kalerkantho


বিশ্বনাথে আড়াই লাখ মানুষের নিরাপত্তায় মাত্র ২০ জন পুলিশ!

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সিলেটের বিশ্বনাথে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস। তাদের নিরাপত্তায় আছেন মাত্র ২০ জন পুলিশ সদস্য। থানায় পুলিশ সদস্য বৃদ্ধি ও উপজেলার লামাকাজী পয়েন্টে পুলিশ ফাঁড়ি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলায় বড় ধরনের সংঘাত-দুর্ঘটনা হলে সিলেট শহর থেকে পুলিশ নিয়ে আসতে হয়। লোকবল সংকটের কারণে বিশ্বনাথ থানা-পুলিশকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া নানা সমস্যায় জর্জরিত থানা কমপ্লেক্সও। থানা পুলিশের তথ্য মতে, বিশ্বনাথ থানায় দুজন ওসি (প্রশাসন ও তদন্ত), এসআই ১০ জন, এএসআই আটজন, কনস্টেবল, গাড়িচালক, কম্পিউটার অপারেটরসহ ২০ জন এবং ইমার্জেন্সি কনস্টেবল পাঁচজন আছে। ১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থানার প্রশাসনিক ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে এ ভবনে আর কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। ভবনের ছাদ ও দেয়ালের কোথাও কোথাও প্লাস্টার খসে পড়েছে। অনেক জানালার কাচ ভেঙে গেছে। ফলে ভাঙা কাচ দিয়ে শীতের দিনে ঠাণ্ডা বাতাস আর বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢোকে। এতে পুলিশ সদস্যদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তা ছাড়া থানা চত্বরের ভেতরে থাকা একমাত্র পুকুরটিরও জরাজীর্ণ অবস্থা। পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পড়ার কারণে পুকুরে গোসল করলে দেখা দিচ্ছে নানা রোগবালাই। রান্নার কাজেও ঘটছে অনেক ব্যাঘাত। এ ছাড়া রান্নাঘরের অবস্থাও খারাপ। তবে সম্প্রতি এলাকার বিত্তবানদের সহযোগিতায় থানা চত্বরে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। থানায় কোনো কোয়ার্টার না থাকায় প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। তাই বাধ্য হয়েই তারা নিজেদের পরিবারকে বাইরে রাখছে। এ ছাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নে টহল দেওয়ার জন্য আছে দুটি জরাজীর্ণ গাড়ি। এর মধ্যে একটি গাড়ি কিছুদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। সেটি মেরামত করা হচ্ছে। আরেকটি গাড়ির অবস্থায় যায়যায়।

বিশ্বনাথ থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা (প্রশাসন) বলেন, ‘কোয়ার্টার সংকট থাকার কারণে অনেকেই ফ্যামিলি এখানে (বিশ্বনাথে) আনতে পারছে না। গাড়ি সংকটের কারণে অনেক সময় আসামি ধরতে আমাদের অনেক বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। এর মধ্যে আছে লোকবল সংকট। উপজেলায় কমপক্ষে আরো ৬০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগের প্রয়োজন আছে এবং লামাকাজীতে একটি পুলিশ ফাঁড়ি দেওয়ার খুবই দরকার।’



মন্তব্য