লাস থেকে জাতি বিরত থাকবে। ’৭১-এর গণহত্যা দিবস চাই। ’

 

[আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ফেসবুক পোস্ট, ৩০ জুলাই ২০১৬]


মন্তব্য