kalerkantho


পাথরঘাটা

পাঁচ বছরে ১৩ বেওয়ারিশ লাশ

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পাথরঘাটায় আলাদা স্থান থেকে গত পাঁচ বছরে অজ্ঞাতপরিচয় ১৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ২০১৩ সালে একটি, ২০১৪ সালে দুটি, ২০১৬ সালে তিনটি, ২০১৫ সালে চারটি, ২০১৭ সালে দুটি ও ২০১৮ সালে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পাথরঘাটা থানার পাশে, পৌরসভা ভবনের কাছে, কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডোবায়, উপজেলা পরিষদের পুকুরে, কলেজ প্রাঙ্গণে ও খালে লাশগুলো পাওয়া গেছে। হত্যারহস্য ও লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ বছরের পর বছর ধরে তদন্ত করছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য।

সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট পাথরঘাটা পৌর শহরের লাগোয়া গহরপুর গ্রামের আইউব আলী হাওলাদারের একটি নির্জন দিঘির পাড়ে তাল কুড়াতে গিয়ে এক নারী পানিতে উপুড় হয়ে কিছু একটা ভাসতে দেখে। ভয় পেয়ে চিৎকার দিলে এলাকার লোকজন আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে বোরকা পরিহিত ২৪-২৫ বছরের এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের পর লাশের কোনো দাবিদার না থাকায় বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে সমাহিত করা হয়।

গত বছর ১০ আগস্ট পাথরঘাটা কলেজ প্রাঙ্গণের একটি পুকুর থেকে পানিতে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে চার ছাত্রলীগ নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। কিন্তু হতভাগ্য ওই তরুণীর পরিচয় আজো জানতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশ। অবশেষে গত ১২ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

১৩ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে পুলিশ নিহতের বা হত্যাকারীর পরিচয় উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে এরই মধ্যে ছয় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি মোল্লা মো. খবীর আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত করছে পুলিশ। কিন্তু হত্যার কোনো ক্লু না পাওয়ায় অবশেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে হচ্ছে।’

অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বেওয়ারিশ লাশ দেখে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। হত্যারহস্য উদ্ঘাটন ও বিচারের আওতায় আনার জন্য শুধু পুলিশ নয়, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা আবশ্যক।’

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, ‘আমি সম্প্রতি এ জেলায় এসেছি। যত দূর জানি, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সব থানায় বার্তা পাঠানো হচ্ছে। তা ছাড়া মৃতদেহের ডিএনএ পরীক্ষা করাচ্ছি। হত্যারহস্য বের করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।’



মন্তব্য