kalerkantho


বাগানের জালে মরছে পাখি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বাগানের জালে মরছে পাখি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটসহ বিভিন্ন স্থানে পাখির উপদ্রব থেকে বরই (কুল) বাগান রক্ষার জন্য মালিকরা ব্যবহার করছেন নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। আর এই জালের ফাঁদে আটকে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে নানা ধরনের দেশিয় পাখি। ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটসহ বিভিন্ন স্থানে পাখির উপদ্রব থেকে বরই বাগান রক্ষা করার জন্য নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করছে মালিকরা। আর এ জালের ফাঁদে আটকে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে নানা ধরনের শত শত দেশীয় পাখি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রকৃতি ও পরিবেশকর্মীরা। এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে গড়ে উঠছে নতুন নতুন বরই বাগান। এখন চলছে বাগান থেকে বরই সংগ্রহের কার্যক্রম। আর এ সময়েই পাকা বরই খেতে বাগানগুলোতে হানা দিচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। পাখির হাত থেকে বরই রক্ষার জন্য অনেক মালিক বাগানের চার দিকে উঁচু করে কারেন্ট জাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। আর বাগানের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় স্বচ্ছ এই জালে আটকা পড়ছে দোয়েল, শালিক, মাছারাঙাসহ নানা ধরনের দেশীয় পাখি। জালের ফাঁদ থেকে বের হতে না পেরে একপর্যায়ে মারা যাচ্ছে এসব পাখি।

বাগান মালিকরা বলছে, পাখির উপদ্রব থেকে বরই বাঁচাতেই কারেন্ট জাল দিয়ে বাগান ঘিরে রাখছে তারা। জালে আটকে শত শত পাখির মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করলেও তারা বলছে, এসব পাখি প্রচুর পরিমাণ বরই খেয়ে নষ্ট করায় তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই বাগানে কারেন্ট জাল ব্যবহার করছে তারা।

উপজেলার ফলিমারি এলাকার একটি বরই বাগানের মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাগান যদি কারেন্ট জাল দিয়ে না ঘিরতাম তাহলে বাগান রক্ষা করা যেত না।’ এতে কিছু পাখি মারা গেলেও তিনি ক্ষতির হাত থেকে বাঁচছেন বলে জানান।

একই এলাকার আরেকটি বাগানের মালিক কামিরুল ইসলাম বলেন, প্রচুর পরিমাণে বরই নষ্ট করছে পাখি। বাধ্য হয়েই তাঁরা বাগানের চারপাশ উঁচু করে কারেন্ট জাল দিয়ে ঘিরে দিচ্ছেন। এতে কিছু পাখি মারা যাচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

বাগান মালিকদের এমন নিষ্ঠুর কাজে ক্ষুব্ধ পাখিপ্রেমিকরা। তাঁরা বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এভাবে পাখি নিধন হলে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাবে।’

আসাদুল হক নামে এক পাখিপ্রেমিক অভিযোগ করেন, ‘কারেন্ট জাল দিয়ে প্রকাশ্যে শত শত পাখি নিধন হলেও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।’

কলেজছাত্র দয়াল চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘বাগান মালিকরা অন্যায়ভাবে পাখি মারছে।’

ভোলাহাট মোহবুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘কারেন্ট জাল দিয়ে এভাবে শত শত পাখি নিধনের দৃশ্য আমাকে পীড়া দেয়।’ জঘন্য এই কর্মকাণ্ড রোধে তিনি প্রশাসন ও বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উপজেলা বন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বন্য প্রাণী সংরক্ষণের বিষয়গুলো দেখে থাকে আমাদের বন্য প্রাণী বিভাগ। যার অফিস রাজশাহীতে।’ বিষয়টি বন্য প্রাণী কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।



মন্তব্য