kalerkantho


নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত

২৪ ঘণ্টায় বিলীন ৩০ বাড়ি হুমকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



২৪ ঘণ্টায় বিলীন ৩০ বাড়ি হুমকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাঁশতলা গ্রামে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর গ্রামে একটি মন্দির ও ৩০টি বসতবাড়ির জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে মানুষ। আড়াই মাস ধরে নড়িয়া উপজেলার তীরবর্তী ১০টি গ্রামে পদ্মা নদীর ভাঙন অব্যাহত আছে। ভাঙন হুমকিতে পড়েছে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মোক্তারের চর, কেদারপুরসহ ১৭টি গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা বেশি। আড়াই মাসের ভাঙনে গ্রামগুলোর প্রায় চার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। পদ্মার ভাঙনে মুলফত্গঞ্জ বাজার ও তার আশপাশের দেড় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নড়িয়া সাধুর বাজার সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক, তিনটি সেতুসহ অসংখ্য পাকাঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মা নদী এখন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুনীর আহম্মদ খান বলেন, পদ্মা নদী হাসপাতালের প্রধান গেটে চলে এসেছে। ভাঙন আতঙ্কে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি ভবন নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। হাসপাতালের কোয়ার্টারের একটি কক্ষে জরুরি সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তবিভাগও চালু রাখা হয়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনরোধে তাৎক্ষণিক এক লাখ ১০ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এখনো বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা অব্যাহত রয়েছে। প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হবে।



মন্তব্য