kalerkantho


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রী, সাংবাদিকসহ চারজনকে মারধর ছাত্রলীগের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দুই শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসে আসা দুই দর্শনার্থীকে মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। দুই শিক্ষার্থীর একজন ছাত্রী ও অন্যজন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বেড়াতে আসা দুই তরুণ-তরুণীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মারধর করতে থাকলে ওই দুই শিক্ষার্থী গিয়ে তাদের বাধা দেয়। এতে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা।  

গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। হামলায় আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মারধরের শিকার হয়েছেন ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও একটি জাতীয় টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি মাহমুদুল হক সোহাগ এবং ৪৬তম ব্যাচের এক ছাত্রী। তাঁরা উভয়েই জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। দুই দর্শনার্থীসহ তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ভবনসংলগ্ন এলাকায় বেড়াতে আসেন দুজন। এ সময় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করে। তাঁদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি দেখে মাহমুদুল হক গিয়ে তাঁর পরিচয় দিয়ে বহিরাগত দুজনকে উদ্ধার করে তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। ওই দুজন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সামনে এলে পুনরায় তাঁদের মারধর করতে থাকে ছাত্রলীগের কর্মীরা। মাহমুদুল হক সেখানে গিয়ে মারধরে বাধা দিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা এবার তাঁর ওপরও চড়াও হয়। তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে পাশের ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় মাহমুদুল হককে রক্ষা করতে তাঁর বিভাগের ওই নারী শিক্ষার্থী এগিয়ে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।

মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থী ও দুই দর্শনার্থীর সবাই প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন। পৃথকভাবে দেওয়া চারজনের অভিযোগ থেকে জানা যায়, মারধরকারী হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন নিলয় (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব, ৪২তম ব্যাচ), রাফিউল সিকদার আপন (লোকপ্রশাসন বিভাগ, ৪৭তম ব্যাচ), সোহেল রানা (লোকপ্রশাসন বিভাগ, ৪৭তম ব্যাচ), শুভাশিষ শুভ (বাংলা, ৪৫তম ব্যাচ)সহ নাম না জানা আরো সাত-আটজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন নিলয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রাফিউল সিকদার আপনের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছি এবং ঘটনাটি আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, তাঁদের জানা মতে মারধরকারীরা ছাত্রলীগের কেউ নয়। তবে অভিযুক্তদের কেউ ছাত্রলীগকর্মী হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত থাকবে তাদের কখনোই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি তাদের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। প্রাথমিক তদন্তে দোষী সাব্যস্তদের সাময়িক বহিষ্কার করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



মন্তব্য