kalerkantho

আক্কেলপুরের সদ্য সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান

বরাদ্দ ছাড়াই সরকারি বাসায় ফ্রি বসবাস

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বরাদ্দ ছাড়াই অন্যায়ভাবে সাড়ে চার বছর সরকারি ভবনে বসবাস করেছেন। গত ১০ মার্চ উপজেলা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ১৩ মার্চ তিনি ওই বাসা ছেড়ে যান। কিন্তু এই সময়ের বাড়ি ভাড়া বাবদ তিন লাখ টাকাও দিচ্ছেন না তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সরকারি বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বরাদ্দ ছাড়াই উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আছিয়া খানম সম্পাকে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে ওই সরকারি বাসায় বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এমনকি বাড়িভাড়া হিসেবে পাওনা সরকারি টাকা উদ্ধারেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। আছিয়া খানম সম্পা বর্তমানে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সরকারি বাসা ও ডরমিটরি ভবনে ৩২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ বাসা রয়েছে, যার নাম পদ্মা। ভবনের চারটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে নিচতলার একটি ইউনিটে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জুয়েল রানা এবং ওপরতলার একটি ইউনিটে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রীতা রানী পাল সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী বসবাস করছেন। আর নিচতলার একটি ইউনিটে বরাদ্দ ছাড়াই সাড়ে চার বছর ধরে তিনি বসবাস করে আসছিলেন।

ওই ভবনের প্রতিটি ইউনিটের মাসিক ভাড়া সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। সেখানে ওই দুই কর্মকর্তা সরকারি ভাড়া পরিশোধ করেই থাকছেন। আর আছিয়া খানম সম্পা ভবনের একটি ইউনিটে এত দিন বসবাস করেও কোনো ভাড়াই দেননি। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সরকারিভাবে বরাদ্দের তালিকায়ও তাঁর নাম নেই। গত ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়ে তিনি হেরে যান। এরপর গত ১৩ মার্চ তিনি বাসাটি ছেড়ে দেন। এ অবস্থায় সরকার সাড়ে চার বছরে তিন লাখ টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আছিয়া খানম সম্পা বলেন, ‘আমি যখন ওই বাসায় উঠেছিলাম, তখন বাসাটি পরিত্যক্ত ছিল। আমি বিগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে বলে ওই বাসায় উঠেছিলাম। আমাকে তিনি ফ্রি থাকতে দিয়েছিলেন।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি বাসাবাড়ি বরাদ্দ কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আছিয়া খানম সম্পা অলিখিতভাবেই ওই বাসায় ছিলেন। তাঁর নামে কোনো বাসা বরাদ্দই নেই। এই বিষয়ে কোনো নিউজও করার দরকার নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমদকে গতকাল দুপুরে একাধিকবার ফোন করে তাঁর ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য