kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিচ্ছেদ, অতঃপর...

লতিফুল হক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিচ্ছেদ, অতঃপর...

২০০৪ সালে ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’-এর শুটিয়ের সময় পরিচয়। তারপর প্রেম।

২০০৫ সালে জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে পাঁচ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির হাত ধরেছিলেন ব্র্যাড পিট। জোলির জন্য এটা ছিল তৃতীয় সম্পর্ক। সেই হিসেবে ১২ বছর পর আক্ষরিক অর্থেই তাঁদের ‘এক যুগের সম্পর্ক’-এর অবসান হলো। জনপ্রিয় চলচিত্র উপহার দেওয়া তো আছেই, জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে সরব কার্যক্রম, দুস্থ শিশুদের দত্তক নেওয়া—নানা কারণেই দুনিয়াজুড়ে জনপ্রিয় ছিলেন ব্র্যাড-জোলি। ব্র্যাডের ব্রা আর অ্যাঞ্জেলিনার ঞ্জেলিনা মিলিয়ে মানুষ আদর করে তাঁদের ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা’ নামও দেয়। মোট ছয়টি সন্তান আছে এই তারকা দম্পতির, যার মধ্যে তিনজন ঔরসজাত, তিনজন দত্তক।

যদিও সম্পর্কটা এক যুগের, তবে তাঁদের দম্পতি হয়ে ওঠা সাম্প্রতিক ঘটনা। প্রায় এক দশক একসঙ্গে থাকার পর ২০১৪ সালে প্যারিসে গোপনে বিয়ে করেন তাঁরা। বছর ছয়েক আগে তাঁদের সম্পর্কে ভাঙনের খবর প্রকাশ করায় একটি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন ব্র্যাড। কিন্তু কে জানত, পরে সেটাই সত্যি হবে। দেড় বছর ধরেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা হচ্ছিল। তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে নানা খবরও হচ্ছিল। খবরের প্রতিক্রিয়ায় এবার অবশ্য কেউই মামলা করেননি। ২০০৫ সালে একসঙ্গে প্রথম ছবি করার ঠিক এক দশক বাদে গত বছর তাঁদের আবারও দেখা যায় ‘বাই দ্য সি’তে। সেখানে কাকতালীয়ভাবে পর্দায়ও দুজনের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখানো হয়; যদিও দুজনই সেটা ‘গল্পের প্রয়োজনে’ বলে উড়িয়ে দেন। তবে সেসব মিথ্যা করে মঙ্গলবার বিচ্ছেদের আবেদন করেন জোলি। অভিযোগ, ব্র্যাড অতিরিক্ত মদ্যপান করে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যার প্রভাব পড়ে সন্তানদের ওপর। এক বিবৃতিতে জোলি জানান, সবই তিনি করছেন সন্তানদের কথা ভেবেই।

 

এ হওয়ারই ছিল

দুই দিন আগে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বিচ্ছেদের আবেদন করলেও এই ঘটনা নাকি আরো আগেই ঘটার ছিল, মত ঘনিষ্ঠ সূত্রের। এমনকি ২০১৪ সালে তাঁদের বিয়ের আগেই একবার সম্পর্ক ভাঙতে বসেছিল। সে সময় জোলিকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে ঠাণ্ডা করেন ব্র্যাড। অভিনেতাদের খুব কাছের এক বন্ধু জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর ধরে তাঁরা আলাদা বিছানায় ঘুমাতেন। এ সময়ের মধ্যে তাঁদের দেখাও হয়েছে খুব কম। জোলি বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন লন্ডনে। সর্বশেষ এ বছরের ১০ জুলাই লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষবারের মতো একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হন দুজন। বন্ধুটি আরো জানান, শুধু অতিরিক্ত মদ্যপান, হুটহাট রেগে যাওয়াই নয়, আরো অনেক ব্যাপারেই দুজনের মতে মিলছিল না। ‘বাই দ্য সি’র প্রচারণার সময় কিছু বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতের অমিলের কথা স্বীকারও করেন ব্র্যাড।

 

‘দুঃখিত’ ব্র্যাড সন্তানদের ভালো চান

স্ত্রীর বিচ্ছেদের আবেদনের পরই খোঁজ চলছিল ব্র্যাড পিটের। অবশেষে তিনি আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে জানান, স্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। ব্র্যাড বলেন, ‘দুঃখিত হলেও সন্তানদের মঙ্গলই এখন বড় ব্যাপার। আমি গণমাধ্যমকে অনুরোধ করছি, আমার বাচ্চাদের এই কঠিন সময়ে তাদের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিন। ’ জানা গেছে, নানা ঝামেলা থাকলেও ব্যাপারটা বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াক তা কখনোই চাননি ব্র্যাড। হলিউডে দুজনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু জর্জ ক্লুনি এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি ‘ভীষণভাবে মর্মাহত’।

 

গিনেথ প্যালট্রো নাকি মারিয়ঁ কোতিয়া?

বিচ্ছেদের ঘটনায় তৃতীয় পক্ষ থাকবে না তা কী হয়। কিছুদিন আগে ব্র্যাড পিটের সঙ্গে গিনেথ প্যালট্রোর সম্পর্কের কথা শোনা যায়। তাঁরা বেশ কয়েকবার ডেটে গেছেন, সেটা নিয়ে অনেকবারই খবর হয়েছে। খুব সাম্প্রতিক সময়ে ব্র্যাডের সঙ্গে ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ঁ কোতিয়ার সম্পর্কের কথা শোনা গেছে। মূলত একসঙ্গে ‘অ্যালাইড’ ছবির শুটিংয়ের পর থেকেই দুজনের প্রেমের গুঞ্জন রটে। বলা হয়েছে, জোলির বিচ্ছেদের আবেদনের পেছনে ব্র্যাডের এসব সম্পর্কের ভূমিকা আছে। জানা গেছে, দুজনের সম্পর্কের খোঁজ নিয়ে এক প্রাইভেট ডিটেকটিভকেও ভাড়া করেছিলেন জোলি, যাতে গোপনে শুটিং ইউনিটে ঢুকে তাঁদের ওপর নজর রাখতে পারেন!

 

ঠিক হয়েছে

‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’-এর শুটিয়ের সময় প্রেম। এরপর জেনিফার অ্যানিস্টনের কাছ থেকে ব্র্যাড পিটকে রীতিমতো ‘ছিনতাই’ করেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। শেষ হয় তাঁদের পাঁচ বছরের দাম্পত্যের। এরপর কত বছর পেরিয়েছে, অ্যানিস্টনও ফের বিয়ে করেছেন। কিন্তু মনে যে পুরনো ক্ষত ঠিকই পুষে রেখেছেন। জানা গেছে, ব্র্যাডের বিরুদ্ধে জোলির বিচ্ছেদের আবেদনকে তিনি ‘কর্মফল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ‘ঠিক হয়েছে, ব্র্যাঞ্জেলিনা একদিন ভাঙতই’—এভাবেই অ্যানিস্টন ঘনিষ্ঠ একজনের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।


মন্তব্য