kalerkantho


১৮৬ কিমি সাঁতার

ক্ষিতীন্দ্রর স্বপ্নপূরণ, গিনেস বুকে নাম ওঠা নিয়ে সংশয়

হাফিজুর রহমান চয়ন, হাওরাঞ্চল   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



একটানা ১৮৬ কিলোমিটার সাঁতার কাটার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যর। নদীপথে বিরামহীন ৬১ ঘণ্টা সাঁতার কেটে ৬৭ বছর বয়সী দূরপাল্লার এই সাঁতারু নতুন বিশ্বরেকর্ড করেছেন। কিন্তু তাঁর নাম গিনেস বুকে ঠাঁই পাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে তাঁর পরিবার।

ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যর ছেলে দেবব্রত বৈশ্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি জন্মের পর থেকেই আমার বাবাকে দেখে আসছি। তিনি একজন সাহসী এবং ধৈর্যশীল মানুষ। তিনি একবার যা বলেন তা তিনি শেষ না করা পর্যন্ত তাঁর নাওয়া-খাওয়া হারাম হয়ে যায়। আর সাঁতরে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়বেন, এটাই ছিল তাঁর শেষ স্বপ্ন। আমার বাবা এই বৃদ্ধ বয়সে তাঁর শেষ স্বপ্নটা পূরণ করে বিশ্বরেকর্ড গড়ায় আজ তাঁর সন্তান হিসেবে গর্ব বোধ করছি।’ দেবব্রত বলেন, ‘গত বুধবার রাত ৮টার দিকে তাঁর বাবা তীরে এসে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মদন পৌর শহরের হজরত সুমাইয়া আলাহে নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। সেখানেই তিনি এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তিনি এখন সুস্থই আছেন। আর শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই বাবাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যেতে পারব বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।’

দেবব্রত বলেন, ‘বাবার এ সফলতার বিষয়টি গিনেস বুকে ঠাঁই পাওয়া নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আর এ জন্য আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সব মিডিয়ার কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।’

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য বিশ্বরেকর্ড গড়ার স্বপ্নে গত সোমবার সকাল ৭টায় শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর সেতুর কাছ থেকে সাঁতার শুরু করেন। বুধবার রাত ৮টার দিকে মদন উপজেলার দেওয়ান বাজার ঘাটে এসে পৌঁছেন তিনি। আর সেখানে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ১৮৬ কিলোমিটার বিরামহীন একক দূরপাল্লার সাঁতার শেষ হয়। এ সময় নদীর দুই পারে হাজার হাজার উত্সুক মানুষ করতালি দিয়ে ক্ষিতীন্দ্রকে স্বাগত জানায়।

নেত্রকোনার মদন উপজেলা নাগরিক কমিটি ও শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরসভা যৌথভাবে এ সাঁতারের আয়োজন করে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।

সাঁতারু ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যর বাড়ি মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর বৈশ্যপাড়া গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বিমানের এএনএস কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত।

মদন উপজেলার নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক সাবেক পৌর মেয়র দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন শফিক জানান, গুগল ম্যাপ ডেটায় দূরত্ব নির্ণয় করা হয়েছে। ক্ষিতীন্দ্র বৈশ্যর বয়স ও দৈর্ঘ্যের বিবেচনা করলে এই সাঁতার বিশ্বরেকর্ড হিসেবে গণ্য হবে। ক্ষিতীন্দ্র বৈশ্যর নাম গিনেস বুকে তোলার জোর দাবি জানান তিনি।

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল হাসান জানান, বর্তমানে ক্ষিতীন্দ্র বৈশ্য সুস্থ আছেন এবং তাঁকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাঁতারু ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য ১৯৭০ সালে সিলেটের ধূপাদীঘি পুকুরে অরুণ কুমার নন্দীর বিরামহীন ৩০ ঘণ্টার সাঁতার প্রদর্শনী দেখে উদ্বুদ্ধ হন। ওই বছর মদনের জাহাঙ্গীরপুর উন্নয়ন কেন্দ্রের পুকুরে ১৫ ঘণ্টার বিরামহীন সাঁতার প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে আলোচিত হন তিনি। সেই থেকে শুরু। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি নানা জায়গায় বিরামহীন দূরপাল্লার সাঁতারে আলোচিত হন। গত বছর জানুয়ারির  প্রথম সপ্তাহে তিনি ময়মনসিংহে কংস নদের সরচাপুর সেতু থেকে মদন উপজেলার মগড়া সেতু পর্যন্ত একটানা ১৪৬ কিলোমিটার সাঁতার কাটেন। সময় নেন ৪৪ ঘণ্টা।



মন্তব্য