kalerkantho


রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ

বিভেদের ছাইচাপা আগুন উঠল জ্বলে

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর। জাতীয় চার নেতার অন্যতম এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে বর্তমান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে সভাপতি এবং ডাবলু সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গঠনের পর থেকেই ভেতরে ভেতরে সাধারণ সম্পদককে নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও অনেকে তরুণ সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে আপত্তি তোলে। এর ফলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও থেমে যায়। এরপর লিটন-ডাবলু সরকার একসঙ্গে সব ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিলেও তাঁদের মধ্যে ক্রমেই বিভেদের পারদ বাড়তে থাকে। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনের আগেও ডাবলু সরকার লিটনের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারেন, এমন শঙ্কা দেখা দেয় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও। ফলে কড়া নজরে রাখা হয় ডাবলু সরকারকে। কিন্তু এসবই ছিল ভেতরে ভেতরে। তবে শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার এসব কোন্দলের কিছুটা প্রকাশ হয় খোদ দলের সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত রাজশাহী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক মতবিনিময়সভায়। এরপর দলের বেশির ভাগ নেতার তোপের মুখে পড়েন ডাবলু সরকার।

দলীয় সূত্র মতে, ২০১৪ সালে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পর থেকেই সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার নগর আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন। এতে সফলও হন তাঁরা। কিন্তু জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা লিটনকে নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা মন্তব্য করায় ভেতরে ভেতরে ডাবলু সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয় তাঁর। এ মতবিরোধ ক্রমেই নগর আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতার কানেও পৌঁছে। তবে কেউ বিষয়টি নিয়ে কখনো মুখ খোলেননি।

দলীয় সূত্র মতে জানা যায়, ২০১৪ সালে কমিটি গঠনের পর ডাবলু সরকারের প্রতি আপত্তি তুলে কেন্দ্রে আরো দুটি কমিটি জমা পড়ে। এর মধ্যে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুর রহমান বাদশার নেতৃত্বে একটি এবং সাবেক সভাপতি বজলুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়।

দলীয় সূত্র মতে, গত সিটি নির্বাচনের শুরুতেই ডাবলু সরকারকে নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও সন্দেহে পড়েন। লিটনকে সরানোর জন্য তাঁর বিপক্ষে ভেতরে ভেতরে কাজ করতে পারেন ডাবলু সরকার, এমন তথ্যও দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রকাশ করে। এরপর কড়া নজরে রাখা হয় ডাবলু সরকারকে। তবে সব শঙ্কা দূর করে ডাবলু সরকার নিজেই লিটনের হয়ে জোরালোভাবে মাঠে নামেন। কিন্তু সিটি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই লিটনের সঙ্গে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ডাকে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঢাকায় মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈঠকের শুরুতেই দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রাজশাহীর নির্বাচনী আসন ধরে ধরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পরিচয় জানতে চান। এরপর তাঁরা নিজেদের পরিচয় দেন।

সভার শুরুতেই রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এরপর রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যাপারে আলোচনার শুরুতেই সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার অভিযোগ করেন, সিটি নির্বাচনের পর মেয়রের শপথ অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত করা হয়নি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমি কোনো পাসও পাইনি। তাই আমি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারিনি।

এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা নেতাদের তালিকা করার জন্য ডাবলু সরকারকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনিই সেই তালিকা তৈরি করেছেন। এর পরও তিনি নিজের পাস না নিয়ে এ ধরনের সভায় এমন অভিযোগ করে সংগঠনের জন্য খারাপ সংকেত দিলেন। রাসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জন্য কে কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছেন, তা সবাই জানে বলেও অভিযোগ করেন লিটন।

এদিকে লিটন-ডাবলুর বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর রাজশাহী মহানগরীর অনেক নেতাই এখন লিটনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে ডাবলু সরকারের দ্বন্দ্বে জড়ানোর বিষয়টি মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। এ কারণে ডাবলু সরকারকে এরই মধ্যে সতর্ক করেও দেওয়া হয়েছে দলের শীর্ষপর্যায় থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের অনেক নেতাকর্মীই বিষয়টি নিয়ে ডাবলু সরকারকেই দুষছে।

 

 

 



মন্তব্য