kalerkantho


বোয়ালমারীতে প্রসূতির মৃত্যু

দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকায় দফারফা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা সদরের মোল্লা আহম্মেদ হোসেন মেমোরিয়াল ক্লিনিকে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। এ ঘটনায় দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্লিনিক ও রোগীর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের মামুন মোল্লার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা সোহাগী বেগমকে (১৮) গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বেসরকারি হাসপাতাল মোল্লা আহম্মেদ হোসেন মেমোরিয়াল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার বিশ্বাস তাঁর সিজার শুরু করেন। সিজারের মাধ্যমে সোহাগী বেগম একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তান জন্ম দেওয়ার পর পরই সোহাগী বেগম মারা যান। প্রসূতির মৃত্যুর খবরে তাঁর স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করে। এ সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তা নেয়। পরে সোহাগীর স্বজনদের সঙ্গে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকায় আপস-মীমাংসা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে মোল্লা আহম্মেদ হোসেন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) রেজাউল করিম রাজা বলেন, প্রসূতির স্বজনদের ইতিমধ্যেই দুই লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। তবে এটি ভুল চিকিৎসা নয়। হঠাৎ করেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

ডা. তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘অপারেশন ঠিকমতোই হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, প্রসূতি সোহাগী সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। এ ব্যাপারে স্বজনদের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করা হয়েছে।’ বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত হলে রোগীর স্বজনদের থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে আসি। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে আপস-মীমাংসার কোনো বিষয় আমার জানা নেই।’

এ ব্যাপারে প্রসূতির স্বামী মামুন মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য