kalerkantho


মাদকাসক্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ

জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান রুস্তমের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন ইউপি সদস্যরা। ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচার, দুর্নীতি ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাবে ১১ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ৯ জনের স্বাক্ষর রয়েছে।

ইউপি সদস্যদের দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাবটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে গতকাল শনিবার কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘বিষয়টি বর্তমানে তদন্ত পর্যায়ে আছে। তদন্ত শেষ হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনাস্থা প্রস্তাবে ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানকে মাদকাসক্ত ব্যক্তি উল্লেখ করে আরো অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি চরনোয়াকান্দি ঈদগাহ থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ না করে প্রকল্পের দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নদীর বাঁধ বাজারের কসাইদের কাছ থেকে বিনা রসিদে সোয়া দুই লাখ টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্সের ছয় লাখ টাকাও আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (সংরক্ষিত) ছাবিনা আক্তার বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা যে লোক মাদকাসক্ত থাকে তাঁর সঙ্গে কিভাবে কাজ করব! তা ছাড়া অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এমন চেয়ারম্যান আমরা আর দেখিনি। তাঁর আচার-ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। তাই আমরা অনাস্থা দিতে বাধ্য হয়েছি।’

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ রহমত আলী বলেন, ‘ইউনিয়নের উন্নয়ন ও ইউনিয়নবাসীর স্বার্থে অনাস্থার মতো একটি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে আমাদের। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ খোলা ছিল না।’

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান রুস্তম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল শনিবার বলেন, ‘ইউপি সদস্যদের অনিয়ম-দুর্নীতির বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় অনাস্থা দিয়ে আমাকে আটকাতে চাইছে। সব মিথ্যা অভিযোগ। এর পেছনে স্থানীয় এমপির ইন্ধন রয়েছে। তদন্তে সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে।’



মন্তব্য