kalerkantho


‘দখলদারদের কবলে’ নড়াগাতি শহীদ মিনার

নড়াইল প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



নড়াইলের নড়াগাতি থানার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি রক্ষায় ১০ বছর ধরে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এলাকাবাসী। বাজারের পেরিফেরি দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসন নানা সময় সুবিধাভোগীদের ইজারা দেওয়ার ফলে শহীদ মিনারের জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়েছে। পুরনো শহীদ মিনারটি বর্তমানে কোনো রকমে অস্তিত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শহীদ মিনারটি রক্ষায় সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকাবাসী অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছে।

জানা গেছে, ২০০০ সালে কালিয়া উপজেলা থেকে আলাদা করে নড়াগাতি থানা ঘোষণা হওয়ার পর জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নড়াগাতি থানা অফিসের সামনে পুলিশের একটি স্যালুট মঞ্চ তৈরি হয়। ২০০৮ সালে থানা ভবন স্থানান্তরিত হওয়ার পর সেই স্যালুট মঞ্চে স্থানীয় উদীচীর উদ্যোগে শহীদ মিনারটি তৈরি করা হয়। ধীরে ধীরে স্থানীয় চাঁদায় গড়ে ওঠে নড়াগাতি থানার কেন্দ্রীয় এই শহীদ মিনার। মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

২০১৬ সালে উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কয়েকজন প্রভাবশালী শহীদ মিনারের আশপাশে ১৪টি জায়গা ইজারা বন্দোবস্ত নেয়। কয়েক দফা শহীদ মিনার ভেঙে ফেলার পরিকল্পনাও করে চক্রটি। এর পর রাতের আঁধারে শহীদ মিনার চত্বরে থাকা গাছ কেটে ধীরে ধীরে এর চারদিকে ঘর তোলা শুরু হয়। বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসন আর্থিক সুবিধা নিয়ে ইজারা দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ২০১৭ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে ‘মিনার ভাঙার ষড়যন্ত্র’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ।

জয়নগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশের আলী বলেন, ‘১০ বছর ধরে আমরা এখানে ফুল দিই। সেই জায়গায় মার্কেট হবে, তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে শহীদদের স্মরণ করব? আমরা চাই সঠিক মর্যাদা দিয়ে শহীদ মিনারটি সংস্কার করা হোক।’

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘মামলার কারণে বর্তমানে ইজারা বন্ধ রয়েছে। তা ছাড়া আমার আগের ইউএনও সাহেব ইজারা দিয়ে গেছেন।’

নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহবুবুর রশীদ বলেন, শহীদ মিনার রক্ষা করতে হলে ওই জমির পেরিফেরি পরিবর্তন করতে হবে। নইলে শহীদ মিনারটি সরাতে হবে।

 



মন্তব্য