kalerkantho


ইয়ারফোন লাগিয়ে গাড়ি চালাতে নিষেধ করায় ছাত্রকে মারধর

প্রতিবাদে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইয়ারফোন লাগিয়ে গাড়ি চালাতে নিষেধ করায় ছাত্রকে মারধর

দিনাজপুরে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে মারধরের প্রতিবাদে ও তাঁকে উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে। (ইনসেটে) বিক্ষোভকালে মহাসড়কে আগুন জ্বালানো হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শোনা অবস্থায় গাড়ি চালাতে নিষেধ করায় দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক ছাত্রকে মারধর করেছেন গাড়িটির চালক ও তাঁর সহকারী (হেলপার)। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা দিনাজপুর-রংপুর, দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এ সময় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

আহত ছাত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাবিপ্রবির ১৬তম ব্যাচের ছাত্র রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় রাজারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রুবেল মিয়া (২২) রংপুর থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজের এসি কোচে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫৯৫৪) চড়ে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। চালক কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শোনা অবস্থায় কোচটি চালাচ্ছিলেন। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে রুবেল মিয়া চালককে কান থেকে ইয়ারফোন খুলে গাড়ি চালাতে বললে উভয়ের মধ্যে বাগিবতণ্ডা শুরু হয়। গাড়িতে রুবেলকে মারধর করেন গাড়িটির চালক ও তাঁর সহকারী। ঘটনাটি রুবেল তাঁর সহপাঠীদের জানান। সকাল সোয়া ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রুবেলের সহপাঠীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোচটি থামার সংকেত দেন। চালক গাড়িটি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে শহরের কালিতলার দিকে চলে যান।

এ সময় গাড়িটির ধাক্কায় মারুফ, প্রান্ত নামের দুই ছাত্রসহ পাঁচ ছাত্র আহত হন। এদিকে রুবেলকে কালিতলা কাউন্টারে নিয়ে মারধর করেন গাড়িটির চালক ও তাঁর সহকারী। এ খবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা সহপাঠী রুবেলকে উদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান নেন। বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। সেখান থেকে তাঁকে মহাসড়কে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিলে তাঁরা দুপুর ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন।

রুবেল মিয়া জানান, চালক ও হেলপারের মারধরে তাঁর নাক ও ঠোঁট কেটে গেছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়া মাত্র রুবেলকে উদ্ধার করে ছাত্রদের মাঝে ফিরিয়ে দিয়েছি। ছাত্ররা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। শুক্রবার (আজ) ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ছাত্র, শ্রমিক ইউনিয়ন ও পুলিশ আলোচনায় বসবে।’



মন্তব্য