kalerkantho


রাঙ্গাবালীতে রশিবন্দি নৌকায় খাল পারাপার

দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাঙ্গাবালীতে রশিবন্দি নৌকায় খাল পারাপার

খেয়া নৌকায় শিশু শিক্ষার্থীরা খাল পার হচ্ছে। রশি বাঁধা নৌকাটি শিক্ষার্থীরা টেনে পারে ভিড়ায়। রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের রসুলবাড়িয়া ও মাদারবুনিয়া খাল থেকে ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

খালের ওপার থেকে খেয়া নৌকায় উঠল কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী। নৌকাটি রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। এপারে থাকা শিক্ষার্থীরা রশি টেনে নৌকাটি পারে ভিড়াল। ওপারের শিক্ষার্থীরা নেমে গেলে নৌকায় উঠল এপারের শিক্ষার্থীরা।

প্রতিদিন এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় তাদের।  গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে দেখা গেছে এ চিত্র।

জানা যায়, রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের রসুলবাড়িয়া ও মাদারবুনিয়া এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে মাদারবুনিয়া খাল। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দুই পারের মানুষ নৌকায় পারাপার হয়। তবে নৌকা চালানোর জন্য কোনো মাঝি নেই। দুই পারে নৌকার সঙ্গে বাঁধা রশি টেনে খাল পার হয় সবাই। রশি টানতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী খালেও পড়ে গেছে।

মাদারবুনিয়া গ্রামের হোসেন খাঁর মেয়ে রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মিতু আক্তার বলে, ‘স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রীর বাধ্য হয়ে নৌকা চালাতে হয়। প্রায়ই এই নৌকা তলাইয়া যায়। কিছুুদিন আগে নৌকা ডুইব্বা আমি পানিতে পইরা গ্যাছিলাম। লোকজন আইয়া আমারে বাঁচাইছে।’

মিতুর ছোট ভাই একই স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র জিসান বলে, ‘ডিঙি (নৌকা) চালাইয়া স্কুলে আই-যাই। রশি টাইন্না ডিঙি চালাই। একছের ডর (ভয়) করে।’

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আবু জাফর বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় দুই শ ছাত্র-ছাত্রী নৌকায় স্কুলে আসা-যাওয়া করে। মাঝি না থাকায় ওদেরকেই নৌকা চালাতে হয়। প্রায়ই শুনি কেউ না কেউ পানিতে পড়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে খালে একটি সেতু নির্মাণ করা আবশ্যক।’ একই ধরনের কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম সগির।

উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘খালটিতে একটি সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাব। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমরা ওখানে সেতু করার জন্য খুব দ্রুত প্রস্তাবনা পাঠাব।’



মন্তব্য