kalerkantho


সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল

গত বোরো মৌসুমে মুক্তিযোদ্ধার রোপণ করা ধান অভিযুক্ত প্রভাবশালী কেটে নিয়ে যান

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মো. ইদ্রিস আলী নামের এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বন্দোবস্ত পাওয়া সরকারি জমি দখলের প্রতিবাদ করায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর দুই ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা দোয়ারাবাজার থানায় গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।

জানা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চকবাজারে ফতেপুর গ্রামের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইদ্রিস আলী। তিনি ১৯৯৬ সালে ভূমিহীন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বেতুরা মৌজার সরকারি খাস খতিয়ানের এক একর ৩৭ শতক ধানি জমি বন্দোবস্তের আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২৪০/৯৬ নম্বর কবুলিয়াত দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে দুটি দাগে ওই পরিমাণ জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে ওই জমি ইদ্রিস আলীকে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু জমিটিতে তিনি ধান চাষ করতে গেলে প্রভাবশালী প্রতিবেশী জাকির হোসেন ৪৮ শতক জমিতে মালিকানা দাবি করে চাষাবাদে বাধা দিতে থাকেন। তখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ইদ্রিস আলী বিষয়টি সামাল দিতে পারলেও গত বোরো মৌসুমে তাঁর (ইদ্রিস) রোপণ করা ধান জাকির হোসেন জোর করে কেটে নিয়ে যান। এ ঘটনার বিচার চেয়ে স্থানীয় প্রভাবশীদের কাছে গেলেও প্রতিকার পাননি ইদ্রিস আলী। উল্টো জমির মালিকানা দাবি ছেড়ে দিতে জাকিরের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হয় তাঁকে। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার  (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চকবাজারে ইদ্রিস আলীর ছেলে আক্তার হোসেন ও ফরহাদ হোসেনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ খবর পেয়ে তিনি (ইদ্রিস) বাজারে গেলে তাঁকেও পাঁচ-সাতজন মিলে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। ইদ্রিস আলী ও আক্তার হোসেন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। ফরহাদ হোসেনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ইদ্রিস আলী দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে লিখিত অভিযোগসহ দোয়ারাবাজার থানায় যান। এ সময় থানার ওসি থানায় ছিলেন না। ইদ্রিস আলীর অভিযোগ, তিনি ডিউটি অফিসার এএসআই সুমন অধিকারীর হাতে এজাহারের কপি দিলে সুমন তাঁর কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন।

মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বন্দোবস্ত পাবার পর থেকেই এই জমির প্রতি লোভ পড়েছে জাকিরের। বিভিন্ন সময়ে দখলের চেষ্টাও করেছে। গত বৃহস্পতিবার আমার দুই ছেলে ও আমাকে মারধর করেছে। আমি থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে রেকর্ডের জন্য টাকা চেয়েছে পুলিশ।’

অভিযুক্ত জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার রেকর্ডীয় জায়গায় মালিকানা দাবি করে আসছেন মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী। আমি তাঁর বন্দোবস্ত পাওয়া জমি দখল করিনি।’ মারধরের বিষয়টিও অস্বীকার করেন জাকির।

দোয়ারাবাজার থানার এএসআই সুমন অধিকারী বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলীর কাছে কোনো টাকা-পয়সা দাবি করিনি। অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।’

দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলীর করা অভিযোগটি তদন্তাধীন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য