kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সর্বকালের সেরা গান

লাইক আ রোলিং স্টোন

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লাইক আ রোলিং স্টোন

এক সাক্ষাৎকারে নিজেই স্বীকার করেছেন, গান লেখার মধ্য দিয়েই তাঁর ক্যারিয়ারের ভবিষ্যত্টা নির্ধারিত হয়েছিল। ২০ পাতার একটি কবিতা (যদিও তিনি এটাকে ‘বমি’ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন) যে একটা গানে পরিণত হতে পারে, তা নিজেও জানতেন না।

১৯৬৫ সালে যুক্তরাজ্য ট্যুর থেকে ফিরে বব ডিলান ভাবছিলেন সংগীত থেকে অবসর নেওয়ার কথা। এমন এক মানসিক অবস্থায় সে বছরের জুনে লিখে ফেললেন ‘লাইক আ রোলিং স্টোন’। প্রথম দিকে গানের ধরনটা কেমন হবে, সেটা নিয়েও সন্দিহান ছিলেন। দুই দিনের টানা চেষ্টার পরও নিজের মনঃপূত হচ্ছিল না। শেষে গানটি রক ঘরানায় ফেলেন। সঙ্গে যোগ হয় আল কুপারের অর্গান বাদন, যা গানটির বিশেষত্ব হয়ে ওঠে। আর এই গানের মধ্য দিয়েই বলা যায় বব ডিলান ফোক সংগীতশিল্পী থেকে হয়ে ওঠেন রকস্টার। যদিও গানটি নিয়ে প্রযোজনা সংস্থা কলম্বিয়া রেকর্ডস মোটেই সন্তুষ্ট ছিল না, বিশেষ করে গানটির ব্যাপ্তি ছয় মিনিটের বেশি (বাণিজ্যিক কারণে সে সময় সাধারণত একটি গানের ব্যাপ্তি হতো তিন মিনিট) হওয়ায় এবং গানে ব্যাপক ইলেকট্রিক সাউন্ড থাকায়। তারা এটা প্রকাশের ব্যাপারেও খানিকটা দ্বিধায় ছিল। শেষ পর্যন্ত গানটি প্রকাশিত হয় সে বছরের ২০ জুলাই। এর আগেই অবশ্য গানটি স্থানীয় এক ক্লাবে বাজতে শোনা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের রেডিও স্টেশনগুলো গানটি না বাজালেও এটি বিলবোর্ডের দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে। একই সঙ্গে গানটি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করে। গানটি পরে ১৯৬৫ সালের ৩০ আগস্ট প্রকাশিত বব ডিলানের ষষ্ঠ স্টুডিও অ্যালবাম ‘হাইওয়ে ৬১ রিভিজিটেড’-এ জায়গা করে নেয়। লেখক মাইকেল গ্রের মতো এই অ্যালবামটি দিয়েই ষাটের দশকের সূচনা হয়েছে। ২০১৪ সালে এক নিলামে ডিলানের হাতে লেখা এই গানটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়, যা জনপ্রিয় সংগীতের পাণ্ডুলিপির বিক্রির ক্ষেত্রে একটি বিশ্বরেকর্ড। বিখ্যাত সংগীত ম্যাগাজিন দ্য রোলিং স্টোন গানটিকে তাদের ‘সর্বকালের সেরা ৫০০ গান’-এর তালিকার শীর্ষে রেখেছে। ‘দ্য জিমি হেনড্রিকস এক্সপেরিয়েন্স’, ‘দ্য রোলিং স্টোনস’, ‘গ্রিন ডে’র মতো বিখ্যাত সব ব্যান্ড আর সংগীতশিল্পী ‘লাইক আ রোলিং স্টোন’ গানটি নিজেদের মতো করে গেয়েছেন।

রিদওয়ান আক্রাম


মন্তব্য