kalerkantho


ওভারব্রিজে দোকানপাট বিপাকে পথচারী

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ওভারব্রিজে দোকানপাট বিপাকে পথচারী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে ওভারব্রিজের ওপর দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে  ওভারব্রিজের (পদচারী সেতু) ওপর দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এতে অর্ধেক সেতু দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এসব অবৈধ দোকানদারের উচ্ছেদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর অর্ধেক জায়গা দখল করে ইব্রাহিম মিয়া, ইলিয়াস হোসেন, শাকিব মিয়া, রাজু মিয়া, বিল্লাল হোসেন, সোহান মিয়াসহ ১৫-২০ জন অবৈধ দখলদার কসমেটিক্স, বাচ্চাদের কাপড়, পাপোশ, কাঁচামালের দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা করছেন। এ সেতু দিয়ে তিতাস গ্যাস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ, গিয়াসউদ্দিন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি আদমজীনগর কলেজ, সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুতায়ন বোর্ড স্কুলসহ প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আদমজী ইপিজেটের শ্রমিক, পাঁচটি মার্কেটের বিক্রেতা-ক্রেতারাসহ অর্ধলক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন চলাচল করছে। সেতুর জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিচ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। এতে অনেক পথচারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে।

অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এ সেতুর ওপর দোকান বসিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে একটি চক্র। চাঁদার টাকার কিছু অংশ পুলিশের পকেটেও যাচ্ছে। এ কারণে মাঝেমধ্যে শুধু লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। অভিযানের সময় সেতু খালি করে দিলেও এর দু-তিন দিন পরই আবারও দোকানপাট নিয়ে বসে যায় ব্যবসায়ীরা। ফলে পথচারীদের বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পাশের হক সুপার মার্কেটের প্রিন্টিং প্রেস ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, ওভার ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করছে।

নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আশা আক্তার বলেন, ‘হকাররা সেতুর ওপর দোকান বসানোয় আমরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারি না। সব সময় ধাক্কাধাক্কি করে পথ চলতে হয়, এটা খুবই বিব্রতকর।’

তিতাস গ্যাস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে সব পথচারী জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের উচ্ছেদ করে সেতুটি পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার টিটু বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকবার এসব ভাসমান হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। যাতে তারা আর বসতে না পারে সে জন্য এবার স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘জনগণের চলাচলের রাস্তা দখল ও বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। পথচারীরা যাতে নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারে সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 



মন্তব্য