kalerkantho

জমি দখল, ধর্ষণ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শিবালয় উপজেলায় কূটকৌশলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক নারীর ও তাঁর মায়ের (৭০) পৈতৃক ভিটা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মামার বিরুদ্ধে। মামাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ, মারধরসহ নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন। বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করায় এই দুই নারী আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে অভিযোগ করার পর থেকে মামা মকর আলী ও মামাতো ভাই আলমগীর হোসেন পলাতক।

উপজেলার সাহেলী গ্রামে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গ্রামবাসী জানায়, প্রতিবন্ধী নারীর পক্ষে কথা বলায় মকর আলী গ্রামের আটজনের বিরুদ্ধে মারধরের হুমকির অভিযোগে মামলা করেছেন।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীর মা জানান, তাঁর স্বামী ১৫ বছর আগে বাড়িসহ প্রায় ১৭ শতাংশ জমি রেখে মারা যান। ছেলেসন্তান না থাকায় জমিটি পান মা ও মেয়ে। মেয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। দুজনেই শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা চালান। বছর তিনেক আগে তাঁর ভাই মকর আলী তাঁদের নিরাপত্তার কথা বলে দুজনকে নিজের বাড়িতে ছাপরা তুলে থাকতে দেন। একপর্যায়ে মকর তাঁদের (মা-মেয়ে) কাছ থেকে জমিটি জোর করে হেবা দলিল মূলে (দানপত্র দলিল) লিখে নেন। পরে বাড়ি থেকে বের করে দেন। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের হস্তক্ষেপে আবার আশ্রয় দিতে বাধ্য হন। তবে মাস দুয়েক আগে মা-মেয়েকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন মকর। ওই মা অভিযোগ করেন, লেখাপড়া না জানায় দলিলে কী লেখা হয়েছে—তিনি বুঝতে পারেননি। কিন্তু দলিল করার সময় তাঁকে বলা হয়েছিল ১৩ লাখ টাকা দেবেন মকর। কিন্তু দেননি। উল্টো দলিলের কথা কাউকে না বলতে হুমকি দিতেন। ওই বাড়িতে থাকার সময় তাঁর মেয়েকে আলমগীর একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। আলমগীর মাদকাসক্ত এবং বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট জমিটি হেবা দলিলে দান করা হয়েছে মকরকে। এর সাত দিন পরে মকর জমিটি হেবা দলিলে দান করেন ছেলে আলমগীরকে। পরে একই বছরের ১ নভেম্বর আলমগীর হেবা দলিলে জমিটি দান করেন তাঁর আট বছরের ছেলে মাহফুজ আলমকে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, জোর করে দলিল করার বিষয়টি জায়েজ করতেই বারবার জমির মালিকানা হাতবদল করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মকর আলীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর ছেলে আলমগীরকে পাওয়া যায়নি। আলমগীরের স্ত্রী চম্পা বেগম জানান, কয়েক দিন ধরে স্বামী-শ্বশুর বাড়িতে আসেন না। তবে তিনি স্বামী-শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

শিবালয় থানার এসআই শাহিন বলেন, দুইবার তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগকারী ও গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা পালিয়ে থাকায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তিনি ছুুটিতে আছেন। ফিরে আবার তদন্ত শুরু করবেন।

নাটোরে শিশু ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন

এদিকে নাটোর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলায় শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ মাইনুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত আলাল উদ্দিনের বাড়ি সদর উপজেলার জংলী মণ্ডলপাড়ায়।

ট্রাইব্যুনালের এসপিপি শাহজাহান আলী জানান, ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আলাল উদ্দিন শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটির বাবা সদর থানায় একটি মামলা করেন।

হবিগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বানিয়াচং উপজেলার এক নারীকে ধর্ষণের অপরাধে আসামি শ্রীকান্ত সূত্রধরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান এ আদেশ দেন। এ ছাড়া শ্রীকান্তর সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বেচে ওই টাকা ট্রাইবুুু্যুনালে জমা দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ওই টাকা ভিকটিমকে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

আদেশে বলা হয়, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান ভিকটিম বা আসামির বা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার অধিকারী হবে। শিশুটির বয়স ২১ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় সরকার বহন করবে। এই ব্যয় সরকার আসামির সম্পদ থেকে অথবা ভবিষ্যতে সে যে সম্পদের মালিক হবে তা থেকে আদায় করবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে বানিয়াচংয়ের পুকড়া গ্রামের সুনীল সূত্রধরের ছেলে শ্রীকান্ত সূত্রধর এক নারীকে ধর্ষণ করেন। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং এক ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। ভিকটিম একই বছরের ২০ নভেম্বর শ্রীকান্তসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।



মন্তব্য