kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বিদায় ভাইদা

রংবেরং ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিদায় ভাইদা

বাবা ছিলেন সৈনিক। সোভিয়েত বাহিনীর হাতে ১৯৪০ সালে কাতিন গণহত্যার শিকার হন।

তিনিও হতে চেয়েছিলেন বাবার মতো। কিন্তু সেনাবাহিনীতে ঢুকতে চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হয়ে হাতে তুলে নেন ক্যামেরা। এরপর একে একে বানিয়েছেন যুদ্ধবিরোধী অসাধারণ সব ছবি। ৯ অক্টোবর মারা গেছেন পোল্যান্ডের কিংবদন্তি এই পরিচালক আন্দ্রেই ভাইদা। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন, দিন কয়েক আগে কোমাতেও চলে যান। এদিন তাঁর ফুসফুস কাজ করছিল না। সে অবস্থায়ই মারা গেলেন ভাইদা।

ভাইদা পেইন্টিংয়ের ছাত্র ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যোগ দিয়েছিলেন পোল্যান্ড প্রতিরোধ বাহিনীতেও। যুদ্ধের পর ভর্তি হন দেশটির বিখ্যাত লর্ডস ফিল্ম স্কুলে। ১৯৫৫ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ‘আ জেনারেশন’। যুদ্ধ ট্রিলজির প্রথম ছবি। পরেরগুলো হলো ‘কানাল’ [১৯৫৬] ও ‘অ্যাসেজ অ্যান্ড ডায়মন্ড [১৯৫৮]। প্রথমটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পোলান্ডের গল্প। জার্মান দখলদার বাহিনীর অধীনে থাকার সময়টা দুই কিশোরের বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন পরিচালক। ৬০ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে ৪০টির বেশি ছবি বানিয়েছেন। এর সব কটিতেই ঘুরেফিরে এসেছে যুদ্ধ আর রাজনীতি। তাই নামের আগে ‘বিতর্কিত’ জুড়ে দেওয়া হতো। দেশের কমিউনিস্ট শাসকদের সঙ্গে ছবির সেন্সর নিয়ে বরাবর ঝামেলায় পড়েছেন তিনি। সেন্সরের কড়া নিয়মের মধ্যে থেকেও যে নিজের বক্তব্য রাখা যায় সেটাও প্রমাণ করেছেন ভাইদা। নানা বাধাবিপত্তির মধ্যে ১৯৭৭ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ম্যান অব মার্বেল’-এর প্রদর্শনী করেন তিনি, যা ছিল কমিউনিস্টের বিপক্ষে। রুশবিরোধী বলে নিজের সবচেয়ে পছন্দের বিষয় কাতিন গণহত্যা নিয়ে কমিউনিস্ট আমলে ছবি বানাতে পারেননি। ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্টের পতনের পর সুযোগ আসে। ২০০৭ সালে মুক্তি পায় ‘কাতিন’, যা সে বছর দেশটি থেকে অস্কারে মনোনীতও হয়েছিল। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘দ্য প্রমিজড ল্যান্ড’ [১৯৭৫], ‘দ্য মেইডস অব উইলকো’ [১৯৭৯], ‘করজাক’ [১৯৯০] ইত্যাদি।

১৯৮১ সালে ‘ম্যান অব আয়রন’-এর জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণ পাম জেতেন। ,যা তিনি তৈরি করেন শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে। ২০০০ সালে তাঁকে দেওয়া হয় সম্মানজক অস্কার। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার ছিল বোধ হয় পোল্যান্ডে কমিউনিস্টদের পতন। ২০০৭ সালে এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি! কোনো দিনও ভাবিনি পোল্যান্ডকে একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখে যেতে পারব। ’ পরিচালকের মৃত্যুতে স্বভাবতই শোকে বিহ্বল চলচ্চিত্র দুনিয়া। ড্যানিয়েল অলবেরেস্কি, যিনি পরিচালকের সঙ্গে ১৩টি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি বলেছেন, ভাইদা ছাড়া এমন কোনো পরিচালক তিনি পাননি যিনি অভিনেতাদের নিয়ে এত ভালোভাবে কাজ করেন।


মন্তব্য