kalerkantho


নাট-বল্টু খুলে দুর্ঘটনার শঙ্কা

মির্জাপুরের ধেরুয়া লেভেলক্রসিং

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নাট-বল্টু খুলে দুর্ঘটনার শঙ্কা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া লেভেলক্রসিংয়ের কাছে দেবে গেছে রেললাইন। (ইনসেটে) লেভেলক্রসিংয়ের নাট-বল্টু খুলে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া লেভেলক্রসিংয়ে চেক রেলের সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই পাশের ১৪টি নাট-বল্টু খুলে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। এ ছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনও লেভেলক্রসিংয়ের ওই জায়গাটুকু ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ধেরুয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রেললাইনটিতে কমন গেজ, মিটার গেজ ও ব্রড গেজ নামে তিনটি লাইন রয়েছে। রেলপথটির ওপর (ক্রসিং) দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ধেরুয়া এলাকায় (গেট নম্বর ই-২৪-২) রেললাইনের স্লিপারের সঙ্গে ৪২ ফুট করে চেক রেল যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি চেক রেল ২৭টি করে নাট দিয়ে আটকানো। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও ঈদের আগে-পরে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলায় চাকার ঘর্ষণে লাইনের নিচে ও উভয় পাশ থেকে ইট-পাথর সরে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের সময় ক্রসিং এলাকায় লাইনে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। ফলে চেক রেলের নাট ভেঙে ও প্যাঁচ কেটে আস্তে আস্তে ঢিলে হয়ে খুলে গেছে। এর মধ্যে মাঝখানের স্লিপারের ১১টি ও দুই পাশের তিনটিসহ ১৪টি নাট-বল্টু খুলে গেছে।

জানা গেছে, মির্জাপুর রেলস্টেশনের পূর্বপার থেকে গোড়াই নয়াপাড়া পর্যন্ত আট কিলোমিটার রেলপথ দেখাশোনার জন্য মতিউর রহমান নামে একজন লাইন মিস্ত্রি রয়েছেন। তাঁর নিয়ন্ত্রণে পাঁচজন অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর পরও লাইনের ধেরুয়া লেভেলক্রসিংয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন ও যানবাহন চলাচল করছে। এ ছাড়া চেক রেলের আনুমানিক ১৫ ফুট দূরে রেললাইনের নিচ থেকে মাটি দেবে যাওয়ায় ট্রেন যাওয়ার সময় লাইনের কমন গেজটি দোলে। ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু রেললাইনে প্রতিদিন ১৪-১৫টি ট্রেন ২৮-৩০ বার চলাচল করে থাকে বলে ধেরুয়া লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান সুরুজ মিয়া, আনন্দ মোহন পাল, মামুন হাসান, সিদ্দিক ও আলিফ জানিয়েছেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাকের চালক ছোরহাব মিয়া জানান, ঢাকার দিকের যানবাহন ফ্লাইওভার দিয়ে গেলেও টাঙ্গাইলের দিকের যানবাহনের মহাসড়কের ধেরুয়া এলাকায় রেললাইন পার হতে হয়। এতে ঝুঁকিতে পড়তে হয়। প্রাইভেট কারের চালক মিঠু সরকার ও শামীম, অ্যাম্বুল্যান্সচালক নবী মিয়া জানান, ধেরুয়া এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের গাড়ি পার হতে হয়।

ধেরুয়া লেভেলক্রসিংয়ে কর্তব্যরত গেইটম্যানরা জানান, মিটার গেজ ও কমন গেজ দিয়ে লালমনিরহাট ও রংপুর এক্সপ্রেস এবং দুই-তিনটি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। ব্রড গেজ ও কমন গেজ দিয়ে প্রতিদিন ১০টি ট্রেন ২০ বার চলাচল করে থাকে। রেললাইনের ওই স্থানে (চেক রেলের ১৫ ফুট দূরে) প্রতিটি ট্রেন যাওয়ার সময় লাইন হেলছে-দুলছে। যেকোনো সময় চাকা লাইনচ্যুত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গত শুক্র ও শনিবার ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেল, কয়েকটি প্রাইভেট কারসহ ছোট ছোট যানবাহন ধেরুয়া লেভেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। নাট খুলে যাওয়ার বিষয়টি রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিস্ত্রি মতিউর রহমানকে জানানো হয়েছে। ধেরুয়া লেভেলক্রসিংয়ের পাশেই তিনি পরিবারসহ বাস করেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে তিনি নিজে না গিয়ে দুজন লোক পাঠান। তাঁরা নাট শক্ত করে লাগানোর পরিবর্তে দুই-তিনটি নাটের মাথা বাঁকা করে রেখে গেছেন। মতিউর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি দেখেছেন। গাজীপুর থাকার কারণে তিনি কাজটি সময়মতো করতে পারেননি। তা ছাড়া রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

রেললাইনের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী (SSAE/WAY/জয়দেবপুর) সুকুমার বিশ্বাস জানান, রেললাইনটির ধেরুয়া নামক স্থানে পুরনো পদ্ধতিতে কাজ করা হয়েছে। এসব মালপত্র ভারতের তৈরি। বর্তমানে ওই ধরনের মালপত্র না থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। মালপত্র পেলেই মেরামতকাজ করা হবে। রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য