kalerkantho

26th march banner

স্মরণে দিতি

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্মরণে দিতি

পারভীন সুলতানা দিতি [১৯৬৫-২০১৬]

আমার কথা খুব মানত

ববিতা, অভিনয়শিল্পী

আমরা জানতাম দিতি চলে যাবে। শেষ সময়টা খুব খারাপভাবে কেটেছে ওর। ইউনাইটেড হাসপাতালে একবার ওকে দেখতে গিয়েছিলাম। তখন অল্প অল্প চিনতে পারত। আমাকে দেখে খুব খুশি হয়েছিল। সারা মুখে চুমু খেয়েছিল। দিতির সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল গভীর। আমার প্রযোজনায় নির্মিত ছবিতে অভিনয়ও করেছে সে। শিল্পীদের কিছু গোপন কথা থাকে। আমরা সেটা শেয়ার করতাম। সময় পেলেই দিতি আমার বাসায় আসত। দুজনই ছিলাম সংসার জীবনে একা। আমি ওকে নানা উপদেশ দিতাম। আমার কথা খুব মানত। আজ খারাপ লাগছে ওর জন্য। জীবনে সুখ বলতে যেটা বোঝায় সেটা দিতি কমই পেল। এত দ্রুত তাঁর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

বড় ভালো মানুষ ছিলেন

ইলিয়াস কাঞ্চন, অভিনয়শিল্পী

অনেক দিন ধরে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। শেষ দিকে বেশ কষ্ট পেয়েছেন। প্রায়ই লামিয়া এবং দীপ্তর কাছে দিতির খোঁজ নিতাম। ওরা খুব কাঁদত। বলত, ‘আল্লাহ মাকে মৃত্যু দিন, এই কষ্ট সহ্য করার নয়। ’ একজন সু-অভিনেত্রীর পাশাপাশি দিতি ভালো মানুষও। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রায় ত্রিশটার মতো ছবিতে অভিনয় করেছি। একটা সময় জীবনসঙ্গী হিসেবেও পথ চলেছি। আজকে তাঁর চলে যাওয়াটা মনকে বিষাদগ্রস্ত করেছে।

নিবেদিত এক অভিনেত্রী

বদিউল আলম খোকন, চলচ্চিত্র পরিচালক

‘রাজাবাবু’ ছবির শুটিং করছি, হঠাৎ দিতি ম্যাডাম বললেন, ‘খোকন ভাই, মাথাব্যথা করছে প্রচণ্ড। আলোতে তাকাতে পারছি না। ’ দ্রুত শুটিং শেষ করলাম। গুলশানের একজন ডাক্তারের ঠিকানা দিয়ে তাঁকে পাঠালাম। ডাক্তার চশমা পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর আরো চার-পাঁচ দিন শুটিং করলেন। কিন্তু হঠাৎ করে আবার মাথাব্যথার কথা জানালেন। আগের মতো স্পট থেকে ডাক্তারের কাছে গেলেন। সিটি স্ক্যান করলেন। তখনই দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ল। দিতি ম্যাডামের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব সারা জীবন। আমার ছবির শেষ দৃশ্যটি বাকি ছিল। তিনি অসুস্থ অবস্থায় শুটিং করতে চেয়েছিলেন। অবশ্য আমার স্টক শট ছিল বলে তাঁকে দরকার পড়েনি। তাঁর মতো এমন নিবেদিত অভিনেত্রী কমই দেখেছি। দিতি ম্যাডামের হঠাৎ চলে যাওয়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় একটা ক্ষতির কারণ। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

তাঁর গানের গলাও ছিল অসাধারণ

জাহিদ হাসান, অভিনয়শিল্পী

দিতির সঙ্গে আমার পরিচয় আশির দশকে। তিনি ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতা থেকে এসেছিলেন। বেশ সংস্কৃতিমনা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা বাড়ে ১৯৮৭ সালের দিকে। আমরা একসঙ্গে পাকিস্তান গিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে একসঙ্গে বেশ কিছু নাটকে কাজ করেছি। তাঁর গানের গলাও অসাধারণ। খুব দ্রুত না ফেরার দেশে চলে গেলেন। এটা মানা যায় না। তাঁর মতো ভদ্র এবং বিনয়ী মানুষ খুব কম দেখেছি। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন।


মন্তব্য