kalerkantho


‘বৃহন্নলা’র গান বিতর্ক

দেবজ্যোতি-ইমনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রংবেরং ডেস্ক   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না ‘বৃহন্নলা’র। মুরাদ পারভেজের এই ছবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের গল্প ‘গাছটা বলেছিল’ থেকে নেওয়া হয়েছে ছবির কাহিনী।

এই ছবির জন্য ‘সেরা কাহিনীকার’-এর পুরস্কার পাওয়া মুরাদ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। আরেকটা অভিযোগ, ‘গান চুরি’। প্রয়াত ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘রেইনকোট’ (২০০৩)-এ ব্যবহৃত ‘পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান’ গানটিই ব্যবহার করা হয়েছে ‘বৃহন্নলা’য়। সুরকার দেবজ্যোতি মিশ্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, “বৃহন্নলায় ব্যবহার করা গানটির শিরোনাম ‘প্রিয়া তোর কিসের অভিমান’। দেখেশুনে একপ্রকার বাকরুদ্ধই হয়ে পড়লাম! আমার সুর করা গানটির কথা লিখেছিলেন ঋতুপর্ণ নিজেই। গেয়েছিলেন সুভা মণ্ডল আর হরিহরণ। সেই গান কি না দিব্যি মেরে দিল? আরো খারাপ দিক হচ্ছে, দেবলীনা সুরের অ্যাকাউন্ট থেকে ইউটিউবে প্রকাশিত বাংলা গানটির সুরকার হিসেবে ইমন সাহার নাম দেওয়া। সুর নাকি প্রচলিত গানের সুর অবলম্বনে। আর গানের কথাগুলো হিন্দি থেকে স্রেফ বাংলা করে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের লোকেরা তো আমাকে চেনে। আমার গান বেশ জনপ্রিয়ও সেখানে। এনামুল করিম নির্ঝরের ‘আহা!’ ছবিতেও আমার সুর ব্যবহার করা হয়েছে। ” দেবজ্যোতি মিশ্র এখন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কালের কণ্ঠকে ইমন সাহা বলেন, “দেবুদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক বেশ ভালো। আমার বাবার সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন। উনি আমার সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করবেন, এটা মানতে পারব না। এ গানটির সুরকার হিসেবে আমার নাম ছবিতে ব্যবহৃত হয়নি। সুর প্রচলিত, এটা ঠিক। হরিহরণের সঙ্গে কাজ করেন ঋতুরাজ, তিনি আমাকে এই ‘বন্দেস’টি শুনিয়েছেন। আমি শুধু সংগীতায়োজন করেছি। গানটি গেয়েছেন এবং অনুবাদ করেছেন দেবলীনা সুর। ফেসবুক বা ইউটিউবে যারা আমার নাম সুরকার হিসেবে ব্যবহার করেছে, তারা ভুল করেছে। ভিডিও এডিটররা এমন ভুল প্রায়ই করে। হয়তো ভেবেছে ছবির সংগীত যেহেতু আমি করেছি, গানটিও আমার। আমি এখনই দেবুদাকে ফোন করে তাঁর ভুল ভাঙাব। ”

এদিকে ছবির কাহিনী স্বত্ব বাবদ সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের পরিবারকে দেড় লাখ রুপি প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছে চিঠি দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও দেবেশ রায়।


মন্তব্য