kalerkantho


উজিরপুর

আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে মুক্তিযোদ্ধার দোকানঘর দখল

বরিশাল অফিস   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালের উজিরপুরে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে মুক্তিযোদ্ধার দোকানঘর দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় একটি প্রভাবশালী মহল ওই দোকানঘর দখল করে শিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।

দোকানঘর দখলের সঙ্গে জড়িতরা হলেন শিকারপুর বন্দরের পাশের গ্রামের এনায়েত হোসেন খান, হেমায়েত উদ্দিন মুন্সি, করিম খান, আউয়াল হোসেন, ফেরদৌস সিকদার, সুমন মৃধা ও মিজানুর রহমান হিরন। অভিযুক্তরা সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিকারপুর বন্দরের ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা মৃত মাহাবুবুর রহমান প্রায় অর্ধশত বছর আগে বন্দরের কিছু জমি ইজারা নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি মারা যাওয়ার পর দুই ছেলে মাহফুজুর রহমান ও মশিউর রহমান ব্যবসা দেখভাল করছেন। তখন থেকে ওই দোকানঘর দখল নেওয়ার পাঁয়তারা করে আসছেন অভিযুক্তরা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাহফুজুর রহমান ও তাঁর ভাই মশিউর রহমান কাঠের ঘরটি ভেঙে সংস্কার করতে গেলে তাঁদের প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। এর পরে গত জুন মাসে সংস্কারকাজ করতে গেলে দ্বিতীয়বার বাধা দেন। ওই সময় প্রশাসনের সহায়তায় তাঁরা দোকানঘরের সংস্কারকাজ শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে দখলদাররা ১৪ আগস্ট তৃতীয়বার দোকানঘর সংস্কারকাজে বাধা দেন। ১৫ আগস্ট তাঁরা দোকানঘর দখলের প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের কানে পৌঁছলে তাঁর হস্তক্ষেপে দখলপ্রক্রিয়া বন্ধ হয়। পাশাপাশি মাহফুজ ও তাঁর ভাই ঘর সংস্কারকাজ শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে এনায়েত হোসেন খানের নেতৃত্বে শিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দুটি দোকানঘর দখলে নেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইনবোর্ড দুটিতে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের ছবি রয়েছে। দুটি সাইনবোর্ডের একটিতে শিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়, অপরটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার উল্লেখ রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে এনায়েত খানসহ দখলদাররা আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। ওই জমি পেতে হলে তাদের মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হবে বলেও জানিয়েছে। দাবি করা অর্থ না দেওয়ার কারণে প্রতিনিয়তই তারা আমাদের হয়রানি করে আসছে। গত জানুয়ারি মাসে দোকানঘর সংস্কার করতে গেলে তারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’

অভিযুক্ত এনায়েত হোসেন খান বলেন, ‘আমি কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা ব্যক্তির জমি দখল করিনি।’

উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘এর পেছনে দলীয় লোক থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উজিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য