kalerkantho


১৪ বছর ধরে শূন্য ১৪ পদ

মোরেলগঞ্জে মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্রতিষ্ঠানটির ২১টি পদের মধ্যে ১৪টি পদ ১৪ বছর ধরে শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০০০ সালে মোরেলগঞ্জের তুলাতলায় খুলনা বিভাগের একমাত্র মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে কৃষি, পশু পালন, পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষবিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১০ সালের জুলাই মাসে সাতক্ষীরার ২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মৌ চাষবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিছুদিন পর এটিও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ সাল থেকে কম্পিউটার, বিউটিফিকেশন ও ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং প্রশিক্ষণ শুরু হয়, যা কোনোমতে চলছে। এই তিন কোর্স সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নেই। কম্পিউটার, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তো রয়েছেই। বিদ্যুতের সমস্যায় সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ নিতে পারছে না প্রশিক্ষণার্থীরা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষাণার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে কম্পিউটার শিখতে এসেছি। এখানে বেশ কিছু সমস্যা আছে। ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য আছে মাত্র ছয়টি কম্পিউটার। এর মধ্যে দু-একটি কম্পিউটার প্রায়ই নষ্ট থাকে। এ কারণে আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’

মোরশেদা আক্তার বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণের সময় মাত্র তিন মাস। একটি কম্পিউটারে চারজন বসি। কম্পিউটারে কাজের সময় প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। সকালে গেলে বিকেলে বিদ্যুৎ আসে। আমাদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ বা জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হলে ভালোভাবে কম্পিউটার শিখতে পারতাম।’

জোছনা আক্তার, আসমা আক্তার, আফরোজা আক্তারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে খুবই নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। স্থায়ী কোনো বাবুর্চি নেই। এ ছাড়া খাবার পানির জন্য একটি পুকুর আছে, যা শীত মৌসুমে শুকিয়ে যায়। তাই খাবার পানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থার দাবি করে শিক্ষার্থীরা।

কম্পিউটার প্রশিক্ষক মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ দিতে চেষ্টা করি। তবে আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। প্রশিক্ষক পদে পাঁচজন, হোস্টেল সুপার একজন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা একজন, বাবুর্চি একজন, অফিস সহাকারী তিনজন, নৈশ প্রহরী দুজন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী একজনের পদ শূন্য রয়েছে। এতে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়।’

সহকারী পরিচালক প্রশিক্ষণ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মোখলেচুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রশিক্ষণার্থীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না। প্রতিষ্ঠান শুরুর সময় যে উপকরণ ছিল, এখনো সেই উপকরণে চলছে।’

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করেছি।’



মন্তব্য