kalerkantho


গাজীপুরে রুট পারমিট ছাড়াই চলছে ৫০০ বাস

হরহামেশা কাড়ছে যাত্রী ও পথচারীদের প্রাণ

শরীফ আহমেদ শামীম, গাজীপুর   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুরে রুট পারমিট (অনুমোদন) ও ফিটনেস (চলার উপযোগী, মেয়াদ) সনদ ছাড়াই চলছে পাঁচটি কম্পানির ৫০০টির বেশি বাস। রুট পারমিট ও ফিটনেসবিহীন বাস চলাচলে দেশজুড়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও গাজীপুরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব। বাসগুলো হরহামেশাই কেড়ে নিচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের প্রাণ।

গাজীপুর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর থেকে কোনো বাসের রুট পারমিট নেই। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পলাশ, কালিয়াকৈর পরিবহন (কেপি), রাজদূত-পথের সাথী, চ্যাম্পিয়ন ও ভিআইপি নামের পাঁচটি কম্পানির পাঁচ শতাধিক বাস চলছে। এসব বাসের বেশির ভাগের নেই ফিটনেস সনদ। পলাশ পরিবহন শিমুলতলী-চন্দ্রা-নবীনগর, কেপি পরিবহন জয়দেবপুর-কালিয়াকৈর, রাজদূত-পথের সাথী পরিবহন গাজীপুর-কাপাসিয়া, চ্যাম্পিয়ন গাজীপুর চৌরাস্তা-মাওনা-ভালুকা এবং ভিআইপি পরিবহন গাজীপুর-ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে চলাচল করে। প্রশ্ন উঠেছে, রুট পারমিট ছাড়া এসব গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও প্রশাসনের চোখের সামনে কিভাবে চলছে?

গাজীপুর জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কেপি পরিবহনের পরিচালক আকবর আলী স্বীকার করেন, তাঁর কেপিসহ পাঁচ বাস কম্পানির কোনোটির রুট পারমিট নেই। আগে কেপির ৫০-৬০টি বাস চলত। ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে কাগজপত্র ও লাইসেন্স ঘাটতির কারণে ২৫-৩০টি চলছে। পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁরা বাস চালান। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ মামলা দেয়, আটকও করে। তিনি জানান, পলাশের শতাধিক ও চ্যাম্পিয়নের ৫০-৫৫টি বাস রয়েছে।

রাজদূতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারফুদ্দিন সবুজ বলেন, আগে রাজদূত ও পথের সাথী পৃথক দুটি সার্ভিস ছিল। বর্তমানে রাজদূতের সঙ্গে পথের সাথী পরিবহন এক হয়ে কাপাসিয়া-গাজীপুর রুটে চলছে। তাদের বাস রয়েছে ৫০-৫৫টি। প্রথমে রুট পারমিট আছে দাবি করলেও রুট নম্বর, গাড়ির সিলিং (সংখ্যা) ও স্টপেজ জানতে চাইলে রুট পারমিট নেই স্বীকার করেন সবুজ। তিনি বলেন, এসব বাসের মধ্যে চার-পাঁচটির ফিটনেস মেয়াদ আছে। বাকিগুলোর মেয়াদ চার-পাঁচ বছর বা ১০ বছর আগে উত্তীর্ণ হয়েছে। হয়রানি, ঘুষ দাবিসহ নানা ঝামেলার কারণে বাস মালিকরা বিআরটিতে যেতে চায় না। গাড়ির ব্যবসায়ীদের কাকে কী দিয়ে ম্যানেজ করতে হয়—তা সবাই জানে। তারাও সেভাবে সবাইকে ম্যানেজ করে গাড়ি চালায়।

কয়েকজন পরিবহন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিআইপি পরিবহন রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত চলার রুট পারমিট নিয়ে অবৈধভাবে চলছে গাজীপুর শহর পর্যন্ত। বাসের গায়ে ও টিকিটে রুট নম্বর এ/২০৭ লিখে সাত বছর ধরে দাপটের সঙ্গে চলছে ভিআইপি পরিবহন।

বিআরটিএর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটির অনুমোদিত বাস রুটের তালিকায় ‘ভিআইপি পরিবহন’ নামে কোনো সার্ভিস নেই। এ/২০৭ নম্বর রুটটি টঙ্গী (চেরাগ আলী) থেকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী পর্যন্ত চলাচলকারী দুলদুল সার্ভিস/বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অনুমোদন দেওয়া। দুলদুল পরিবহনের বাসের সিলিং ৩০ (বাস ছয়টি, মিনিবাস ২৪টি)। অথচ দুলদুলের রুট নম্বর ব্যবহার করে টঙ্গীর পরিবর্তে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে চলছে দুই ভিআইপির শতাধিক বাস। রুট পারমিটের শর্ত অনুযায়ী নিজস্ব টার্মিনালে বাস পার্কিংয়ের কথা থাকলেও করা হচ্ছে সড়কেই। এতে সৃৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এসব বাসের মধ্যে লোকাল গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকার আজিমপুর ও সিটিং সার্ভিস গাজীপুর শহরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুরে চলাচল করে।

গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক হোসেন মন্টু জানান, গাজীপুরের কোনো বাস সার্ভিসের রুট পারমিট নেই। তিনি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। রুট পারমিট ছাড়া এসব বাস কিভাবে চলে—তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালেহ উদ্দিন জানান, এসব বাসের রুট পারমিট না থাকার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। শিগগিরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।



মন্তব্য