kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নাম ডিলান

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নাম ডিলান

‘কতটা পথ পেরুলে তবে পথিক বলা যায়’—বব ডিলানের কাছ থেকে ধার করে বাংলায় এ গান করেছেন কবির সুমন। সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার পর বব ডিলানকে নিয়ে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এ লিখেছেন তিনি।

সেখান থেকে কিছু অংশ—

 

বব ডিলানের গানের কথা এমনি খুব সরল, পুরোটা অনুভবের। তিনি সব সময়ই আমাকে বাংলার বাউলদের কথা মনে করিয়ে দেন, যাঁরা খুব সহজ কথায় গভীর দর্শন প্রকাশ করতে পারেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার আরেকজন প্রিয় গীতিকার। তাঁর নোবেল পাওয়ার ১০০ বছরের কিছু বেশি সময় পর আরেকজন গীতিকবি এ পুরস্কার পেলেন। পিট সিগারের সঙ্গে পারফর্ম করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, কিন্তু ডিলানের সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। তবে আমার জীবনে তাঁর প্রভাব অস্বীকার করি কী করে!

মনে পড়ে ১৯৭৩ সালে এক বন্ধুর বাড়িতে প্রথম ডিলানকে শুনি। গানটা ছিল ‘আ হার্ড রেইনস গনা ফল’। এটি একটি চমক আর ধাক্কার মতো এসেছিল। এটি ঠিক কণ্ঠটি শুনতে দারুণ ছিল না, কিন্তু কথা ছিল সহজ, শক্তিশালী, কাব্যময়—সব মিলিয়ে অসাধারণ। আমার গায়ের লোম যেন খাড়া হয়ে উঠছিল। গানের কথা টিপিক্যাল মার্কিন ধাঁচের নয়, আসলে ঠিক দেশের গণ্ডিতে তা বাঁধা যাবে না। এর একটি বিশ্বজনীন আবেদন আছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সেটি আমরা দেখেছি। ডিলানই আমাকে আমার নিজের শিকড় লোকগানের কাছে ফেরত পাঠায়।

এখনো যখন ডিলানের কথা ভাবি তখন শুধু মানুষের আবেগ আর গুণের কথা নয়, আমার কাশ্মীর আর ইউরেনিয়াম খনির পাশে জাদুগুডা গ্রামের মানুষের কথা মনে হয়। ডিলান আসলে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদের নাম। ডিলান আমার প্রেরণার নাম, যিনি আমাকে মানসিক শোক কাটিয়ে যে গানের কথা লিখতে চেয়েছি সেটা লিখতে সাহায্য করেছেন।

 


মন্তব্য