kalerkantho


পাখির ডাকে পাখি ধরা

কপিল ঘোষ, চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট)   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



পাখির ডাকে পাখি ধরা

পাতার বাঁশি বাজিয়ে পাখিদের ডাক নকল করে শিকারিরা। এই ডাককে সমগোত্রীয়ের ডাক মনে করে আকাশে ওড়া পাখিরা মাটিতে নেমে আসার পথে আটকা পড়ে শিকারির ফাঁদে। এভাবে শীতপ্রধান দেশ থেকে খাবারের খোঁজে বাংলাদেশে আসা অতিথি পাখিদের পরিণত করা হচ্ছে মানুষের খাবারে।

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলাসহ আশপাশের বিলাঞ্চলে ঘটছে এই নির্মম ঘটনা।

ঢাকার মোল্লা সাগর এই এলাকার অতিথি পাখি শিকারের ওপর ২০০১-২০০২ সালে ‘ও পাখি’ নামে নির্মাণ করেন তথ্যচিত্র। তথ্যচিত্রটি ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করা হয়। তারপর কয়েক বছর পাখি শিকার বন্ধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার মোল্লা সাগর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই তথ্যচিত্রে শিকারিরা বলেছিলেন পাখি শিকার করলে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপরও অভাবের কারণে পাখি শিকার করতে হচ্ছে। কিন্তু এখন ওই এলাকা সচ্ছল বলে জানি। তারপরও পাখি শিকার চলছে শুনে ব্যথা পেলাম!’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলজুড়ে বাঁশের মাথায় ঝুলছে পাখির ফাঁস বা ফাঁদ। ফাঁদে ও বিলের পানিতে মরা পাখি! কালশিরা গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী মানিক মণ্ডল বলেন, ‘কচুরিপানার পাতা দিয়ে তৈরি বাঁশি বাজিয়ে পাখিদের ডাক নকল করে শিকারিরা। শুনেছি কেউ কেউ ওই নকল ডাক মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে। পরে বিলে পাতানো ফাঁদের নিচে টংঘর বা নৌকায় রেখে দেয়। সারা রাত বাজতে থাকে এই ডাক। নিজেদের দলের ডাক মনে করে উড়ে যাওয়া ক্ষুধার্ত পাখিরা নিচে নামার পথে ফাঁদে আটকে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিকারিরা পাখিদের ধরে বিক্রি করে। খাবারের জন্য আসা অতিথি পাখিরা পরিণত হয় মানুষের খাবারে! এটা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ।’

পাখিপ্রেমী লেখক পংকজ রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই লজ্জা ও দায়ভার আমাদের। পাখি শিকারিদের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’

চিতলমারী উপজেলা বন কর্মকর্তা চিন্ময় মধু জানান, ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।



মন্তব্য