kalerkantho

মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী নীরবে কাঁদেন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

তবে এ সময় একটি ভিন্ন দৃশ্যের অবতারণা করেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী।

তিনি স্মৃতিসৌধের অদূরে দাঁড়িয়ে নীরবে কাঁদছিলেন। ওমর আলীর বাড়ি জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মণ্ডতোষ গ্রামে। পরবর্তী সময়ে ওমর আলী বলেন, ‘দেশের জন্য জীবন বাজি রাইখা যুদ্ধ করছিলাম। এখন না খাইয়া থাকতে হয়। পরনের জামাটা মানষ্যের দেয়া। বঙ্গবন্ধুর কন্যা আমাকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিছিল। ভাতার ট্যাহায় দুই বছর বৌ আর এক মেয়েরে লইয়া সুখেই ছিলাম। এহেনকার কমান্ডার মোকছেদ আলীরে তিন লাখ টাহা না দিবার পাইরা সেটাও চার বছর ধরে বন্ধ হয়া গেছে। এখন রিলিফ ছাড়া কিছু পাই না। আমরা খামু কী?’

ওমর আলীর মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার এস এম মোজাহার আলী ও সহযোদ্ধা সিকান্দার আলী জানান, পাকিস্তানি সেনাদের একটি গুলি ওমর আলীর মাথায় লাগে। এ সময় পড়ে গিয়ে তাঁর কোমর ভেঙে যায়। মুক্তিবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন। তবে বাকি জীবন চলতে হচ্ছে তাঁকে খোঁড়া হয়ে।

মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী জানান, সুস্থ হয়ে তিনি অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করেন। কিন্তু শারীরিক কর্মক্ষমতা কম থাকায় মজুরি কম পেতেন। সেই মজুরি দিয়েই স্ত্রী ও এক কন্যাকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। ২০০৩ সালে তিনি ভাতার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে ওমর আলীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয় (নম্বর ১৬৮৩)। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে তিনি ভাতা পাওয়া শুরু করেন। ভাতার টাকায় চায়ের দোকান দিলে সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা আসে।

টাকা চাওয়ার অভিযোগ বিষয়ে জানার জন্য তৎকালীন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোকছেদ আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।

এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

 

মন্তব্য