kalerkantho


এক মাসের মাথায় ফিরলেন কারাগারের ম্যাট নানু

সুনামগঞ্জে দুর্নীতির অভিযোগে স্থানান্তর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সুনামগঞ্জ কারাগারের ম্যাট মিজানুর রহমান নানু ওরফে নানু দেওয়ানকে সিলেট কারাগারে স্থানান্তরের এক মাসের মাথায় গোপনে সুনামগঞ্জ কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত ঈদুল আজহার পরপরই তাঁকে সুনামগঞ্জ কারাগারে নিয়ে আসা হয়।

ম্যাট নানু দেওয়ানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটি অভিযোগগুলোর তদন্ত করছে। কারাগারে নানু দেওয়ানের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ আদালত চত্বরে গত ২৫ জুলাই নাগরিক সমাজের পক্ষে মানববন্ধন করা হয়েছিল। সুনামগঞ্জ কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ কারাগারে নানু দেওয়ানের ফিরে আসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, নানুকে ম্যাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে সাধারণ সেলে কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের থেকে কারাগারের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাট নিয়োগ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কয়েদিদের সুখ-দুঃখ দেখভাল করার কথা তাঁদের। নানু দেওয়ান সুনামগঞ্জ কারাগারের প্রধান ম্যাট হিসেবে পরিচিত। তিনি একটি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কারাবিধি অনুযায়ী ১০ বছরের বেশি সাজা হলে নিজ এলাকার কারাগারে থাকার নিয়ম নেই। তাঁকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করতে হয়। কিন্তু নানু কারা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তেই আছেন।

জানা গেছে, কারাগারে সিট বাণিজ্য, মাদক সরবরাহ, আসামি বা কয়েদিদের নির্যাতন করে স্বজনদের কাছ থেকে নানা ছুতায় টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ আছে মিজানুর রহমান ওরফে নানু দেওয়ান ও কারাগারের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে নানু অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। কারা কর্তৃপক্ষও কারাগারে এসব ঘটছে না বলে দাবি করে। তবে কারাগারফেরত কয়েদিদের অনেকেই কারাগারে এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করে।

সদ্য কারাগারফেরত শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘আমি বিভিন্ন পত্রিকায় নানুর দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সে বিভিন্ন লোক মারফত আমাকে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠালে এক লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমি বিষয়টি জেল সুপার ও জেলারকে বলেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘কারাগারে রাজার হালে থাকে নানু। কয়েদিদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার কথা থাকলেও সে তাদের জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে।’

অভিযোগ রয়েছে, সিলেট কারাগারে স্থানান্তরের পরই নানু দেওয়ান তদবির শুরু করেন ফিরে আসার। কারাগারের একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সহায়তায় অবশেষে ঈদুল আজহার আগে তিনি সুনামগঞ্জ কারাগারে ফিরে এসেছেন।

সুনামগঞ্জের জেল সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নানু দেওয়ান ফিরে এসেছেন সাধারণ কয়েদি হিসেবে। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে এখানে মামলা রয়েছে। মামলার হাজিরার সুবিধার্থে কারাবিধি অনুযায়ীই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে এখানে দিয়েছে। বিচারাধীন মামলাটি শেষ পর্যায়ে। তাঁকে কেন স্থানান্তর করা হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারব না।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী কোনো আসামির বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তাঁকে ওই এলাকার কারাগারেই রাখতে হয়। নানু দেওয়ানও সেই সুবিধা নিয়েছেন।

নানু দেওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটির সদস্যরা একাধিকবার বসেছি। নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আরো দু-একবার বসলেই আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে ও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’ তবে নানু দেওয়ান কারাগারে ফিরে এসেছেন কি না, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ম্যাটরা কয়েদিদের জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। কারাগারে একটু ভালো বিছানা, গোসল করাসহ শান্তিতে থাকার জন্য স্বজনরা ম্যাট ও কারা কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দিয়ে থাকে।



মন্তব্য