kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গায়কের ঝুড়িতে সাহিত্যের নোবেল

কিছু মানুষ আছে, যারা পুরস্কার পেলে ওই পুরস্কারটাই বিখ্যাত হয়ে যায়। বব ডিলান নোবেল পেলেন? নাকি অনেকটা পথ পেরিয়ে শেষে নোবেল পুরস্কারটা ববকে পেল! জানাচ্ছেন ধ্রুব নীল

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গায়কের ঝুড়িতে সাহিত্যের নোবেল

বব ডিলান কোন দেশের? কোন গ্রামে বাড়ি তাঁর। উত্তর মিলবে বাতাসে বাতাসে।

ডিলানের দেশ নেই, ঘর নেই। ডিলান সবার, আমাদের, যুগের পর যুগ যারা হবে নতুন প্রজন্ম, যারা শান্তিপ্রিয়, যুদ্ধ চায় না...বব তাদের প্রত্যেকের। বৈশ্বিক এই চেতনা নিয়ে এবার উদ্যাপনের নতুন ছুতা পেল ভক্তবিশ্ব। নোবেল পেয়েছেন তাদের প্রিয় কবি। সুইডিশ কমিটির গত্বাঁধা কথাটাও কেমন যেন কবিতার মতোই শোনাল এ দফা—ডিলানকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, কারণ ‘আমেরিকান গানের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের মাঝে নতুন ধারার কাব্যিক দ্যোতনা এনেছেন তিনি। ’

কিভাবে এসেছিলেন? কিভাবে শুরু? কবে রবার্ট অ্যালান জিমারম্যান থেকে হয়ে গেলেন বব ডিলান? নামটা নিজেই রেখেছেন। ডিলান টমাস নামের এক কবির নামে। মিনেসোটার কফি হাউসগুলোতে যখন গাইতেন, তখন থেকেই দার্শনিক, কবি। গাইতেন জীবনের গান। যুদ্ধাহত পৃথিবীতে ধনীদের শোকেসে সাজানো শুদ্ধ রাগের রেকর্ড বড় কর্কশ শোনাত। নিজের সময়ের চলমান ধারার কপালে বুড়ো আঙুল ঠেকিয়ে বললেন, এবার শোনো তবে কেমন হবে নাগরিক গান। মিনিটের ছকে বাঁধা থাকলেই তা গান হয় না। গান হবে পাতার পর পাতা, স্রোতের মতো, চলতেই থাকবে। ডিলানের এমন অবাধ্যতাই মার্কিন ফোক গানে ঢেলে দিল নতুন রক্তধারা। আগের চেয়ে আরো উষ্ণ, আরো প্রতিবাদী।

১৯৫৯ থেকে শুরু। কিন্তু সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাননি। ২০০৬ সালে, মানে ৪৭ বছর পরও টপ চার্টে। জর্জ বার্নার্ড শর মতো বব ডিলানও দুর্লভ আকাশের তারকা, যিনি একই সঙ্গে নোবেল, অস্কার—দুটিই পেয়েছেন। ২০০১ সালে ‘ওয়ান্ডার বয়েজ’ নামের একটি ছবিতে ‘থিংস হ্যাভ চেঞ্জড’ গানটি লিখে পেয়েছিলেন অস্কার। পেয়েছেন পুলিত্জারও। মুড়ি-মুড়কির মতো পেয়েছেন গ্র্যামি পুরস্কার (১১টি)। আছে গোল্ডেন গ্লোব, পোলার মিউজিক, মেডেল অব ফ্রিডম, লিজিয়ন ডি অনার (ফ্রান্স)—আরো কত কী!

ববের ‘নেভার এন্ডিং ট্যুর’ শেষ হয়নি এখনো। অনেকে বলছেন, এবার এই নায়কের অবসরের পালা। গানের গলা তো আর আগের মতো নেই। কিন্তু কবির কণ্ঠ কি ফুরিয়েছে?


মন্তব্য